Wa qaala Moosaaa in takfurooo antum wa man fil ardi jamee`an fa innal laaha la Ghaniyyun Hameed
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এবং মূসা বললেনঃ তোমরা এবং পৃথিবীর সবাই যদি কুফরী কর, তথাপি আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, যাবতীয় গুনের আধার।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और मूसा ने (अपनी क़ौम से) कह दिया कि अगर और (तुम्हारे साथ) जितने रुए ज़मीन पर हैं सब के सब (मिलकर भी ख़ुदा की) नाशुक्री करो तो ख़ुदा (को ज़रा भी परवाह नहीं क्योंकि वह तो बिल्कुल) बे नियाज़ है
এবং মূসা বললেনঃ তোমরা এবং পৃথিবীর সবাই যদি কুফরী কর, তথাপি আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, যাবতীয় গুনের আধার।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لَغَنِيٌّ — সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী, কারো প্রতি কোনো প্রয়োজন নেই।
حَمِيدٌ — সকল প্রশংসার একমাত্র অধিকারী, প্রশংসিত।
তাফসীর:
হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তাঁর সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, “তোমরা যদি কুফরি করো—অর্থাৎ আল্লাহকে অস্বীকার করো, তাঁর বিধান অমান্য করো—এবং পৃথিবীর সকল মানুষও যদি তোমাদের সাথে যোগ দিয়ে একত্রে কুফরি করে, তবুও আল্লাহর কোনো ক্ষতি হবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ, তিনি সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নন। তাঁর সত্তা ও গুণাবলি চিরন্তন, তাঁর রাজত্ব ও ক্ষমতা অপরিবর্তনীয়। মানুষের ঈমান বা কুফরি তাঁর কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না।
বরং আল্লাহ তা‘আলা ‘হামীদ’—অর্থাৎ তিনি এমন সত্তা যিনি প্রতিটি অবস্থায় সকল প্রশংসার যোগ্য। তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি অসীম দয়া ও অনুগ্রহ বর্ষণ করেন, তাদের ভালোবাসা ও ইবাদতের প্রয়োজন নেই, বরং মানুষেরই প্রয়োজন আল্লাহর ইবাদত করার, তাঁর কাছে ফিরে আসার। কুফরির ক্ষতি সম্পূর্ণভাবে মানুষের নিজেরই দিকে ফিরে আসে—দুনিয়াতেও, আখিরাতেও। পক্ষান্তরে, ঈমান ও সৎকর্মের কল্যাণও মানুষের নিজের জন্যই।
শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:
আল্লাহ তা‘আলা সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ—তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। আমাদের ইবাদত, দোয়া, তাওবা—সবকিছুই আমাদের নিজেদের জন্য কল্যাণকর।
মানুষের কুফরি বা অবাধ্যতা আল্লাহর ক্ষতি করতে পারে না, যেমনিভাবে মানুষের ঈমান আল্লাহর উপকার করতে পারে না। আল্লাহ সবকিছু থেকে পবিত্র ও অমুখাপেক্ষী।
আল্লাহ সর্বাবস্থায় প্রশংসিত—সুখে-দুঃখে, আনন্দে-বেদনায়, সব পরিস্থিতিতে তাঁর প্রশংসা করা উচিত। কারণ তিনি যা কিছুই করেন, তাতে আমাদের জন্য কল্যাণই নিহিত।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ বা বর্জন করার মাধ্যমে মানুষের নিজেরই লাভ-ক্ষতি হয়। আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আহ্বানকারীর উচিত দৃঢ়চিত্ত থাকা—মানুষের প্রতিক্রিয়া যাই হোক না কেন, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর সন্তুষ্টিই কাম্য।
মুমিনের উচিত অন্যকে সত্যের পথে ডাকা, কিন্তু ফলাফল আল্লাহর হাতে সোপর্দ করা। মানুষের ঈমান না আনলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর গুণাবলি স্মরণ করা এবং তাঁর ওপর নির্ভর করা।
যখন মূসা স্বজাতিকে বললেনঃ তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর যখন তিনি তোমাদেরকে ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কবল থেকে মুক্তি দেন। তারা তোমাদেরকে অত্যন্ত নিকৃষ্ট ধরনের শাস্তি দিত, তোমাদের ছেলেদেরকে হত্যা করত এবং তোমাদের মেয়েদেরকে জীবিত রাখত। এবং এতে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে বিরাট পরীক্ষা হয়েছিল।
তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্ববর্তী কওমে নূহ, আদ ও সামুদের এবং তাদের পরবর্তীদের খবর পৌছেনি? তাদের বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তাদের কাছে তাদের পয়গম্বর প্রমানাদি নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর তারা নিজেদের হাত নিজেদের মুখে রেখে দিয়েছে এবং বলেছে, যা কিছু সহ তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে, আমরা তা মানি না এবং যে পথের দিকে তোমরা আমাদেরকে দাওয়াত দাও, সে সম্পর্কে আমাদের মনে সন্দেহ আছে, যা আমাদেরকে উৎকন্ঠায় ফেলে রেখেছে।
তাদের পয়গম্বরগণ বলেছিলেনঃ আল্লাহ সম্পর্কে কি সন্দেহ আছে, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন যাতে তোমাদের কিছু গুনাহ ক্ষমা করেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের সময় দেন। তারা বলতঃ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ! তোমরা আমাদেরকে ঐ উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও, যার এবাদত আমাদের পিতৃপুরুষগণ করত। অতএব তোমরা কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ আনয়ন কর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।