Wa man azlamu mimman zukkira bi ayaati Rabbihee fa-a`rada `anhaa wa nasiya maa qaddamat yadaah; innaa ja`alnaa `alaa quloobihim akinnatan any yafqahoohu wa feee aazaanihim waqraa; wa in tad`uhum ilal hudaa falany yahtadooo izan abadaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और उससे बढ़कर और कौन ज़ालिम होगा जिसको ख़ुदा की आयतें याद दिलाई जाए और वह उनसे रद गिरदानी (मुँह फेर ले) करे और अपने पहले करतूतों को जो उसके हाथों ने किए हैं भूल बैठे (गोया) हमने खुद उनके दिलों पर परदे डाल दिए हैं कि वह (हक़ बात को) न समझ सकें और (गोया) उनके कानों में गिरानी पैदा कर दी है कि (सुन न सकें) और अगर तुम उनको राहे रास्त की तरफ़ बुलाओ भी तो ये हरगिज़ कभी रुबरु होने वाले नहीं हैं
ذُكِّرَ – উপদেশ দেওয়া হলো, স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো।
فَأَعْرَضَ عَنْهَا – তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, উপেক্ষা করল।
وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ – সে ভুলে গেল যা তার হাত আগে পাঠিয়েছে (অর্থাৎ তার কৃতকর্ম, পাপ ও সীমালঙ্ঘন)।
أَكِنَّةً – আবরণসমূহ, ঢাকনা (একবচন: কিন্নুন)।
وَقْرًا – বধিরতা, ভারী ভাব, শ্রবণশক্তির উপর পর্দা।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে ঘোষণা করছেন যে, তার চেয়ে বেশি জালিম বা অত্যাচারী আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হলো—যা স্পষ্ট, সুস্পষ্ট ও হক—কিন্তু সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, কোনো গুরুত্ব দিল না এবং আমল করা ছেড়ে দিল। অথচ সে ভুলে গেল তার নিজের হাত যা আগে পাঠিয়েছে, অর্থাৎ কুফরি, শিরক ও পাপাচারের যে কাজ সে করেছে, তার পরিণতি সম্পর্কে সে চিন্তাই করল না এবং তওবা করল না।
এরপর আল্লাহ বলেন, এমন লোকদের ব্যাপারে আমরা তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি, যাতে তারা কুরআন বুঝতে না পারে এবং এর মধ্যে থাকা কল্যাণ ও হেদায়াত উপলব্ধি করতে না পারে। আর তাদের কানে রেখেছি বধিরতা বা ভারী ভাব, যাতে তারা সত্যের কথা শুনলেও তা কবুলের দৃষ্টিতে শুনতে না পারে। ফলে হে নবী! তুমি তাদেরকে হেদায়াতের দিকে ডাকলেও তারা কখনো সত্য পথে আসবে না, কারণ তাদের অন্তর ও কান সত্য গ্রহণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটি তাদের নিজেদের অবাধ্যতা ও সত্য প্রত্যাখ্যানের ফল।
আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:
সবচেয়ে বড় জুলুম হলো সত্য উপেক্ষা করা: যে ব্যক্তি কুরআন ও নবীর শিক্ষা পেয়েও তা আমল করে না এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে নিজের উপরই সবচেয়ে বড় অত্যাচার করে। কারণ সে নিজেকে জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে বঞ্চিত করে।
কৃতকর্ম ভুলে না যাওয়া: মানুষ যেন মনে রাখে, তার প্রতিটি কাজ আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত। পাপ করেও যদি সে উদাসীন থাকে এবং তওবা না করে, তবে তা তার জন্য ধ্বংসের কারণ হবে। তাই প্রতিটি মুহূর্তে নিজের আমল সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
অবাধ্যতার পরিণতি: যখন মানুষ বারবার সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং পাপে লিপ্ত থাকে, তখন আল্লাহ তার অন্তর ও কান সত্য গ্রহণের জন্য বন্ধ করে দেন। এটি একটি ভয়ংকর অবস্থা—যার কারণে মানুষ হেদায়াত পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়। তাই সত্য পাওয়ার সাথে সাথেই তা গ্রহণ করা উচিত, দেরি করা উচিত নয়।
দাওয়াতের দায়িত্ব পালন: নবীজীর মতো আমাদেরও দায়িত্ব হলো সত্যের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু কারো অন্তর বন্ধ থাকলে তাকে হেদায়াত দেওয়া আমাদের ক্ষমতার বাইরে। হেদায়াত দানকারী একমাত্র আল্লাহ। তাই নিরাশ না হয়ে দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং আল্লাহর কাছে হেদায়াতের জন্য দু‘আ করতে হবে।
কুরআন বুঝার গুরুত্ব: কুরআন বুঝে পড়া ও তার উপর আমল করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। যে কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে নিজের ক্ষতিই করে। আর যে কুরআনকে ভালোবাসে ও বুঝে, আল্লাহ তাকে অন্তরের জ্ঞান ও হেদায়াত দান করেন।
তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।
হেদায়েত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং তাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত রাখে যে, কখন আসবে তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অথবা কখন আসবে তাদের কাছেআযাব সামনাসামনি।
আমি রাসূলগনকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি এবং কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও যদ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে।
তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।
আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।