Faman azlamu mimmanif taraa `alal laahi kaziban aw kazzaba bi Aayaatih; ulaaa`ika yanaaluhum naseebuhum minal Kitaab; hataaa izaa jaaa`at hum rusulunaa yatawaf fawnahum qaalooo aina maa kuntum tad`oonaa min doonil laahi qaaloo dalloo `annaa wa shahidoo `alaaa anfusihim annahum kaanoo kaafieen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিক জালেম কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা তার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে? তারা তাদের গ্রন্থে লিখিত অংশ পেয়ে যাবে। এমন কি, যখন তাদের কাছে আমার প্রেরিত ফেরশতারা প্রাণ নেওয়ার জন্যে পৌছে, তখন তারা বলে; তারা কোথায় গেল, যাদের কে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আহবান করতে? তারা উত্তর দেবেঃ আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে, তারা নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করবে যে, তারা অবশ্যই কাফের ছিল।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
तो जो शख्स ख़ुदा पर झूठ बोहतान बॉधे या उसकी आयतों को झुठलाए उससे बढ़कर ज़ालिम और कौन होगा फिर तो वह लोग हैं जिन्हें उनकी (तक़दीर) का लिखा हिस्सा (रिज़क) वग़ैरह मिलता रहेगा यहाँ तक कि जब हमारे भेजे हुए (फरिश्ते) उनके पास आकर उनकी रूह कब्ज़ करेगें तो (उनसे) पूछेगें कि जिन्हें तुम ख़ुदा को छोड़कर पुकारा करते थे अब वह (कहाँ हैं तो वह कुफ्फार) जवाब देगें कि वह सब तो हमें छोड़ कर चल चंपत हुए और अपने खिलाफ आप गवाही देगें कि वह बेशक काफ़िर थे
অতঃপর ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিক জালেম কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা তার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে? তারা তাদের গ্রন্থে লিখিত অংশ পেয়ে যাবে। এমন কি, যখন তাদের কাছে আমার প্রেরিত ফেরশতারা প্রাণ নেওয়ার জন্যে পৌছে, তখন তারা বলে; তারা কোথায় গেল, যাদের কে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আহবান করতে? তারা উত্তর দেবেঃ আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে, তারা নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করবে যে, তারা অবশ্যই কাফের ছিল।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا – আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করা, যেমন তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করা বা তাঁর সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রচার করা।
نَصِيبُهُم مِّنَ الْكِتَابِ – তাদের জন্য লিখিত (তাকদীরে নির্ধারিত) অংশ, যা ভালো বা মন্দ যা কিছু তাদের ভাগ্যে লেখা আছে।
رُسُلُنَا – আমাদের ফেরেশতারা, বিশেষত মৃত্যুর ফেরেশতা (মালাকুল মউত) ও তার সহকারীরা।
يَتَوَفَّوْنَهُمْ – তারা তাদের প্রাণ হরণ করে।
ضَلُّوا عَنَّا – তারা আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে, অর্থাৎ তারা আমাদের কোনো উপকারে আসতে পারেনি।
তাফসীর:
যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে, যেমন তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করে বা তাঁর নামে মিথ্যা কথা বলে, অথবা তাঁর স্পষ্ট আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তার চেয়ে বেশি জালিম আর কে হতে পারে? এমন কোনো জুলুম নেই যা এই জুলুমের সমান হতে পারে। এই ধরনের লোকদের জন্য আল্লাহর লিখিত তাকদীর অনুযায়ী তাদের নির্ধারিত অংশ পৌঁছে যাবে—দুনিয়াতে জীবিকা, আয়ু, সুখ-দুঃখ ইত্যাদি যা কিছু তাদের ভাগ্যে লেখা আছে, তা তারা পূর্ণরূপে পাবে। কিন্তু যখন তাদের মৃত্যুর সময় আসবে, তখন আমার ফেরেশতারা (মৃত্যুর ফেরেশতা ও তার সহকারীরা) তাদের কাছে আসবে প্রাণ হরণ করার জন্য। তখন তারা তাদের জিজ্ঞেস করবে, “যাদেরকে তোমরা আল্লাহ ছাড়া ডাকতে, তাদের উপাসনা করতে, তারা এখন কোথায়? ডাকো তাদেরকে, দেখো তারা তোমাদের রক্ষা করতে পারে কি না?” এই প্রশ্ন হবে তাদেরকে ধমক ও তিরস্কার করার জন্য। তখন তারা উত্তর দেবে, “তারা আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে, আমরা তাদের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না।” এবং তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, তারা সত্যিই কাফির ছিল—তারা আল্লাহর একত্ববাদ অস্বীকার করেছিল এবং শিরকে লিপ্ত ছিল। কিন্তু এই স্বীকারোক্তি তখন তাদের কোনো কাজে আসবে না, বরং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে দাঁড়াবে।
ফায়দা (শিক্ষা):
আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করা বা তাঁর আয়াত অস্বীকার করা সবচেয়ে বড় জুলুম। তাই আমাদের উচিত আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং তাঁর কিতাব ও রাসূলের নির্দেশনা মেনে চলা।
প্রতিটি মানুষের জন্য তাকদীরে নির্ধারিত অংশ অবশ্যই পৌঁছাবে। তাই জীবিকার জন্য অস্থির না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করা উচিত, কারণ যা লেখা আছে তা না পাওয়া যাবে না।
মৃত্যু একটি সত্য এবং অনিবার্য। সেই সময় যখন ফেরেশতারা আসবে, তখন কোনো মিথ্যা উপাস্য বা শক্তি আমাদের রক্ষা করতে পারবে না। তাই এখনই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং তাঁর ইবাদতে জীবন কাটানো উচিত।
কিয়ামতের দিন বা মৃত্যুর সময় নিজের কুফরি ও গুনাহ স্বীকার করা কোনো লাভ বয়ে আনে না। বরং এখনই তাওবা করা এবং সৎকর্ম করা প্রয়োজন, যাতে মৃত্যুর সময় আমাদের জন্য শান্তি ও ক্ষমা নিশ্চিত হয়।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার কোনো সম্পদ, ক্ষমতা বা উপাস্য মানুষকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। একমাত্র আল্লাহর ওপর ঈমান আনা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলাই মুক্তির পথ।
হে বনী-আদম, যদি তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে পয়গম্বর আগমন করে তোমাদেরকে আমার আয়াত সমূহ শুনায়, তবে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ অবলম্বন করে, তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
অতঃপর ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিক জালেম কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা তার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে? তারা তাদের গ্রন্থে লিখিত অংশ পেয়ে যাবে। এমন কি, যখন তাদের কাছে আমার প্রেরিত ফেরশতারা প্রাণ নেওয়ার জন্যে পৌছে, তখন তারা বলে; তারা কোথায় গেল, যাদের কে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আহবান করতে? তারা উত্তর দেবেঃ আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে, তারা নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করবে যে, তারা অবশ্যই কাফের ছিল।
আল্লাহ বলবেনঃ তোমাদের পূর্বে জিন ও মানবের যেসব সম্প্রদায় চলে গেছে, তাদের সাথে তোমরাও দোযখে যাও। যখন এক সম্প্রদায় প্রবেশ করবে; তখন অন্য সম্প্রদায়কে অভিসম্পাত করবে। এমনকি, যখন তাতে সবাই পতিত হবে, তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক এরাই আমাদেরকে বিপথগামী করেছিল। অতএব, আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন। আল্লাহ বলবেন প্রত্যেকেরই দ্বিগুণ; তোমরা জান না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।