Wallazeena tabawwa`ud daara wal eemaana min qablihim yuhibboona man haajara ilaihim wa laa yajidoona fee sudoorihim haajatam mimmaa ootoo wa yu`siroona `alaa anfusihim wa law kaana bihim khasaasah; wa many yooqa shuhha nafsihee fa ulaaa`ika humul muflihoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जो लोग मोहाजेरीन से पहले (हिजरत के) घर (मदीना) में मुक़ीम हैं और ईमान में (मुसतक़िल) रहे और जो लोग हिजरत करके उनके पास आए उनसे मोहब्बत करते हैं और जो कुछ उनको मिला उसके लिए अपने दिलों में कुछ ग़रज़ नहीं पाते और अगरचे अपने ऊपर तंगी ही क्यों न हो दूसरों को अपने नफ्स पर तरजीह देते हैं और जो शख़्श अपने नफ्स की हिर्स से बचा लिया गया तो ऐसे ही लोग अपनी दिली मुरादें पाएँगे
تَبَوَّءُوا الدَّارَ – ঘর-বাড়ি স্থায়ীভাবে গ্রহণ করেছিল, অর্থাৎ মদিনায় বসবাস করেছিল।
وَالإِيمَانَ – এবং ঈমানকে নিজেদের জন্য স্থায়ী আবাস বানিয়েছিল।
حَاجَةً – এখানে অর্থ: হিংসা, ঈর্ষা বা অন্তরের কোনো কষ্ট।
يُؤْثِرُونَ – অগ্রাধিকার দেয়, নিজেদের চেয়ে অন্যকে বেশি দেয়।
خَصَاصَةٌ – অভাব, দারিদ্র্য, প্রয়োজন।
شُحَّ – কার্পণ্য, লোভ, সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ও কৃপণতা।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই মহান ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন, যারা মদিনায় আগে থেকে বসবাস করতেন এবং ঈমানকে নিজেদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছিলেন — তারা হলেন আনসার (সাহায্যকারী) সাহাবাগণ। তারা মক্কা থেকে আগত মুহাজিরদের প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করতেন। তাদের অন্তরে মুহাজিরদের প্রতি কোনো হিংসা বা ঈর্ষা ছিল না, যদিও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বনু নাযিরের সম্পদ (ফাই) মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করেছিলেন এবং আনসারদের তা থেকে কিছু দেননি। তবুও তাদের মনে কোনো কষ্ট বা অভিযোগ ছিল না; বরং তারা মুহাজিরদের জন্য খুশি হয়েছিলেন এবং নিজেদের সম্পদ ও ঘর-বাড়ি তাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছিলেন।
তারা নিজেদের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও মুহাজির ভাইদের নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন। এমনকি যদি তাদের নিজেদের অবস্থা খুবই সংকীর্ণ হতো, তবুও তারা অন্যের প্রয়োজনকে নিজেদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। এটি এমন এক মহান চরিত্রের পরিচয়, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন: যে ব্যক্তি নিজের অন্তরের কৃপণতা ও লোভ থেকে রক্ষা পেয়েছে — অর্থাৎ যে ব্যক্তি সম্পদের প্রতি মোহ ও আসক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করেছে — সেই ব্যক্তিই প্রকৃত সফলকাম। কারণ, কৃপণতা ও লোভ মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে দূরে রাখে এবং পার্থিব ও পরকালীন কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করে। যারা এই রোগ থেকে মুক্ত, তারাই জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে সফল হবে।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, মুসলিম সমাজে পারস্পরিক ভালোবাসা, ত্যাগ ও সহানুভূতিই হচ্ছে ঈমানের প্রকৃত নিদর্শন। নিজের প্রয়োজনের সময়ও অন্যের কথা চিন্তা করা, হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকা এবং সম্পদের প্রতি লোভ না রাখা — এই গুণগুলোই একজন মুমিনের হৃদয়কে আলোকিত করে। আজকের এই ভোগবাদী যুগে আমাদের জন্য আনসারদের এই আদর্শই সর্বোত্তম পথনির্দেশক। আল্লাহ আমাদের অন্তর থেকে হিংসা, লোভ ও কৃপণতা দূর করে দানশীলতা ও ত্যাগের গুণে সৌন্দর্য দান করুন। আমিন।
যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।
আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।
এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী।
যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।
আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়।
আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেন নি? তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদেরকে বলেঃ তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।