Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- أَسْرَىٰ: যুদ্ধবন্দী (বন্দি করা মানুষ)।
- يُثْخِنَ: প্রচণ্ড আঘাত করা, শত্রুকে দুর্বল করার জন্য ব্যাপক হত্যা ও ক্ষতি করা।
- عَرَضَ الدُّنْيَا: দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সম্পদ ও উপকরণ (এখানে মুক্তিপণ/ফিদইয়া)।
- عَزِيزٌ: পরাক্রমশালী, অপরাজেয়।
- حَكِيمٌ: প্রজ্ঞাময়, যিনি প্রতিটি কাজ যথাযথভাবে ও সঠিক সময়ে করেন।
তাফসির:
এই আয়াতটি বদর যুদ্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে। মুসলিমরা বদর যুদ্ধে বিজয় লাভের পর অনেক কাফিরকে বন্দি করে এবং তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ (ফিদইয়া) গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করে মুসলিমদের এই সিদ্ধান্ত সংশোধন করেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, কোনো নবীর জন্য শোভনীয় নয় যে, তিনি শত্রুদের বন্দি করবেন এবং তাদেরকে জীবিত রাখবেন, যতক্ষণ না তিনি পৃথিবীতে শত্রুদের উপর পূর্ণ বিজয় অর্জন করেন এবং তাদের শক্তিকে সম্পূর্ণরূপে দুর্বল না করে দেন। অর্থাৎ, যুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থায় যখন ইসলাম দুর্বল এবং শত্রুরা শক্তিশালী, তখন বন্দি করার চেয়ে শত্রুকে দুর্বল করার জন্য ব্যাপক হত্যা করা এবং তাদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা জরুরি। যাতে তারা আবার যুদ্ধে ফিরে আসার সাহস না পায়।
এরপর আল্লাহ মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সম্পদ (মুক্তিপণ) কামনা করছ, কিন্তু আল্লাহ চান তোমাদের জন্য আখিরাতের কল্যাণ।” অর্থাৎ, তোমরা বন্দিদের মুক্তিপণ নিয়ে দুনিয়ার সামান্য সম্পদ লাভের চিন্তা করছ, অথচ আল্লাহ চান তোমরা ইসলামকে শক্তিশালী করো, যার মাধ্যমে আখিরাতের সাফল্য অর্জিত হয়। ইসলামের শত্রুদের দুর্বল করাই হলো আখিরাতের সাফল্যের পথ, আর মুক্তিপণ গ্রহণ করা তখনই বৈধ যখন ইসলাম শক্তিশালী হয়ে যায় এবং শত্রুদের ভয় দূর হয়ে যায়।
আয়াতের শেষে আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।” অর্থাৎ, তিনি এমন শক্তির অধিকারী যে, তাঁর আদেশ কেউ অমান্য করতে পারে না, এবং তিনি প্রতিটি বিষয়ে প্রজ্ঞার সাথে সিদ্ধান্ত নেন। তিনি যখন মুক্তিপণ নিতে নিষেধ করেছেন, তখন তাতে কল্যাণ ছিল; আর যখন পরবর্তীতে অনুমতি দিয়েছেন, তখনও তাতে কল্যাণ ছিল।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে দুর্বলতা প্রদর্শন না করে শক্তি প্রদর্শন করা জরুরি। যতক্ষণ না ইসলাম বিজয়ী হয়, ততক্ষণ শত্রুদের প্রতি কঠোর হওয়া উচিত।
- দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সম্পদের চেয়ে আখিরাতের স্থায়ী কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মুমিন কখনো দুনিয়ার স্বার্থে দ্বীনের স্বার্থ বিসর্জন দেয় না।
- আল্লাহর সিদ্ধান্ত সর্বদা প্রজ্ঞাপূর্ণ। তিনি যা নিষেধ করেন বা অনুমতি দেন, তাতে বান্দার কল্যাণই নিহিত থাকে, যদিও মানুষের কাছে তা প্রথমে বোধগম্য না হয়।
- যুদ্ধবন্দিদের বিষয়ে ইসলামের বিধান সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। ইসলাম একটি বাস্তবধর্মী জীবনব্যবস্থা, যা প্রতিটি যুগের প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য।
- বিজয়ের পরও আল্লাহর আদেশের প্রতি অনুগত থাকা এবং নিজের সিদ্ধান্তকে আল্লাহর সিদ্ধান্তের অধীন করা মুমিনের কর্তব্য।
📜 আয়াত 65-69 — সূরা আল-আনফাল
অনুবাদ — আল-আনফাল 67
সূরা আল-আনফাল আয়াত 67 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নবীর পক্ষে উচিত নয় বন্দীদিগকে নিজের কাছে রাখা, যতক্ষণ না…সূরা আয়াত 67/75 — সূরা আল-আনফাল الأنفال (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আনফাল শুনুন, সূরা আল-আনফাল অনুবাদ, সূরা আল-আনফাল mp3, সূরা আল-আনফাল pdf. আয়াত 65–69. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আল-আনফাল
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


