আল-হাদিদ · 13/29
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-হাদিদ
يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِن قِبَلِهِ الْعَذَابُ ۝١٣
Yawma yaqoolul munaa fiqoona walmunaafiqaatu lillazeena aamanun zuroonaa naqtabis min noorikum qeelarji`oo waraaa`akum faltamisoo nooran faduriba bainahum bisooril lahoo baab, baatinuhoo feehir rahmatu wa zaahiruhoo min qibalihi-`azaab
📖 বাংলা অর্থ
যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • انظُرُونَا – আমাদের জন্য অপেক্ষা করো / আমাদের দিকে তাকাও।
  • نَقْتَبِسْ – আমরা আলো গ্রহণ করি / তোমাদের আলো থেকে কিছু নিই।
  • سُورٍ – প্রাচীর / দেওয়াল (যা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে থাকবে)।
  • بَاطِنُهُ – এর ভেতরের দিক (যেটি মুমিনদের দিকে)।
  • ظَاهِرُهُ – এর বাইরের দিক (যেটি মুনাফিকদের দিকে)।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

কিয়ামতের দিন যখন মুমিনদের নূর (আলো) তাদের সামনে ও ডান দিকে ছুটে চলবে, তখন মুনাফিক নর-নারীগণ মুমিনদের কাছে এসে বলবে: “আমাদের জন্য একটু অপেক্ষা করো, আমরা তোমাদের এই আলো থেকে কিছুটা গ্রহণ করি, যাতে আমরাও এই অন্ধকার পথে চলতে পারি।” কিন্তু তখন মুমিনরা বা ফেরেশতারা তাদের বলবে: “তোমরা পেছনে ফিরে যাও এবং সেখানেই নিজেদের জন্য আলো খোঁজো।” অর্থাৎ, এই আলো তোমাদের জন্য নয়; এটি কেবল মুমিনদের জন্য। এটি তাদের প্রতি বিদ্রূপ ও তিরস্কারস্বরূপ বলা হবে। কারণ দুনিয়ায় তারা ঈমানের আলো গ্রহণ করতে চায়নি, এখন সেটা পাওয়ার আশা করা সম্পূর্ণ অসম্ভব।

এরপর মুমিন ও মুনাফিকদের মধ্যে একটি প্রাচীর স্থাপন করা হবে, যার একটি দরজা থাকবে। সেই প্রাচীরের ভেতরের দিক (যেটি মুমিনদের দিকে) সেখানে রয়েছে রহমত, অর্থাৎ জান্নাত। আর বাইরের দিক (যেটি মুনাফিকদের দিকে) সেখানে রয়েছে আযাব, অর্থাৎ জাহান্নাম। এই প্রাচীরটি হবে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানের একটি প্রতিবন্ধক, যা মুমিনদের জান্নাতে প্রবেশের পর তাদের এবং মুনাফিকদের মধ্যে স্থাপন করা হবে। মুনাফিকরা তখন জান্নাতের দিকে তাকিয়ে দেখবে এবং মুমিনদেরকে ডেকে বলবে: “আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না?” কিন্তু মুমিনরা বলবে: “হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেদেরকে বিপদে ফেলেছ, অপেক্ষা করেছ (ঈমান আনার জন্য), সন্দেহ পোষণ করেছ এবং মিথ্যা আশা তোমাদেরকে ধোঁকায় রেখেছে, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ এসে গেল (মৃত্যু)। আর শয়তান আল্লাহর সম্পর্কে তোমাদেরকে প্রতারিত করেছে।” (সূরা আল-হাদিদ, আয়াত ১৪)

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ঈমানের আলো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, যা কেবল মুমিনদের জন্যই নির্ধারিত। দুনিয়ায় যারা ঈমানের পথে চলেছে, আল্লাহ তাদেরকে কিয়ামতের অন্ধকারে এই আলো দান করবেন।
  2. মুনাফিকি ও দ্বিমুখী আচরণের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। দুনিয়ায় তারা মুমিনদের সাথে ছিল, কিন্তু অন্তরে ছিল কুফরি ও সন্দেহ। তাই আখিরাতে তাদের অবস্থান হবে জাহান্নামের দিকে।
  3. দুনিয়ার জীবনই হলো ঈমান ও আমল করার একমাত্র সুযোগ। মৃত্যুর পর আর কোনো সুযোগ নেই। তাই আমাদের উচিত এখনই আল্লাহর পথে চলা এবং মুনাফিকির যেকোনো লক্ষণ থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখা।
  4. আল্লাহর রহমত ও আযাবের মাঝখানে একটি স্পষ্ট ব্যবধান থাকবে। মুমিনদের জন্য রহমত এবং মুনাফিক ও কাফিরদের জন্য আযাব। এটি আমাদের সতর্ক করে যে, অন্তরের বিশ্বাস ও বাহ্যিক আমল উভয়ই বিশুদ্ধ হতে হবে।
  5. এই আয়াত আমাদেরকে আখিরাতের ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আল্লাহর কাছে искренне তাওবা ও ঈমানের উপর অটল থাকার প্রেরণা জোগায়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্যিকারের মুমিন বানিয়ে জান্নাতের রহমতের অধিকারী করুন। আমিন।


📜 আয়াত 11-15 — আল-হাদিদ

11مَّن ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ وَلَهُ أَجْرٌ كَرِيمٌ
কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ধার দিবে, এরপর তিনি তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্যে রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার।
12يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَىٰ نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِم بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।
13يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِن قِبَلِهِ الْعَذَابُ
যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব।
14يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ ۖ قَالُوا بَلَىٰ وَلَٰكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّىٰ جَاءَ أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ
তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হঁ্যা কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।
15فَالْيَوْمَ لَا يُؤْخَذُ مِنكُمْ فِدْيَةٌ وَلَا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ مَأْوَاكُمُ النَّارُ ۖ هِيَ مَوْلَاكُمْ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল।
আল-হাদিদকুরআন সূচী
29আয়াত
মাদানীRevelation
13আয়াত

অনুবাদ — আল-হাদিদ 13

সূরা আল-হাদিদ আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ…

সূরা আয়াত 13/29 — আল-হাদিদ الحديد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-হাদিদ শুনুন, আল-হাদিদ অনুবাদ, আল-হাদিদ mp3, আল-হাদিদ pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না