আল-আনআম · 50/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
قُل لَّا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ ۖ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰ إِلَيَّ ۚ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَىٰ وَالْبَصِيرُ ۚ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ ۝٥٠
Qul laaa aqoolu lakum `indee khazaaa`inul laahi wa laaa a`lamul ghaiba wa laaa aqoolu lakum innee malakun in attabi`u illaa maa yoohaaa ilaiy; qul hal yastawil a`maa walbaseer; afalaa tatafakkaroon
📖 বাংলা অর্থ
আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না ?
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • خَزَائِنُ اللهِ: আল্লাহর ভান্ডার বা গুপ্তধন, যা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দান করেন।
  • الْغَيْبَ: অদৃশ্য জ্ঞান, যা শুধু আল্লাহই জানেন।
  • مَلَكٌ: ফেরেশতা।
  • أَتَّبِعُ: আমি অনুসরণ করি।
  • يُوحَى: ওহি প্রেরণ করা হয়।
  • الْأَعْمَى: অন্ধ (এখানে কাফির বা সত্য থেকে বিমুখ ব্যক্তি)।
  • الْبَصِيرُ: চক্ষুষ্মান (এখানে মুমিন বা সত্য দর্শনকারী)।

তাফসির:

হে নবী! আপনি এই মুশরিকদের বলুন, “আমি তোমাদের কাছে দাবি করি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে, যার মাধ্যমে আমি তোমাদের চাওয়া অনুযায়ী অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে দেব। আমি আরও দাবি করি না যে, আমি অদৃশ্যের জ্ঞান জানি, যাতে তোমাদের ভবিষ্যত বা লুকানো বিষয় সম্পর্কে বলতে পারি। আমি তো ফেরেশতাও নই, যে তোমাদের দেখাতে পারে অলৌকিক ক্ষমতা। আমি তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন মানুষ। আমি শুধু সেই ওহিরই অনুসরণ করি, যা আমার কাছে প্রেরণ করা হয়, এবং তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার দায়িত্ব।”

এরপর বলুন, “যে ব্যক্তি সত্যের প্রতি অন্ধ (কাফির) এবং যে ব্যক্তি সত্যকে দেখে তা গ্রহণ করে (মুমিন) — তারা কি কখনো সমান হতে পারে? অবশ্যই না। তোমরা কি চিন্তা করো না যে, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কখনো সমান নয়? তেমনি সত্য গ্রহণকারী ও প্রত্যাখ্যানকারীও সমান নয়। তোমরা যদি একটু চিন্তা করো, তবে আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে সত্যকে উপলব্ধি করতে পারবে এবং ঈমান আনতে পারবে।”

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. নবীজি (সা.)-এর নম্রতা ও বিনয়ের শিক্ষা — তিনি নিজেকে কখনো বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী দাবি করেননি, বরং নিজেকে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল বলেই পরিচয় দিয়েছেন। এটি আমাদের শেখায়, দাওয়াতের কাজে বিনয় ও সততা অপরিহার্য।
  2. অদৃশ্য জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছে — কেউ যদি দাবি করে যে, সে গায়েব জানে, তবে তা মিথ্যা। মুমিনের উচিত শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং তাঁর কিতাব ও রাসূলের নির্দেশনা মেনে চলা।
  3. সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট — যেমন অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, তেমনি মুমিন ও কাফিরও সমান নয়। এটি আমাদের সত্যকে চিনে নেওয়ার এবং তার ওপর অটল থাকার প্রেরণা দেয়।
  4. চিন্তা-ভাবনার গুরুত্ব — ইসলাম মানুষকে চিন্তা করতে, যুক্তি প্রয়োগ করতে এবং আল্লাহর সৃষ্টি ও আয়াত সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে উৎসাহিত করে। চিন্তাই মানুষকে সত্যের দিকে নিয়ে যায়।
  5. দাওয়াতের পদ্ধতি — নবীজি (সা.)-এর দাওয়াত ছিল স্পষ্ট, সরল এবং কোনো প্রকার প্রতারণা বা অলৌকিকতার ভান ছাড়া। আমাদেরও উচিত সত্য প্রচারে সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 48-52 — আল-আনআম

48وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ ۖ فَمَنْ آمَنَ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
আমি পয়গম্বরদেরকে প্রেরণ করি না, কিন্তু সুসংবাদাতা ও ভীতি প্রদর্শকরূপে অতঃপর যে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সংশোধিত হয়, তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
49وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا يَمَسُّهُمُ الْعَذَابُ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ
যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে তাদের নাফরমানীর কারণে আযাব স্পর্শ করবে।
50قُل لَّا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ ۖ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰ إِلَيَّ ۚ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَىٰ وَالْبَصِيرُ ۚ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ
আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না ?
51وَأَنذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَن يُحْشَرُوا إِلَىٰ رَبِّهِمْ ۙ لَيْسَ لَهُم مِّن دُونِهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
আপনি এ কোরআন দ্বারা তাদেরকে ভয়-প্রদর্শন করুন, যারা আশঙ্কা করে স্বীয় পালনকর্তার কাছে এমতাবস্থায় একত্রিত হওয়ার যে, তাদের কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী হবে না-যাতে তারা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে।
52وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ ۖ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِم مِّن شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِم مِّن شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ
আর তাদেরকে বিতাড়িত করবেন না, যারা সকাল-বিকাল স্বীয় পালকর্তার এবাদত করে, তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের হিসাব বিন্দুমাত্রও আপনার দায়িত্বে নয় এবং আপনার হিসাব বিন্দুমাত্রও তাদের দায়িত্বে নয় যে, আপনি তাদেরকে বিতাড়িত করবেন। নতুবা আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবেন।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
50আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 50

সূরা আল-আনআম আয়াত 50 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর…

সূরা আয়াত 50/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 48–52. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না