আর-রাদ · 18/43
অনুবাদ উচ্চারণ — আর-রাদ
لِلَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمُ الْحُسْنَىٰ ۚ وَالَّذِينَ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُ لَوْ أَنَّ لَهُم مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لَافْتَدَوْا بِهِ ۚ أُولَٰئِكَ لَهُمْ سُوءُ الْحِسَابِ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمِهَادُ ۝١٨
Lillazeenas tajaaboo lirabbihimul husnaa; wallazeena lam yastajeeboo lahoo law anna lahum maa fil ardi jamee`anw wa mislahoo ma`ahoo laftadaw bih; ulaaa`ika lahum sooo`ul hisaab; wa maawaahum Jahannamu wa bi`sal mihaad
📖 বাংলা অর্থ
যারা পালনকর্তার আদেশ পালন করে, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে এবং যারা আদেশ পালন করে না, যদি তাদের কাছে জগতের সবকিছু থাকে এবং তার সাথে তার সমপরিমাণ আরও থাকে, তবে সবই নিজেদের মুক্তিপণ স্বরূপ দিয়ে দেবে। তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর হিসাব। তাদের আবাস হবে জাহান্নাম। সেটা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থান।
📜

অনুবাদ — Tafsir

لِلَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمُ الْحُسْنَىٰ ۚ وَالَّذِينَ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُ لَوْ أَنَّ لَهُم مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لَافْتَدَوْا بِهِ ۚ أُولَٰئِكَ لَهُمْ سُوءُ الْحِسَابِ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمِهَادُ

শব্দার্থ:

  • اسْتَجَابُوا: সাড়া দিয়েছে, কবুল করেছে, অনুসরণ করেছে।
  • الْحُسْنَى: সর্বোত্তম প্রতিদান, অর্থাৎ জান্নাত।
  • لَافْتَدَوْا بِهِ: এর বিনিময়ে নিজেদের মুক্তিপণ দিতে চাইবে।
  • سُوءُ الْحِسَابِ: কঠিন ও কঠোর হিসাব, যেখানে কোনো গুনাহই ক্ষমা করা হবে না।
  • مَأْوَاهُمْ: তাদের আবাসস্থল, আশ্রয়স্থল।
  • مِهَاد: বিছানা, বিশ্রামস্থল।

তাফসীর:

যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দিয়েছে—অর্থাৎ তাওহিদ ও আনুগত্যের প্রতি আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে ঈমান এনেছে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলেছে—তাদের জন্যই রয়েছে সর্বোত্তম প্রতিদান, যা হলো জান্নাত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সমস্ত নেয়ামত। অন্যদিকে, যারা তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি—অর্থাৎ কাফির ও অবাধ্যরা—তাদের অবস্থা হবে ভয়াবহ। কিয়ামতের দিন তারা যদি পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও সম্পদের মালিকও হতো, তবুও তারা তা নিজেদের মুক্তিপণ হিসেবে দিতে চাইত শুধু জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য। কিন্তু তাদের কাছ থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না। এদের জন্যই রয়েছে কঠোর হিসাব, যেখানে তাদের প্রতিটি গুনাহ খুঁটিয়ে দেখা হবে এবং কিছুই ক্ষমা করা হবে না। আর তাদের চূড়ান্ত আবাসস্থল হবে জাহান্নাম—কতই না নিকৃষ্ট সেই বিশ্রামস্থল, যা তারা নিজেদের জন্য প্রস্তুত করেছে!

উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার পুরস্কার অপরিসীম—জান্নাত ও চিরস্থায়ী সুখ। এটি মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরণা হওয়া উচিত।
  2. কিয়ামতের দিন কাফিরদের আফসোস ও অনুতাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে, তারা সমগ্র পৃথিবী ও তার দ্বিগুণ সম্পদও মুক্তিপণ হিসেবে দিতে চাইবে, কিন্তু তা গ্রহণ করা হবে না। তাই দুনিয়াতেই আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগানো উচিত।
  3. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত সফলতা দুনিয়ার সম্পদে নয়, বরং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর সন্তুষ্টিতে নিহিত। দুনিয়ার সব ধন-সম্পদ আখিরাতের শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
  4. কঠোর হিসাবের ভয় আমাদেরকে গুনাহ থেকে দূরে থাকতে এবং তাওবা করতে উদ্বুদ্ধ করে। আল্লাহর রহমতের দরজা খোলা থাকতেই আমাদের ফিরে আসা উচিত।
  5. জাহান্নামকে নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল বলা হয়েছে—এতে করে আমরা বুঝতে পারি যে, আল্লাহর অবাধ্যতার পরিণাম কতটা ভয়াবহ। তাই প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের সতর্ক থাকা জরুরি।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 16-20 — আর-রাদ

16قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ ۚ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُم مِّن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لَا يَمْلِكُونَ لِأَنفُسِهِمْ نَفْعًا وَلَا ضَرًّا ۚ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَىٰ وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّورُ ۗ أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ ۚ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ
জিজ্ঞেস করুন নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের পালনকর্তা কে? বলে দিনঃ আল্লাহ! বলুনঃ তবে কি তোমরা আল্লাহ ব্যতীত এমন অভিভাবক স্থির করেছ, যারা নিজেদের ভাল-মন্দের ও মালিক নয়? বলুনঃ অন্ধ চক্ষুষ্মান কি সমান হয়? অথবা কোথাও কি অন্ধকার ও আলো সমান হয়। তবে কি তারা আল্লাহর জন্য এমন অংশীদার স্থির করেছে যে, তারা কিছু সৃষ্টি করেছে, যেমন সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ? অতঃপর তাদের সৃষ্টি এরূপ বিভ্রান্তি ঘটিয়েছে? বলুনঃ আল্লাহই প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, পরাক্রমশালী।
17أَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا فَاحْتَمَلَ السَّيْلُ زَبَدًا رَّابِيًا ۚ وَمِمَّا يُوقِدُونَ عَلَيْهِ فِي النَّارِ ابْتِغَاءَ حِلْيَةٍ أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِّثْلُهُ ۚ كَذَٰلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ ۚ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً ۖ وَأَمَّا مَا يَنفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ ۚ كَذَٰلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ
তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর স্রোতধারা প্রবাহিত হতে থাকে নিজ নিজ পরিমাণ অনুযায়ী। অতঃপর স্রোতধারা স্ফীত ফেনারাশি উপরে নিয়ে আসে। এবং অলঙ্কার অথবা তৈজসপত্রের জন্যে যে বস্তুকে আগুনে উত্তপ্ত করে, তাতেও তেমনি ফেনারাশি থাকে। এমনি ভাবে আল্লাহ সত্য ও অসত্যের দৃষ্টান্ত প্রদান করেন। অতএব, ফেনা তো শুকিয়ে খতম হয়ে যায় এবং যা মানুষের উপকারে আসে, তা জমিতে অবশিষ্ট থাকে। আল্লাহ এমনিভাবে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন।
18لِلَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمُ الْحُسْنَىٰ ۚ وَالَّذِينَ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُ لَوْ أَنَّ لَهُم مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لَافْتَدَوْا بِهِ ۚ أُولَٰئِكَ لَهُمْ سُوءُ الْحِسَابِ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمِهَادُ
যারা পালনকর্তার আদেশ পালন করে, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে এবং যারা আদেশ পালন করে না, যদি তাদের কাছে জগতের সবকিছু থাকে এবং তার সাথে তার সমপরিমাণ আরও থাকে, তবে সবই নিজেদের মুক্তিপণ স্বরূপ দিয়ে দেবে। তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর হিসাব। তাদের আবাস হবে জাহান্নাম। সেটা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থান।
19۞ أَفَمَن يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَىٰ ۚ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ
যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে তা সত্য সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যে অন্ধ? তারাই বোঝে, যারা বোধশক্তি সম্পন্ন।
20الَّذِينَ يُوفُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَلَا يَنقُضُونَ الْمِيثَاقَ
এরা এমন লোক, যারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না।
আর-রাদকুরআন সূচী
43আয়াত
মাদানীRevelation
18আয়াত

অনুবাদ — আর-রাদ 18

সূরা আর-রাদ আয়াত 18 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যারা পালনকর্তার আদেশ পালন করে, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে…

সূরা আয়াত 18/43 — আর-রাদ الرعد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আর-রাদ শুনুন, আর-রাদ অনুবাদ, আর-রাদ mp3, আর-রাদ pdf. আয়াত 16–20. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না