আত-তওবা · 49/129
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আত-তওবা
وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ ائْذَن لِّي وَلَا تَفْتِنِّي ۚ أَلَا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا ۗ وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ ۝٤٩
Wa minhum mai yaqoolu` zal lee wa laa taftinneee; alaa fil fitnati saqatoo; wa inna Jahannama lamuheetatum bil kaafireen
📖 বাংলা অর্থ
আর তাদের কেউ বলে, আমাকে অব্যাহতি দিন এবং পথভ্রষ্ট করবেন না। শোনে রাখ, তারা তো পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট এবং নিঃসন্দেহে জাহান্নাম এই কাফেরদের পরিবেষ্টন করে রয়েছে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ائْذَن لِّي: আমাকে অনুমতি দিন (জিহাদ থেকে বিরত থাকার জন্য)।
  • لَا تَفْتِنِّي: আমাকে ফিতনায় (পরীক্ষা/গুনাহে) ফেলবেন না।
  • سَقَطُوا: তারা পতিত হয়েছে (নিজেদের ধ্বংস করেছে)।
  • لَمُحِيطَةٌ: অবশ্যই পরিবেষ্টনকারী (চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা)।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের আরেকটি কুৎসিত চরিত্র তুলে ধরেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলত: “আমাকে (জিহাদ থেকে বিরত থাকার) অনুমতি দিন এবং আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না।” অর্থাৎ তারা বলত, আমরা যদি যুদ্ধে যাই এবং রোমীয় (বনি আসফার) নারীদের দেখে ফেলি, তাহলে আমাদের গুনাহ হয়ে যেতে পারে। তাই আমাদের পেছনে থাকতে দিন, যাতে আমরা সেই পরীক্ষার সম্মুখীন না হই।

কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের এই অজুহাতকে মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: “সাবধান! তারা তো ফিতনায় পড়েই গেছে।” অর্থাৎ তারা যে ফিতনার কথা বলছে (নারীদের দেখার ভয়), তার চেয়ে বড় ফিতনায় তারা ইতিমধ্যে নিপতিত হয়েছে—সেটি হলো মুনাফিকির ফিতনা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করার ফিতনা। তারা জিহাদ থেকে পালিয়ে নিজেদেরকে নিরাপদ ভাবছে, অথচ তাদের এই কাপুরুষতা ও প্রতারণাই তাদেরকে চরম ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

এরপর আল্লাহ তাআলা ভয় দেখিয়ে বলেন: “নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে।” অর্থাৎ কিয়ামতের দিন জাহান্নাম তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলবে, তারা কোনোভাবেই তা থেকে পালাতে পারবে না। যারা আল্লাহ ও আখিরাতকে অস্বীকার করে এবং তাঁর আদেশ অমান্য করে, তাদের পরিণতি এই ভয়াবহ আগুন।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. জিহাদ বা আল্লাহর পথে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য অজুহাত তৈরি করা মুনাফিকির লক্ষণ। মুমিনের উচিত আল্লাহর আদেশ পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকা।
  2. নিজের দুর্বলতার কথা বলে ধর্মীয় দায়িত্ব এড়ানো যায় না; বরং আল্লাহর ওপর ভরসা করে সেই দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করা উচিত।
  3. ছোট ফিতনা থেকে বাঁচতে গিয়ে বড় ফিতনায় পড়া যায়। মুনাফিকরা নারীদের ফিতনার ভয় দেখিয়ে নিজেরা মুনাফিকির চরম ফিতনায় নিপতিত হলো।
  4. আল্লাহ তাআলা কাফির ও মুনাফিকদের পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—জাহান্নাম তাদের জন্য অবধারিত। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর রাস্তায় কুরবানির জন্য প্রস্তুত থাকা।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর পথে বের হওয়া (জিহাদ, দাওয়াত, সৎকাজে অংশগ্রহণ) বরকত ও নিরাপত্তার কারণ; আর পেছনে থাকা (দায়িত্ব এড়ানো) প্রকৃত ক্ষতির কারণ।


📜 আয়াত 47-51 — সূরা আত-তওবা

47لَوْ خَرَجُوا فِيكُم مَّا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا وَلَأَوْضَعُوا خِلَالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ
যদি তোমাদের সাথে তারা বের হত, তবে তোমাদের অনিষ্ট ছাড়া আর কিছু বৃদ্ধি করতো না, আর অশ্ব ছুটাতো তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশে। আর তোমাদের মাঝে রয়েছে তাদের গুপ্তচর। বস্তুতঃ আল্লাহ যালিমদের ভালভাবেই জানেন।
48لَقَدِ ابْتَغَوُا الْفِتْنَةَ مِن قَبْلُ وَقَلَّبُوا لَكَ الْأُمُورَ حَتَّىٰ جَاءَ الْحَقُّ وَظَهَرَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَارِهُونَ
তারা পূর্বে থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্যসমূহ উল্টা-পাল্টা করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা মন্দবোধ করল।
49وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ ائْذَن لِّي وَلَا تَفْتِنِّي ۚ أَلَا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا ۗ وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ
আর তাদের কেউ বলে, আমাকে অব্যাহতি দিন এবং পথভ্রষ্ট করবেন না। শোনে রাখ, তারা তো পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট এবং নিঃসন্দেহে জাহান্নাম এই কাফেরদের পরিবেষ্টন করে রয়েছে।
50إِن تُصِبْكَ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ ۖ وَإِن تُصِبْكَ مُصِيبَةٌ يَقُولُوا قَدْ أَخَذْنَا أَمْرَنَا مِن قَبْلُ وَيَتَوَلَّوا وَّهُمْ فَرِحُونَ
আপনার কোন কল্যাণ হলে তারা মন্দবোধ করে এবং কোন বিপদ উপস্থিত হলে তারা বলে, আমরা পূর্ব থেকেই নিজেদের কাজ সামলে নিয়েছি এবং ফিরে যায় উল্লসিত মনে।
51قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
আপনি বলুন, আমাদের কাছে কিছুই পৌঁছবে না, কিন্তু যা আল্লাহ আমাদের জন্য রেখেছেন; তিনি আমাদের কার্যনির্বাহক। আল্লাহর উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
49আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 49

সূরা আত-তওবা আয়াত 49 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর তাদের কেউ বলে, আমাকে অব্যাহতি দিন এবং পথভ্রষ্ট করবেন…

সূরা আয়াত 49/129 — সূরা আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আত-তওবা শুনুন, সূরা আত-তওবা অনুবাদ, সূরা আত-তওবা mp3, সূরা আত-তওবা pdf. আয়াত 47–51. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না