আল-ইসরা · 16/111
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ইসরা
وَإِذَا أَرَدْنَا أَن نُّهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُوا فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ فَدَمَّرْنَاهَا تَدْمِيرًا ۝١٦
Wa izaaa aradnaaa an nuhlika qaryatan amarnaa mutrafeehaa fafasaqoo feehaa fahaqqa `alaihal qawlu fadammarnaahaa tadmeeraa
📖 বাংলা অর্থ
যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তার অবস্থাপন্ন লোকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করি অতঃপর তারা পাপাচারে মেতে উঠে। তখন সে জনগোষ্টীর উপর আদেশ অবধারিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি তাকে উঠিয়ে আছাড় দেই।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مُتْرَفِيهَا — তাদের বিলাসী ও স্বাচ্ছন্দ্যপ্রিয় নেতারা, যারা প্রাচুর্য ও ভোগ-বিলাসে নিমগ্ন ছিল।
  • فَفَسَقُوا — অতঃপর তারা আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেল, অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ অমান্য করল এবং পাপাচারে লিপ্ত হল।
  • فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ — সুতরাং তাদের উপর শাস্তির ফয়সালা অবধারিত হয়ে গেল।
  • فَدَمَّرْنَاهَا تَدْمِيرًا — অতঃপর আমি তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিলাম, এমন ধ্বংস যা কিছুই অবশিষ্ট রাখে না।

তাফসীর:

যখন আমি কোনো জনপদের অধিবাসীদেরকে তাদের জুলুম ও অন্যায়ের কারণে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি, তখন আমি তাদের মধ্যে যারা বিলাসী, স্বাচ্ছন্দ্যপ্রিয় ও প্রভাবশালী — তাদেরকে আমার আনুগত্য, একত্ববাদ ও রাসূলদের সত্যায়নের নির্দেশ দিই। কিন্তু তারা সেই নির্দেশ অমান্য করে, পাপাচারে লিপ্ত হয় এবং সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে। তাদের এই অবাধ্যতার কারণেই আমার পক্ষ থেকে শাস্তির ফয়সালা অবধারিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি তাদেরকে এমনভাবে ধ্বংস করি যে, তাদের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট থাকে না — ঘর-বাড়ি, জনপদ, সবকিছু সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আল্লাহ তাদেরকে প্রথমে সতর্ক করেন এবং নেতাদের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠান, কিন্তু তারা যখন তা অমান্য করে এবং পাপাচারে লিপ্ত হয়, তখনই তাদের ধ্বংস অনিবার্য হয়ে পড়ে। এটি আল্লাহর ন্যায়বিচারেরই অংশ — তিনি কাউকে বিনা কারণে ধ্বংস করেন না; আগে সতর্ক করেন, দাওয়াত দেন, অতঃপর যখন তারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তখনই শাস্তি নেমে আসে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ কখনো অযথা কাউকে শাস্তি দেন না। তিনি আগে সতর্ক করেন, পথ দেখান, অতঃপর যখন মানুষ নিজেই সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তখনই তার উপর শাস্তি নেমে আসে। এটি আল্লাহর পরিপূর্ণ ন্যায়বিচারের প্রমাণ।
  2. সমাজের নেতা ও প্রভাবশালীদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যখন সৎপথে থাকে, সমাজ সংশোধন হয়; আর যখন তারা পাপাচারে লিপ্ত হয়, তখন সমগ্র সমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। তাই নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকা প্রত্যেকের কর্তব্য।
  3. এই আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে ভয় পেতে শেখায় এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার গুরুত্ব বোঝায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে, সে নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনে।
  4. ইসলাম একটি সতর্কতামূলক ধর্ম — আল্লাহ কাউকে অন্ধকারে রেখে শাস্তি দেন না; বরং প্রত্যেক জাতির কাছে রাসূল পাঠান, কিতাব নাজিল করেন, যাতে কেউ অজ্ঞতার অজুহাত দিতে না পারে। এটি ইসলামের ন্যায়পরায়ণতা ও মানবতার প্রতি আল্লাহর রহমতেরই প্রমাণ।


📜 আয়াত 14-18 — সূরা আল-ইসরা

14اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَىٰ بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا
পাঠ কর তুমি তোমার কিতাব। আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট।
15مَّنِ اهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ ۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا ۚ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۗ وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّىٰ نَبْعَثَ رَسُولًا
যে কেউ সৎপথে চলে, তারা নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়, তারা নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথ ভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না।
16وَإِذَا أَرَدْنَا أَن نُّهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُوا فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ فَدَمَّرْنَاهَا تَدْمِيرًا
যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তার অবস্থাপন্ন লোকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করি অতঃপর তারা পাপাচারে মেতে উঠে। তখন সে জনগোষ্টীর উপর আদেশ অবধারিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি তাকে উঠিয়ে আছাড় দেই।
17وَكَمْ أَهْلَكْنَا مِنَ الْقُرُونِ مِن بَعْدِ نُوحٍ ۗ وَكَفَىٰ بِرَبِّكَ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا
নূহের পর আমি অনেক উম্মতকে ধ্বংস করেছি। আপনার পালনকর্তাই বান্দাদের পাপাচারের সংবাদ জানা ও দেখার জন্যে যথেষ্ট।
18مَّن كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَن نُّرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ يَصْلَاهَا مَذْمُومًا مَّدْحُورًا
যে কেউ ইহকাল কামনা করে, আমি সেসব লোককে যা ইচ্ছা সত্ত্বর দিয়ে দেই। অতঃপর তাদের জন্যে জাহান্নাম নির্ধারণ করি। ওরা তাতে নিন্দিত-বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করবে।
আল-ইসরাকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
16আয়াত

অনুবাদ — আল-ইসরা 16

সূরা আল-ইসরা আয়াত 16 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তার…

সূরা আয়াত 16/111 — সূরা আল-ইসরা الإسراء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ইসরা শুনুন, সূরা আল-ইসরা অনুবাদ, সূরা আল-ইসরা mp3, সূরা আল-ইসরা pdf. আয়াত 14–18. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না