Yunaadoonahum alam nakum ma`akum qaaloo balaa wa laakinnakum fatantum anfusakum wa tarabbastum wartabtum wa gharratkumul amaaniyyu hatta jaaa`a amrul laahi wa gharrakum billaahil gharoor
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হঁ্যা কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(क्यों भाई) क्या हम कभी तुम्हारे साथ न थे तो मोमिनीन कहेंगे थे तो ज़रूर मगर तुम ने तो ख़ुद अपने आपको बला में डाला और (हमारे हक़ में गर्दिशों के) मुन्तज़िर हैं और (दीन में) शक़ किया किए और तुम्हें (तुम्हारी) तमन्नाओं ने धोखे में रखा यहाँ तक कि ख़ुदा का हुक्म आ पहुँचा और एक बड़े दग़ाबाज़ (शैतान) ने ख़ुदा के बारे में तुमको फ़रेब दिया
তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হঁ্যা কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।
تَرَبَّصْتُمْ – তোমরা (মুমিনদের বিপদ ও রাসূলের মৃত্যুর) প্রতীক্ষায় ছিলে।
ارْتَبْتُمْ – তোমরা (আল্লাহর ওয়াদা ও পুনরুত্থানে) সন্দেহ পোষণ করেছ।
الْأَمَانِيُّ – মিথ্যা আশা-আকাঙ্ক্ষা (দীর্ঘায়ু ও ক্ষমার ভিত্তিহীন প্রত্যাশা)।
الْغَرُورُ – শয়তান (যে মানুষকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোঁকা দেয়)।
তাফসীর:
কিয়ামতের দিন যখন মুমিন ও মুনাফিকদের মধ্যে আলাদা করে দেওয়া হবে, তখন মুনাফিকরা মুমিনদেরকে ডেকে বলবে, “আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? আমরা কি তোমাদের মতো নামায পড়তাম, রোযা রাখতাম, যাকাত দিতাম না?” উত্তরে মুমিনরা বলবে, “হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তোমরা বাহ্যিকভাবে আমাদের সাথে ছিলে। কিন্তু তোমরা নিজেদেরকে মুনাফিকির মাধ্যমে ধ্বংস করেছ। তোমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যু ও মুমিনদের পরাজয়ের প্রতীক্ষায় ছিলে। তোমরা আল্লাহর ওয়াদা, পুনরুত্থান ও আখিরাতের প্রতি সন্দেহ পোষণ করেছ। মিথ্যা আশা-আকাঙ্ক্ষা তোমাদেরকে ধোঁকায় রেখেছিল—তোমরা ভেবেছিলে, ‘আমরা তো মুসলিম, আমাদেরকে ক্ষমা করা হবে।’ এই ভ্রান্ত ধারণা তোমাদেরকে মৃত্যু পর্যন্ত আঁকড়ে রেখেছিল। সবশেষে শয়তান তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে এমনভাবে ধোঁকা দিয়েছিল যে, তোমরা মনে করেছিলে আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু, তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দেবেন না। এই প্রতারণার কারণেই তোমরা ঈমানের প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছ এবং আজ এই ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হয়েছ।”
শিক্ষা ও উপদেশ:
বাহ্যিক আমলই যথেষ্ট নয়; অন্তরের ঈমান ও আন্তরিকতা অপরিহার্য। মুনাফিকির মূল কারণ হলো অন্তরে বিশ্বাস না থাকা।
মিথ্যা আশা ও দীর্ঘায়ুর প্রত্যাশা মানুষকে গাফেল করে দেয়। আল্লাহর পথে চলতে হলে মৃত্যুকে স্মরণ রাখতে হবে।
শয়তানের সবচেয়ে বড় চক্রান্ত হলো মানুষকে আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে ধোঁকা দেওয়া—যেন মানুষ গুনাহ করতে থাকে এবং তওবা না করে।
মুমিনদের কর্তব্য হলো মুনাফিকির লক্ষণগুলো থেকে দূরে থাকা এবং সর্বদা আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার সাময়িক সম্পর্ক বা বাহ্যিক সঙ্গ-সাথি আখিরাতে কোনো কাজে আসবে না; সেদিন প্রত্যেককে নিজের আমল অনুযায়ী ফল ভোগ করতে হবে।
যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।
যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব।
তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হঁ্যা কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।
অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল।
যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।