আল-কাহফ · 19/110
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-কাহফ
وَكَذَٰلِكَ بَعَثْنَاهُمْ لِيَتَسَاءَلُوا بَيْنَهُمْ ۚ قَالَ قَائِلٌ مِّنْهُمْ كَمْ لَبِثْتُمْ ۖ قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۚ قَالُوا رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُمْ فَابْعَثُوا أَحَدَكُم بِوَرِقِكُمْ هَٰذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنظُرْ أَيُّهَا أَزْكَىٰ طَعَامًا فَلْيَأْتِكُم بِرِزْقٍ مِّنْهُ وَلْيَتَلَطَّفْ وَلَا يُشْعِرَنَّ بِكُمْ أَحَدًا ۝١٩
Wa kazaalika ba`asnaahum liyatasaaa`aloo bainahum; qaala qaaa`ilum minhum kam labistum qaaloo labisnaa yawman aw ba`da yawm; qaaloo Rabbukum a`almu bimaa labistum fab`asooo ahadakum biwariqikum haazihee ilal madeenati falyanzur ayyuhaaa azkaa ta`aaman falyaatikum birizqim minhu walyatalattaf wa laa yush`iranna bikum ahadaa
📖 বাংলা অর্থ
আমি এমনি ভাবে তাদেরকে জাগ্রত করলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন বললঃ তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? তাদের কেউ বললঃ একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করছি। কেউ কেউ বললঃ তোমাদের পালনকর্তাই ভাল জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর; সে যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য নিয়ে আসে তোমাদের জন্য; সে যেন নম্রতা সহকারে যায় ও কিছুতেই যেন তোমাদের খবর কাউকে না জানায়।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • بَعَثْنَاهُمْ – আমরা তাদের জাগ্রত করলাম।
  • لِيَتَسَاءَلُوا – যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে।
  • وَرِقِكُمْ – তোমাদের রূপার মুদ্রা (সে সময়ের প্রচলিত অর্থ)।
  • أَزْكَى طَعَامًا – সবচেয়ে পবিত্র ও উত্তম খাদ্য (যা হালাল ও পবিত্র উপায়ে অর্জিত)।
  • وَلْيَتَلَطَّفْ – সে যেন নম্রতা ও সতর্কতার সাথে কাজ করে।
  • لَا يُشْعِرَنَّ – সে যেন কাউকে জানাতে না পারে।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

যেভাবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে দীর্ঘ সময় ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলেন, ঠিক সেভাবেই তিনি তাদেরকে জাগ্রত করলেন—তাদের শরীর ও অবস্থা অপরিবর্তিত রেখে—যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে বুঝতে পারে কী ঘটেছে। তাদের একজন জিজ্ঞেস করল, “তোমরা কতদিন অবস্থান করেছ?” কেউ কেউ বলল, “একদিন বা একদিনের কিছু অংশ।” কিন্তু প্রকৃত সময় সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল অস্পষ্ট, তাই অন্যরা বলল, “তোমাদের রবই ভালো জানেন আমরা কতদিন অবস্থান করেছি।” অতঃপর তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, সময় নিয়ে বিতর্ক না করে বরং বাস্তব প্রয়োজন মেটানো উচিত। তারা বলল, “তোমাদের এই রূপার মুদ্রাগুলোর একটি নিয়ে তোমাদের একজনকে শহরে পাঠাও। সে যেন দেখে কোন দোকানদারের খাদ্য সবচেয়ে পবিত্র ও উত্তম—যা হালাল উপায়ে অর্জিত—এবং সেখান থেকে তোমাদের জন্য রিযিক নিয়ে আসে। তবে সে যেন অত্যন্ত সতর্ক ও নম্র আচরণ করে, যাতে কেউ তার গতিবিধি টের না পায় এবং তোমাদের অবস্থান সম্পর্কে কাউকে না জানায়।” কারণ তারা জানত, তাদের আবিষ্কৃত হলে রাজা বা জনগণ তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে অথবা তাদের ক্ষতি করবে।

উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. আল্লাহর ক্ষমতা অসীম—তিনি যাকে ইচ্ছা দীর্ঘ সময় ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারেন এবং আবার জাগ্রত করতে পারেন, যা তাঁর কুদরতের প্রমাণ।
  2. সময় নিয়ে অহেতুক বিতর্ক না করে বরং বাস্তব প্রয়োজনীয় কাজে মনোনিবেশ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
  3. জীবিকা অর্জনে হালাল ও পবিত্র উপায় অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—খাদ্য যেন সন্দেহমুক্ত ও বৈধ হয়।
  4. দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সতর্ক, নম্র ও বিচক্ষণ হতে হবে, বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতিতে।
  5. নিজের নিরাপত্তা ও দ্বীন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা বজায় রাখা জায়েয, যদি তা শরী‘আতসম্মত হয়।
  6. মুমিনদের পারস্পরিক পরামর্শ ও ঐক্য—তারা একে অপরের কল্যাণে কাজ করে এবং দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
  7. আল্লাহর ওপর ভরসা করা—যখন কিছু জানা না যায়, তখন বিষয়টি আল্লাহর জ্ঞানের ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং নিজের কর্তব্য পালন করা।


📜 আয়াত 17-21 — আল-কাহফ

17۞ وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَت تَّزَاوَرُ عَن كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَت تَّقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ وَهُمْ فِي فَجْوَةٍ مِّنْهُ ۚ ذَٰلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ ۗ مَن يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ ۖ وَمَن يُضْلِلْ فَلَن تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُّرْشِدًا
তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বামদিকে চলে যায়, অথচ তারা গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত। এটা আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্যতম। আল্লাহ যাকে সৎপথে চালান, সেই সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনও তার জন্যে পথপ্রদর্শনকারী ও সাহায্যকারী পাবেন না।
18وَتَحْسَبُهُمْ أَيْقَاظًا وَهُمْ رُقُودٌ ۚ وَنُقَلِّبُهُمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَذَاتَ الشِّمَالِ ۖ وَكَلْبُهُم بَاسِطٌ ذِرَاعَيْهِ بِالْوَصِيدِ ۚ لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا
তুমি মনে করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাই ডান দিকে ও বাম দিকে। তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে। যদি তুমি উঁকি দিয়ে তাদেরকে দেখতে, তবে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতংক গ্রস্ত হয়ে পড়তে।
19وَكَذَٰلِكَ بَعَثْنَاهُمْ لِيَتَسَاءَلُوا بَيْنَهُمْ ۚ قَالَ قَائِلٌ مِّنْهُمْ كَمْ لَبِثْتُمْ ۖ قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۚ قَالُوا رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُمْ فَابْعَثُوا أَحَدَكُم بِوَرِقِكُمْ هَٰذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنظُرْ أَيُّهَا أَزْكَىٰ طَعَامًا فَلْيَأْتِكُم بِرِزْقٍ مِّنْهُ وَلْيَتَلَطَّفْ وَلَا يُشْعِرَنَّ بِكُمْ أَحَدًا
আমি এমনি ভাবে তাদেরকে জাগ্রত করলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন বললঃ তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? তাদের কেউ বললঃ একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করছি। কেউ কেউ বললঃ তোমাদের পালনকর্তাই ভাল জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর; সে যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য নিয়ে আসে তোমাদের জন্য; সে যেন নম্রতা সহকারে যায় ও কিছুতেই যেন তোমাদের খবর কাউকে না জানায়।
20إِنَّهُمْ إِن يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ يَرْجُمُوكُمْ أَوْ يُعِيدُوكُمْ فِي مِلَّتِهِمْ وَلَن تُفْلِحُوا إِذًا أَبَدًا
তারা যদি তোমাদের খবর জানতে পারে, তবে পাথর মেরে তোমাদেরকে হত্যা করবে, অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নেবে। তাহলে তোমরা কখনই সাফল্য লাভ করবে না।
21وَكَذَٰلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ ۖ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِم بُنْيَانًا ۖ رَّبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ ۚ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَىٰ أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِم مَّسْجِدًا
এমনিভাবে আমি তাদের খবর প্রকাশ করে দিলাম, যাতে তারা জ্ঞাত হয় যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের কর্তব্য বিষয়ে পরস্পর বিতর্ক করছিল, তখন তারা বললঃ তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর। তাদের পালনকর্তা তাদের বিষয়ে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল, তারা বললঃ আমরা অবশ্যই তাদের স্থানে মসজিদ নির্মান করব।
আল-কাহফকুরআন সূচী
110আয়াত
মাক্কীRevelation
19আয়াত

অনুবাদ — আল-কাহফ 19

সূরা আল-কাহফ আয়াত 19 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমি এমনি ভাবে তাদেরকে জাগ্রত করলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ…

সূরা আয়াত 19/110 — আল-কাহফ الكهف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-কাহফ শুনুন, আল-কাহফ অনুবাদ, আল-কাহফ mp3, আল-কাহফ pdf. আয়াত 17–21. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না