আল-ইসরা · 54/111
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ইসরা
رَّبُّكُمْ أَعْلَمُ بِكُمْ ۖ إِن يَشَأْ يَرْحَمْكُمْ أَوْ إِن يَشَأْ يُعَذِّبْكُمْ ۚ وَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا ۝٥٤
Rabbukum a`lamu bikum iny yashaaa yarhamkum aw iny yashaa yu`azzibkum; wa maaa arsalnaaka `alaihim wakeelaa
📖 বাংলা অর্থ
তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন। তিনি যদি চান, তোমাদের প্রতি রহমত করবেন কিংবা যদি চান, তোমাদের আযাব দিবেন। আমি আপনাকে ওদের সবার তত্ত্বাবধায়ক রূপে প্রেরণ করিনি।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • وَكِيلًا — তত্ত্বাবধায়ক, জিম্মাদার, বা কর্মসম্পাদনকারী প্রতিনিধি।

তাফসির:

হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তোমাদের অন্তরের অবস্থা, বিশ্বাস ও কর্ম—সবকিছুই তাঁর জ্ঞানের আওতাভুক্ত। তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি রহমত করেন, অর্থাৎ তোমাদেরকে ঈমান ও সৎকর্মের তাওফিক দান করেন, ফলে তোমরা জান্নাত লাভ করো। আবার তিনি চাইলে তোমাদের শাস্তিও দিতে পারেন, অর্থাৎ তোমাদেরকে কুফরি ও শিরকের উপর মৃত্যু দেন, যার পরিণাম জাহান্নাম। এখানে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট করে দিচ্ছেন যে, হেদায়াত ও গোমরাহি সম্পূর্ণরূপে তাঁর ইচ্ছাধীন। তিনি যাকে চান ঈমানের তাওফিক দেন এবং যাকে চান শাস্তির পথে ছেড়ে দেন। কেউ তাঁর ইচ্ছাকে বাধা দিতে পারে না।

এরপর আল্লাহ তাঁর রাসূল ﷺ-কে উদ্দেশ্য করে বলেন: হে নবী! আমি আপনাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক বা জিম্মাদার বানিয়ে পাঠাইনি, যাতে আপনি তাদেরকে জোর করে ঈমান আনান বা তাদের কর্মের হিসাব নেন। আপনার দায়িত্ব শুধু আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং সত্য পথ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা। তাদের হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদান দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ আমারই। আপনি তাদের ঈমান আনার জন্য দায়ী নন, বরং আপনার কর্তব্য হলো দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া এবং তাদেরকে সতর্ক করা।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি বান্দার অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো কিছু গোপন নেই। এই বিশ্বাস মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি গভীর ভয় ও শ্রদ্ধা সৃষ্টি করে।
  2. রহমত ও শাস্তি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। এটি আমাদের শেখায় যে, আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর রহমতের আশা করা এবং তাঁর শাস্তি থেকে ভয় করা—এই দুই অবস্থার মধ্যেই জীবন যাপন করা।
  3. রাসূল ﷺ-এর দায়িত্ব ছিল শুধু প্রচার ও তাবলিগ। এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, দ্বীনের দাওয়াতের কাজে ফলাফল আল্লাহর হাতে, মানুষের হাতে নয়। তাই দাওয়াতদাতার উচিত ধৈর্য ধরে শুধু সত্য পৌঁছে দেওয়া, আর ফলাফল আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়া।
  4. ইসলামে জবরদস্তি নেই। ঈমান আনার ব্যাপারে কাউকে বাধ্য করা হয় না, বরং সত্য স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়ার পর মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হয়। এটি ইসলামের সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচায়ক।
  5. এই আয়াত মুমিনকে শেখায় যে, মানুষের প্রতি আল্লাহর রহমত অর্জনের উপায় হলো ঈমান ও সৎকর্ম। আর শাস্তি থেকে বাঁচার উপায় হলো কুফরি ও গুনাহ থেকে দূরে থাকা।


📜 আয়াত 52-56 — সূরা আল-ইসরা

52يَوْمَ يَدْعُوكُمْ فَتَسْتَجِيبُونَ بِحَمْدِهِ وَتَظُنُّونَ إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا
যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহবান করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে চলে আসবে। এবং তোমরা অনুমান করবে যে, সামান্য সময়ই অবস্থান করেছিলে।
53وَقُل لِّعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنزَغُ بَيْنَهُمْ ۚ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلْإِنسَانِ عَدُوًّا مُّبِينًا
আমার বান্দাদেরকে বলে দিন, তারা যেন যা উত্তম এমন কথাই বলে। শয়তান তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধায়। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
54رَّبُّكُمْ أَعْلَمُ بِكُمْ ۖ إِن يَشَأْ يَرْحَمْكُمْ أَوْ إِن يَشَأْ يُعَذِّبْكُمْ ۚ وَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا
তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন। তিনি যদি চান, তোমাদের প্রতি রহমত করবেন কিংবা যদি চান, তোমাদের আযাব দিবেন। আমি আপনাকে ওদের সবার তত্ত্বাবধায়ক রূপে প্রেরণ করিনি।
55وَرَبُّكَ أَعْلَمُ بِمَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَلَقَدْ فَضَّلْنَا بَعْضَ النَّبِيِّينَ عَلَىٰ بَعْضٍ ۖ وَآتَيْنَا دَاوُودَ زَبُورًا
আপনার পালনকর্তা তাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন, যারা আকাশসমূহে ও ভুপৃষ্ঠে রয়েছে। আমি তো কতক পয়গম্বরকে কতক পয়গম্বরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি এবং দাউদকে যবুর দান করেছি।
56قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا
বলুনঃ আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর। অথচ ওরা তো তোমাদের কষ্ট দুর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা পরিবর্তনও করতে পারে না।
আল-ইসরাকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
54আয়াত

অনুবাদ — আল-ইসরা 54

সূরা আল-ইসরা আয়াত 54 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন। তিনি যদি চান,…

সূরা আয়াত 54/111 — সূরা আল-ইসরা الإسراء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ইসরা শুনুন, সূরা আল-ইসরা অনুবাদ, সূরা আল-ইসরা mp3, সূরা আল-ইসরা pdf. আয়াত 52–56. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না