Alam yaatikum naba`ul lazeena min qablikum qawmi Noohinw wa `Aadinw wa Samood, wallazeena mim ba`dihim; laa ya`lamuhum illallaah; jaaa`at hum Rusuluhum bilbaiyinaati faraddooo aydiyahum feee afwaahihim wa qaalooo innaa kafarnaa bimaaa ursiltum bihee wa innaa lafee shakkim mimmaa tad`oonanaaa ilaihi mureeb
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্ববর্তী কওমে নূহ, আদ ও সামুদের এবং তাদের পরবর্তীদের খবর পৌছেনি? তাদের বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তাদের কাছে তাদের পয়গম্বর প্রমানাদি নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর তারা নিজেদের হাত নিজেদের মুখে রেখে দিয়েছে এবং বলেছে, যা কিছু সহ তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে, আমরা তা মানি না এবং যে পথের দিকে তোমরা আমাদেরকে দাওয়াত দাও, সে সম্পর্কে আমাদের মনে সন্দেহ আছে, যা আমাদেরকে উৎকন্ঠায় ফেলে রেখেছে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और हम्द है क्या तुम्हारे पास उन लोगों की ख़बर नहीं पहुँची जो तुमसे पहले थे (जैसे) नूह की क़ौम और आद व समूद और (दूसरे लोग) जो उनके बाद हुए (क्योकर ख़बर होती) उनको ख़ुदा के सिवा कोई जानता ही नहीं उनके पास उनके (वक्त क़े) पैग़म्बर मौजिज़े लेकर आए (और समझाने लगे) तो उन लोगों ने उन पैग़म्बरों के हाथों को उनके मुँह पर उलटा मार दिया और कहने लगे कि जो (हुक्म लेकर) तुम ख़ुदा की तरफ से भेजे गए हो हम तो उसको नहीं मानते और जिस (दीन) की तरफ तुम हमको बुलाते हो बड़े गहरे शक़ में पड़े है
তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্ববর্তী কওমে নূহ, আদ ও সামুদের এবং তাদের পরবর্তীদের খবর পৌছেনি? তাদের বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তাদের কাছে তাদের পয়গম্বর প্রমানাদি নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর তারা নিজেদের হাত নিজেদের মুখে রেখে দিয়েছে এবং বলেছে, যা কিছু সহ তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে, আমরা তা মানি না এবং যে পথের দিকে তোমরা আমাদেরকে দাওয়াত দাও, সে সম্পর্কে আমাদের মনে সন্দেহ আছে, যা আমাদেরকে উৎকন্ঠায় ফেলে রেখেছে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
নাবা - সংবাদ, খবর
বাইয়্যিনাত - সুস্পষ্ট প্রমাণ, অলৌকিক নিদর্শন
রাদ্দু আইদিয়াহুম ফী আফওয়াহিহিম - তারা তাদের হাত নিজেদের মুখে রাখল, অর্থাৎ ক্রোধ ও ক্ষোভে তারা নিজেদের আঙুল কামড়াতে লাগল
মুরীব - সন্দেহ সৃষ্টিকারী, সংশয় উদ্রেককারী
তাফসীর:
হে মুহাম্মাদ (সা.)-এর উম্মত! তোমাদের কাছে কি সেই পূর্ববর্তী জাতিগুলোর সংবাদ পৌঁছেনি যারা তোমাদের আগে ছিল? যেমন নূহ (আ.)-এর সম্প্রদায়, আদ সম্প্রদায় এবং সামুদ সম্প্রদায়—যারা নিজ নিজ নবীদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। আর তাদের পরেও আরও অনেক জাতি এসেছে, যাদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। তাদের সবার কাছেই আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণ ও অলৌকিক নিদর্শনসহ এসেছিলেন। কিন্তু তারা ঔদ্ধত্য ও অহংকারবশত রাসূলদের কথা মানতে অস্বীকার করে এবং ক্রোধে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজেদের হাত নিজেদের মুখে রাখল অর্থাৎ আঙুল কামড়াতে লাগল। তারা রাসূলদের বলল: "আমরা তোমরা যা নিয়ে এসেছ তা প্রত্যাখ্যান করলাম। আর তোমরা আমাদেরকে যে বিষয়ে (তাওহীদ ও ঈমানের) দাওয়াত দিচ্ছ, সে সম্পর্কে আমরা গভীর সন্দেহে নিমজ্জিত আছি, যা আমাদের মনে সংশয় সৃষ্টি করছে।"
অর্থাৎ তারা স্পষ্ট প্রমাণ দেখার পরও সত্যকে মেনে নেয়নি; বরং ঘৃণা ও ক্রোধের কারণে তারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অজুহাত হিসেবে সন্দেহ ও সংশয়কে সামনে এনেছে। অথচ তাদের কাছে সত্য এতটাই স্পষ্ট ছিল যে, সন্দেহের কোনো অবকাশই ছিল না।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ইতিহাসের পাঠ গ্রহণ করা ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য। পূর্ববর্তী জাতিদের পরিণাম সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য সতর্কবার্তা।
নবী-রাসূলগণ সবসময় সুস্পষ্ট প্রমাণ ও যুক্তিসহ মানুষের কাছে এসেছেন; ইসলাম কখনো অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সত্য প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ প্রায়ই অহংকার ও হঠকারিতা, আর সেটাই জাতিগুলোর ধ্বংসের কারণ হয়েছে।
সত্যের দাওয়াত দিতে গিয়ে রাসূলগণ যত বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন, তবুও তারা ধৈর্য ধারণ করেছেন—আমাদের জন্যও এটাই শিক্ষণীয়।
যে ব্যক্তি সত্যকে মেনে নিতে চায় না, সে নানা অজুহাত তৈরি করে; কিন্তু আল্লাহর কাছে সবকিছু স্পষ্ট, আর কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে নিজ নিজ কাজের হিসাব দিতে হবে।
তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্ববর্তী কওমে নূহ, আদ ও সামুদের এবং তাদের পরবর্তীদের খবর পৌছেনি? তাদের বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তাদের কাছে তাদের পয়গম্বর প্রমানাদি নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর তারা নিজেদের হাত নিজেদের মুখে রেখে দিয়েছে এবং বলেছে, যা কিছু সহ তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে, আমরা তা মানি না এবং যে পথের দিকে তোমরা আমাদেরকে দাওয়াত দাও, সে সম্পর্কে আমাদের মনে সন্দেহ আছে, যা আমাদেরকে উৎকন্ঠায় ফেলে রেখেছে।
তাদের পয়গম্বরগণ বলেছিলেনঃ আল্লাহ সম্পর্কে কি সন্দেহ আছে, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন যাতে তোমাদের কিছু গুনাহ ক্ষমা করেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের সময় দেন। তারা বলতঃ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ! তোমরা আমাদেরকে ঐ উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও, যার এবাদত আমাদের পিতৃপুরুষগণ করত। অতএব তোমরা কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ আনয়ন কর।
তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেনঃ আমারাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপরে ইচ্ছা, অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত তোমাদের কাছে প্রমাণ নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়; ঈমানদারদের আল্লাহর উপর ভরসা করা চাই।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।