Wa Rabbuka a`lamu biman fis samaawaati wal lard; wa laqad faddalnaa ba`dan Nabiyyeena `alaa ba`dinw wa aatainaaa Daawooda Zabooraa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আপনার পালনকর্তা তাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন, যারা আকাশসমূহে ও ভুপৃষ্ঠে রয়েছে। আমি তো কতক পয়গম্বরকে কতক পয়গম্বরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি এবং দাউদকে যবুর দান করেছি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और जो लोग आसमानों में है और ज़मीन पर हैं (सब को) तुम्हारा परवरदिगार खूब जानता है और हम ने यक़ीनन बाज़ पैग़म्बरों को बाज़ पर फज़ीलत दी और हम ही ने दाऊद को जूबूर अता की
আপনার পালনকর্তা তাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন, যারা আকাশসমূহে ও ভুপৃষ্ঠে রয়েছে। আমি তো কতক পয়গম্বরকে কতক পয়গম্বরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি এবং দাউদকে যবুর দান করেছি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
আ‘লামু — সর্বাধিক জ্ঞাত, সবচেয়ে ভালো জানেন।
ফাদ্দালনা — আমরা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
যাবূর — দাউদ (আঃ)-এর উপর অবতীর্ণ আসমানী কিতাব।
তাফসীর:
হে নবী! আপনার রব আসমান ও জমিনের সকল কিছু সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তিনি জানেন কে কী অবস্থায় আছে, কার কী প্রাপ্য। কেউ তাঁর জ্ঞান ও দৃষ্টির বাইরে নয়। আর আমিই কিছু নবীকে অন্যদের উপর মর্যাদা দান করেছি — যেমন ইবরাহীমকে বন্ধুত্বের মর্যাদা, মূসাকে সরাসরি কথোপকথনের মর্যাদা, ঈসাকে অলৌকিক জন্ম ও মিরাজের মর্যাদা, এবং মুহাম্মদ (সাঃ)-কে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা ও কুরআন দান করেছি। তদ্রূপ আমি দাউদ (আঃ)-কে ‘যাবূর’ কিতাব দান করে বিশেষ সম্মানিত করেছি।
এ আয়াতের প্রেক্ষাপটে মক্কার কাফিররা বলত, দাউদ (আঃ)-কে যদি যাবূর দেওয়া হয়, তবে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে কেন কুরআন দেওয়া হলো? উত্তরে বলা হচ্ছে — আল্লাহই জানেন কাকে কী দেবেন। তিনি যেমন দাউদকে যাবূর দিয়ে সম্মানিত করেছেন, তেমনি মুহাম্মদ (সাঃ)-কে কুরআন দিয়ে সর্বোচ্চ সম্মানিত করেছেন। নবীদের মধ্যে স্তরভেদ রয়েছে — কাউকে বেশি কিতাব, বেশি মু‘জিযা, বেশি উম্মত দেওয়া হয়েছে। আর মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, তাঁর উপর কুরআন নাযিল হওয়াই তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর জ্ঞান অসীম — তিনি প্রতিটি সৃষ্টির অবস্থা, প্রয়োজন ও উপযুক্ততা সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। তাই তাঁর সিদ্ধান্তই সর্বোত্তম।
নবীদের মধ্যে মর্যাদার তারতম্য রয়েছে — এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। কারো প্রতি হিংসা বা কারো মর্যাদা অস্বীকার করা উচিত নয়।
আল্লাহ যাকে যা দেন, তা তাঁরই প্রজ্ঞা অনুযায়ী — দাউদ (আঃ)-কে যাবূর দেওয়া যেমন তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ, তেমনি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে কুরআন দেওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ।
কুরআন প্রাপ্তি আমাদের জন্য গর্বের বিষয় — এই কিতাবের মাধ্যমে আমরা সঠিক পথ পেয়েছি। তাই আমাদের উচিত কুরআন পড়া, বোঝা এবং অনুযায়ী আমল করা।
আল্লাহর বণ্টনে কোনো অন্যায় নেই — তিনি প্রত্যেককে তার উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়েছেন। আমাদের উচিত তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা।
তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন। তিনি যদি চান, তোমাদের প্রতি রহমত করবেন কিংবা যদি চান, তোমাদের আযাব দিবেন। আমি আপনাকে ওদের সবার তত্ত্বাবধায়ক রূপে প্রেরণ করিনি।
আপনার পালনকর্তা তাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন, যারা আকাশসমূহে ও ভুপৃষ্ঠে রয়েছে। আমি তো কতক পয়গম্বরকে কতক পয়গম্বরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি এবং দাউদকে যবুর দান করেছি।
যাদেরকে তারা আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য মধ্যস্থ তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে নৈকট্যশীল। তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার শাস্তি ভয়াবহ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।