Afamai ya`lamu annamaaa unzila ilaika mir Rabbikal haqqu kaman huwa a`maa; innamaa yatazakkaru ulul albaab
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে তা সত্য সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যে অন্ধ? তারাই বোঝে, যারা বোধশক্তি সম্পন্ন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ऐ रसूल) भला वह शख़्श जो ये जानता है कि जो कुछ तुम्हारे परवरदिगार की तरफ से तुम पर नाज़िल हुआ है बिल्कुल ठीक है कभी उस शख़्श के बराबर हो सकता है जो मुत्तलिक़ (पूरा) अंधा है (हरगिज़ नहीं)
যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে তা সত্য সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যে অন্ধ? তারাই বোঝে, যারা বোধশক্তি সম্পন্ন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أَعْمَىٰ – অন্ধ; এখানে হৃদয়ের অন্ধত্ব অর্থাৎ সত্য উপলব্ধি করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।
يَتَذَكَّرُ – উপদেশ গ্রহণ করা, চিন্তা-ভাবনা করা।
أُولُو الْأَلْبَابِ – বিবেকবান ব্যক্তিগণ, যারা বুদ্ধি-বিবেক দিয়ে চিন্তা করে।
তাফসীর:
হে রাসূল! যে ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে জানে যে, আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্য এবং সে তা বিশ্বাস করে ও সে অনুযায়ী আমল করে, সে কি কখনো সেই ব্যক্তির সমান হতে পারে যে সত্যের প্রতি অন্ধ, তাকে দেখতে পায় না এবং মেনে নিতেও প্রস্তুত নয়? কখনোই নয়। এই দুই ব্যক্তির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। একজন আলোকিত হৃদয়ের অধিকারী, আর অন্যজন অন্ধকারে নিমজ্জিত।
আর এই উপদেশ ও চিন্তা-ভাবনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে শুধুমাত্র তারাই, যারা বিবেকবান এবং সঠিক বুদ্ধি-বিবেকের অধিকারী। তারা সত্যকে চিনতে পারে, মিথ্যা থেকে আলাদা করতে পারে এবং আল্লাহর পথে চলার তাওফিক লাভ করে। পক্ষান্তরে যারা অন্ধ, তাদের অন্তর মোহরাংকিত, তারা কখনো উপদেশ গ্রহণ করে না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
জ্ঞান ও অজ্ঞতার মধ্যে কখনো সমতা হতে পারে না। যে ব্যক্তি সত্য জানার পর তা মেনে নেয়, সে সম্মানিত; আর যে অজ্ঞতা ও অন্ধত্বের মধ্যে থাকে, সে ক্ষতিগ্রস্ত।
প্রকৃত বিবেকবান সেই, যে আল্লাহর কিতাব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং জীবনকে সত্যের আলোয় পরিচালিত করে।
কুরআন সত্য এবং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ — এতে কোনো সন্দেহ নেই। যারা এটি বিশ্বাস করে এবং মেনে চলে, তারাই সফলকাম।
ইসলাম একটি যুক্তিসঙ্গত ও বিবেকসম্মত ধর্ম; এটি মানুষকে চিন্তা-ভাবনা করার আহ্বান জানায়, অন্ধ অনুসরণ নয়।
হৃদয়ের অন্ধত্ব সবচেয়ে বড় অন্ধত্ব; চোখের অন্ধত্ব নয়। কারণ হৃদয় অন্ধ হলে সত্য দেখা যায় না, আর তখন মানুষ পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত থাকে।
তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর স্রোতধারা প্রবাহিত হতে থাকে নিজ নিজ পরিমাণ অনুযায়ী। অতঃপর স্রোতধারা স্ফীত ফেনারাশি উপরে নিয়ে আসে। এবং অলঙ্কার অথবা তৈজসপত্রের জন্যে যে বস্তুকে আগুনে উত্তপ্ত করে, তাতেও তেমনি ফেনারাশি থাকে। এমনি ভাবে আল্লাহ সত্য ও অসত্যের দৃষ্টান্ত প্রদান করেন। অতএব, ফেনা তো শুকিয়ে খতম হয়ে যায় এবং যা মানুষের উপকারে আসে, তা জমিতে অবশিষ্ট থাকে। আল্লাহ এমনিভাবে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন।
যারা পালনকর্তার আদেশ পালন করে, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে এবং যারা আদেশ পালন করে না, যদি তাদের কাছে জগতের সবকিছু থাকে এবং তার সাথে তার সমপরিমাণ আরও থাকে, তবে সবই নিজেদের মুক্তিপণ স্বরূপ দিয়ে দেবে। তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর হিসাব। তাদের আবাস হবে জাহান্নাম। সেটা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থান।
যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে তা সত্য সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যে অন্ধ? তারাই বোঝে, যারা বোধশক্তি সম্পন্ন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।