মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(जब) मुशरिकीन ने ख़ुद एहद शिकनी (तोड़ा) की तो उन का कोई एहदो पैमान ख़ुदा के नज़दीक और उसके रसूल के नज़दीक क्योंकर (क़ायम) रह सकता है मगर जिन लोगों से तुमने खानाए काबा के पास मुआहेदा किया था तो वह लोग (अपनी एहदो पैमान) तुमसे क़ायम रखना चाहें तो तुम भी उन से (अपना एहद) क़ायम रखो बेशक ख़ुदा (बद एहदी से) परहेज़ करने वालों को दोस्त रखता है
মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مُشْرِكِين (মুশরিকিন) — যারা আল্লাহর সাথে অন্য কিছু শরিক করে।
عِندَ اللهِ وَعِندَ رَسُولِهِ — আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে (অর্থাৎ যে চুক্তি আল্লাহ ও রাসূলের পক্ষ থেকে স্বীকৃত ও সম্মানিত)।
اسْتَقَامُوا (ইস্তাকামু) — তারা অটল থাকা, চুক্তি পালনে অবিচল থাকা।
الْمُتَّقِينَ (মুত্তাকিন) — যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহভীরু।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সাথে চুক্তির বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। প্রশ্নবোধক স্বরূপে বলা হচ্ছে— কীভাবে সম্ভব যে, মুশরিকদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে কোনো চুক্তি টিকে থাকবে, অথচ তারা বারবার চুক্তি ভঙ্গ করে এবং বিশ্বাসঘাতকতা করে? অর্থাৎ, যারা চুক্তি রক্ষা করে না, তাদের সাথে চুক্তি করা অর্থহীন। তবে আল্লাহ তাআলা একটি ব্যতিক্রম উল্লেখ করেছেন— যাদের সাথে তোমরা মসজিদুল হারামের কাছে (হুদাইবিয়ার সন্ধিতে) চুক্তি করেছিলে, তারা যদি চুক্তিতে অটল থাকে এবং তা ভঙ্গ না করে, তাহলে তোমরাও তাদের সাথে চুক্তিতে অটল থাকবে এবং তা পূর্ণ করবে। কারণ, চুক্তি পালন করা মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য, আর আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালোবাসেন।
এই আয়াতের পটভূমি হলো, হুদাইবিয়ার সন্ধির পর কিছু গোত্র মুসলিমদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু পরে কুরাইশরা সেই চুক্তি ভঙ্গ করলে মুসলিমদের জন্য সেই চুক্তি আর বাধ্যতামূলক থাকে না। তবে যে গোত্রগুলো (যেমন বনু যামরা) চুক্তি অক্ষুণ্ণ রেখেছিল, তাদের সাথে চুক্তি বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি ইসলামের ন্যায়পরায়ণতা ও প্রতিশ্রুতি পালনের শিক্ষা দেয়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ইসলাম চুক্তি ও অঙ্গীকার পালনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। যতক্ষণ পর্যন্ত অপর পক্ষ চুক্তি মেনে চলে, ততক্ষণ মুসলিমদেরও চুক্তি মেনে চলা ফরজ।
বিশ্বাসঘাতকতা ও চুক্তি ভঙ্গ করা ইসলামে ঘৃণিত কাজ; কিন্তু ন্যায়পরায়ণতা ও সততার সাথে আচরণ করাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
আল্লাহ তাআলা মুত্তাকীদের ভালোবাসেন— যারা তাঁর আদেশ মানে এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকে। তাকওয়ার একটি বড় দিক হলো অঙ্গীকার পূরণ করা।
এই আয়াত মুসলিমদের শেখায় যে, শত্রুর সাথেও ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে হবে; যতক্ষণ তারা সন্ধি বজায় রাখে, ততক্ষণ সন্ধি ভঙ্গ করা জায়েয নয়।
ইসলাম শান্তি ও স্থিতিশীলতা পছন্দ করে এবং অযথা সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলে, তবে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকাও জরুরি।
অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না।
মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।
কিরূপে? তারা তোমাদের উপর জয়ী হলে তোমাদের আত্নীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।