আল-আনফাল · 66/75
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনফাল
الْآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفًا ۚ فَإِن يَكُن مِّنكُم مِّائَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ ۚ وَإِن يَكُن مِّنكُمْ أَلْفٌ يَغْلِبُوا أَلْفَيْنِ بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ ۝٦٦
Al`aana khaffafal laahu `ankum wa `alima anna feekum da`faa; fa-iny yakum minkum mi`atun saabiratuny yaghliboo mi`atayn; wa iny-yakum minkum alfuny yaghlibooo alfaini bi iznil laah; wallaahu ma`as saabireen
📖 বাংলা অর্থ
এখন বোঝা হালকা করে দিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর এবং তিনি জেনে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্য দূর্বলতা রয়েছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যদি দৃঢ়চিত্ত একশ লোক বিদ্যমান থাকে, তবে জয়ী হবে দু’শর উপর। আর যদি তোমরা এক হাজার হও তবে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী জয়ী হবে দু’হাজারের উপর আর আল্লাহ রয়েছেন দৃঢ়চিত্ত লোকদের সাথে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • خَفَّفَ — হালকা করেছেন, সহজ করেছেন।
  • ضَعْفًا — দুর্বলতা, শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা।
  • صَابِرَةٌ — ধৈর্যশীল, দৃঢ়পদ।
  • بِإِذْنِ اللَّهِ — আল্লাহর অনুমতি ও সাহায্যে।
  • مَعَ الصَّابِرِينَ — ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন, অর্থাৎ তাদের সাহায্য ও সমর্থন করেন।

তাফসীর:

হে মুমিনগণ! পূর্বে আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর এই বিধান দিয়েছিলেন যে, একজন মুমিন দশজন কাফিরের মোকাবিলা করবে। কিন্তু এই বিধান মুমিনদের জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তখন আল্লাহ তাআলা তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান রেখে তোমাদের উপর থেকে এই বোঝা হালকা করে দিলেন। তিনি জানতেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে — শারীরিক দুর্বলতা, সামর্থ্যের অভাব এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘাটতি। তাই তিনি দয়ার সাথে এই বিধান সহজ করে দিলেন।

এখন নতুন বিধান হলো: যদি তোমাদের মধ্যে একশত ধৈর্যশীল ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মুমিন থাকে, তবে তারা দুইশত কাফিরের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে এক হাজার ধৈর্যশীল মুমিন থাকে, তবে তারা আল্লাহর অনুমতি ও সাহায্যে দুই হাজার কাফিরকে পরাজিত করবে। অর্থাৎ এখন একজন মুমিনের উপর দু'জন কাফিরের মোকাবিলা করা ফরজ। এর বেশি সংখ্যার মুখোমুখি হওয়া থেকে সরে আসা জায়েয, তবে শর্ত হলো — যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তনের জন্য বা নিজ বাহিনীর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য পশ্চাদপসরণ করা যাবে।

আর জেনে রাখো, আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন — তাদেরকে সাহায্য, শক্তি ও বিজয় দান করেন। ধৈর্যই সাফল্যের চাবিকাঠি।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের উপর অত্যন্ত দয়ালু। তিনি বান্দার সামর্থ্য অনুযায়ীই বিধান দেন এবং প্রয়োজনে তা সহজ করে দেন। এটি ইসলামের সহজতা ও নমনীয়তার প্রমাণ।
  2. ধৈর্য ও দৃঢ়তা মুমিনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সংখ্যায় কম হলেও ধৈর্যশীল মুমিনরা আল্লাহর সাহায্যে সংখ্যায় বেশি শত্রুর বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারে।
  3. বিজয় সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতির উপর নির্ভরশীল। তাই মুমিনের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা।
  4. ইসলাম কখনো অসম্ভব বোঝা চাপায় না; বরং মানুষের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেয়। এটি ইসলামের প্রজ্ঞা ও মানবতার প্রতি সহানুভূতির পরিচয়।
  5. আল্লাহর সাথে থাকার অর্থ হলো — তিনি তাঁর বান্দাদের রক্ষা করেন, তাদের অন্তরে শক্তি দেন এবং তাদের প্রচেষ্টায় বরকত দান করেন। তাই মুমিনের জীবনে ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসা অপরিহার্য।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 64-68 — আল-আনফাল

64يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
হে নবী, আপনার জন্য এবং যেসব মুসলমান আপনার সাথে রয়েছে তাদের সবার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট।
65يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ ۚ إِن يَكُن مِّنكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ ۚ وَإِن يَكُن مِّنكُم مِّائَةٌ يَغْلِبُوا أَلْفًا مِّنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَفْقَهُونَ
হে নবী, আপনি মুসলমানগণকে উৎসাহিত করুন জেহাদের জন্য। তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন দৃঢ়পদ ব্যক্তি থাকে, তবে জয়ী হবে দু’শর মোকাবেলায়। আর যদি তোমাদের মধ্যে থাকে একশ লোক, তবে জয়ী হবে হাজার কাফেরের উপর থেকে তার কারণ ওরা জ্ঞানহীন।
66الْآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفًا ۚ فَإِن يَكُن مِّنكُم مِّائَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ ۚ وَإِن يَكُن مِّنكُمْ أَلْفٌ يَغْلِبُوا أَلْفَيْنِ بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ
এখন বোঝা হালকা করে দিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর এবং তিনি জেনে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্য দূর্বলতা রয়েছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যদি দৃঢ়চিত্ত একশ লোক বিদ্যমান থাকে, তবে জয়ী হবে দু’শর উপর। আর যদি তোমরা এক হাজার হও তবে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী জয়ী হবে দু’হাজারের উপর আর আল্লাহ রয়েছেন দৃঢ়চিত্ত লোকদের সাথে।
67مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَن يَكُونَ لَهُ أَسْرَىٰ حَتَّىٰ يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ ۚ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
নবীর পক্ষে উচিত নয় বন্দীদিগকে নিজের কাছে রাখা, যতক্ষণ না দেশময় প্রচুর রক্তপাত ঘটাবে। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর, অথচ আল্লাহ চান আখেরাত। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।
68لَّوْلَا كِتَابٌ مِّنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
যদি একটি বিষয় না হত যা পূর্ব থেকেই আল্লাহ লিখে রেখেছেন, তাহলে তোমরা যা গ্রহণ করছ সেজন্য বিরাট আযাব এসে পৌছাত।
আল-আনফালকুরআন সূচী
75আয়াত
মাদানীRevelation
66আয়াত

অনুবাদ — আল-আনফাল 66

সূরা আল-আনফাল আয়াত 66 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এখন বোঝা হালকা করে দিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর এবং…

সূরা আয়াত 66/75 — আল-আনফাল الأنفال (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনফাল শুনুন, আল-আনফাল অনুবাদ, আল-আনফাল mp3, আল-আনফাল pdf. আয়াত 64–68. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না