আল-ইসরা · 13/111
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ইসরা
وَكُلَّ إِنسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ ۖ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنشُورًا ۝١٣
Wa kulla insaanin alzamnaahu taaa`irahoo fe `unuqihee wa nukhriji lahoo Yawmal Qiyaamati kitaabany yalqaahu manshooraa
📖 বাংলা অর্থ
আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবলগ্ন করে রেখেছি। কেয়ামতের দিন বের করে দেখাব তাকে একটি কিতাব, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • طَائِرَهُ — তার কর্মফল বা আমলনামা। আরবিতে ‘ত্বাইর’ শব্দটি শুভ-অশুভ ভাগ্য বা কর্মের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • أَلْزَمْنَاهُ — আমরা তাকে আবশ্যক করে দিয়েছি, সাথে লেগে থাকা করেছি।
  • مَنشُورًا — খোলা, বিস্তৃত, উন্মুক্ত।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন যে, প্রতিটি মানুষের ভালো-মন্দ যা কিছু সে এই দুনিয়ায় করেছে, তা তার গলায় ঝুলন্ত হার বা তাবিজের মতো তার সাথে লেগে আছে—সে যেখানেই যাক, তা তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। কারও কর্ম অন্য কাউকে দেওয়া হবে না, আর অন্যের কর্ম দিয়ে কাউকে জবাবদিহি করা হবে না। প্রত্যেকে নিজের কাজের জন্য নিজেই দায়ী। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার জন্য এমন একটি বই (আমলনামা) বের করবেন, যাতে তার জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় কাজ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সে বইটি সে নিজ হাতে পাবে এবং তা খোলা অবস্থায় দেখতে পাবে—সামনে উন্মুক্ত, যাতে তার সমস্ত কাজ তার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়। কোনো কিছুই গোপন থাকবে না, লুকানো থাকবে না।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. প্রতিটি মানুষ তার নিজের কাজের জন্য দায়ী—এই বিশ্বাস মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে এবং অপরকে দোষারোপ করার প্রবণতা থেকে বিরত রাখে।
  2. আল্লাহর ন্যায়বিচার নিখুঁত—কেউ কারও পাপের বোঝা বহন করবে না, তাই ইনসাফের এই ব্যবস্থা মানুষের মনে প্রশান্তি আনে।
  3. দুনিয়ার প্রতিটি কাজই হিসাবের খাতায় লেখা হচ্ছে—এই সচেতনতা মানুষকে গোপনে ও প্রকাশ্যে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং পাপ থেকে বিরত রাখে।
  4. কিয়ামতের দিন নিজের আমলনামা খোলা অবস্থায় দেখা মানুষের জন্য এক চরম বাস্তবতা—যে ব্যক্তি ঈমান ও সৎকর্ম নিয়ে আসবে, তার জন্য এটি আনন্দের কারণ হবে; আর যে পাপী, তার জন্য এটি আফসোসের কারণ হবে। তাই এখনই সময়, নিজের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার।
  5. এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলামের হিসাব-নিকাশ ব্যবস্থা এতই নিখুঁত ও ন্যায়সংগত যে, কারও প্রতি সামান্যতম জুলুম হবে না—এতে মুমিনের হৃদয় প্রশান্ত হয় এবং আল্লাহর উপর ভরসা বাড়ে।


📜 আয়াত 11-15 — আল-ইসরা

11وَيَدْعُ الْإِنسَانُ بِالشَّرِّ دُعَاءَهُ بِالْخَيْرِ ۖ وَكَانَ الْإِنسَانُ عَجُولًا
মানুষ যেভাবে কল্যাণ কামনা করে, সেভাবেই অকল্যাণ কামনা করে। মানুষ তো খুবই দ্রুততা প্রিয়।
12وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ آيَتَيْنِ ۖ فَمَحَوْنَا آيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِّتَبْتَغُوا فَضْلًا مِّن رَّبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ ۚ وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلًا
আমি রাত্রি ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি। অতঃপর নিস্প্রভ করে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে দেখার উপযোগী করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা স্থির করতে পার বছরসমূহের গণনা ও হিসাব এবং আমি সব বিষয়কে বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেছি।
13وَكُلَّ إِنسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ ۖ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنشُورًا
আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবলগ্ন করে রেখেছি। কেয়ামতের দিন বের করে দেখাব তাকে একটি কিতাব, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে।
14اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَىٰ بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا
পাঠ কর তুমি তোমার কিতাব। আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট।
15مَّنِ اهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ ۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا ۚ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۗ وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّىٰ نَبْعَثَ رَسُولًا
যে কেউ সৎপথে চলে, তারা নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়, তারা নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথ ভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না।
আল-ইসরাকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীRevelation
13আয়াত

অনুবাদ — আল-ইসরা 13

সূরা আল-ইসরা আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবলগ্ন করে রেখেছি। কেয়ামতের দিন…

সূরা আয়াত 13/111 — আল-ইসরা الإسراء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ইসরা শুনুন, আল-ইসরা অনুবাদ, আল-ইসরা mp3, আল-ইসরা pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না