Laqadib taghawul fitnata min qablu wa qallaboo lakal umoora hattaa jaaa`al haqqu wa zahara amrul laahi wa hum kaarihoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারা পূর্বে থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্যসমূহ উল্টা-পাল্টা করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা মন্দবোধ করল।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ए रसूल) इसमें तो शक़ नहीं कि उन लोगों ने पहले ही फ़साद डालना चाहा था और तुम्हारी बहुत सी बातें उलट पुलट के यहॉ तक कि हक़ आ पहुंचा और ख़ुदा ही का हुक्म ग़ालिब रहा और उनको नागवार ही रहा
তারা পূর্বে থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্যসমূহ উল্টা-পাল্টা করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা মন্দবোধ করল।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
الْفِتْنَةَ (ফিতনা): এখানে অর্থ—মুমিনদের বিভ্রান্ত করা, তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং তাদেরকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।
قَلَّبُوا لَكَ الْأُمُورَ (তোমার জন্য নানা বিষয় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখা): অর্থ—তোমার বিরুদ্ধে নানা কৌশল ও চক্রান্ত করা, তোমার কাজে বাধা সৃষ্টির জন্য নানা পরিকল্পনা করা।
الْحَقُّ (সত্য): এখানে অর্থ—আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয় ও সাহায্য।
أَمْرُ اللَّهِ (আল্লাহর নির্দেশ): অর্থ—আল্লাহর দ্বীন (ইসলাম) ও তার শান-শওকত।
তাফসীর:
মহান আল্লাহ এ আয়াতে মুনাফিকদের পুরনো চরিত্র ও কুমন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন—হে নবী! এই মুনাফিকরা আজ নয়, আগে থেকেই তোমার বিরুদ্ধে ফিতনা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। তারা মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে, তাদেরকে দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে এবং তোমার প্রচারিত সত্যের পথে বাধা সৃষ্টি করতে সর্বদা সচেষ্ট ছিল। তারা তোমার বিরুদ্ধে নানা রকম কৌশল ও চক্রান্ত করত, যেমনটি তারা করেছিল উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধে। তারা তোমার সংকল্প দুর্বল করার জন্য এবং জিহাদ থেকে বিরত রাখার জন্য নানা পরিকল্পনা আঁটত। কিন্তু তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, কারণ আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য বিজয় এসে যায়, তার দ্বীন সমুন্নত হয় এবং তার সাহায্য প্রকাশ পায়—যদিও তারা এতে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ ছিল। তারা চাইত বাতিলের জয় হোক, কিন্তু আল্লাহ তার সত্য দ্বীনকে বিজয়ী করলেন তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়েই।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মুনাফিক ও শত্রুদের চক্রান্ত যতই জোরালো হোক না কেন, আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় সত্যের সাথীদের জন্যই নির্ধারিত। তাই মুমিনের উচিত আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং তাদের চক্রান্তে বিচলিত না হওয়া।
সত্য ও ন্যায়ের পথে বাধা সৃষ্টির জন্য শত্রুরা নানা কৌশল অবলম্বন করে, কিন্তু আল্লাহ তার দ্বীনের সাহায্যকারীদের রক্ষা করেন এবং তাদের প্রচেষ্টা সফল করেন।
মুমিনের কর্তব্য হলো ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে নিজের লক্ষ্য অনুসরণ করা, কারণ আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য—তিনি তার দ্বীনকে বিজয়ী করবেন, যদিও তা অমুসলিম ও মুনাফিকদের কাছে অপছন্দনীয় হয়।
এই আয়াত মুমিনদের জন্য সান্ত্বনা যে, শত্রুদের ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও আল্লাহর দ্বীন চিরকাল টিকে থাকবে এবং তার অনুসারীরাই শেষ পর্যন্ত সফল হবে। তাই ইসলামের পথে থেকে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই মুমিনের একমাত্র পথ।
আর যদি তারা বের হবার সংকল্প নিত, তবে অবশ্যই কিছু সরঞ্জাম প্রস্তুত করতো। কিন্তু তাদের উত্থান আল্লাহর পছন্দ নয়, তাই তাদের নিবৃত রাখলেন এবং আদেশ হল বসা লোকদের সাথে তোমরা বসে থাক।
যদি তোমাদের সাথে তারা বের হত, তবে তোমাদের অনিষ্ট ছাড়া আর কিছু বৃদ্ধি করতো না, আর অশ্ব ছুটাতো তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশে। আর তোমাদের মাঝে রয়েছে তাদের গুপ্তচর। বস্তুতঃ আল্লাহ যালিমদের ভালভাবেই জানেন।
তারা পূর্বে থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্যসমূহ উল্টা-পাল্টা করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা মন্দবোধ করল।
আর তাদের কেউ বলে, আমাকে অব্যাহতি দিন এবং পথভ্রষ্ট করবেন না। শোনে রাখ, তারা তো পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট এবং নিঃসন্দেহে জাহান্নাম এই কাফেরদের পরিবেষ্টন করে রয়েছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।