আল-কাহফ · 57/110
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-কাহফ
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ ۚ إِنَّا جَعَلْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا ۖ وَإِن تَدْعُهُمْ إِلَى الْهُدَىٰ فَلَن يَهْتَدُوا إِذًا أَبَدًا ۝٥٧
Wa man azlamu mimman zukkira bi ayaati Rabbihee fa-a`rada `anhaa wa nasiya maa qaddamat yadaah; innaa ja`alnaa `alaa quloobihim akinnatan any yafqahoohu wa feee aazaanihim waqraa; wa in tad`uhum ilal hudaa falany yahtadooo izan abadaa
📖 বাংলা অর্থ
তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • ذُكِّرَ – উপদেশ দেওয়া হলো, স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো।
  • فَأَعْرَضَ عَنْهَا – তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, উপেক্ষা করল।
  • وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ – সে ভুলে গেল যা তার হাত আগে পাঠিয়েছে (অর্থাৎ তার কৃতকর্ম, পাপ ও সীমালঙ্ঘন)।
  • أَكِنَّةً – আবরণসমূহ, ঢাকনা (একবচন: কিন্নুন)।
  • وَقْرًا – বধিরতা, ভারী ভাব, শ্রবণশক্তির উপর পর্দা।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে ঘোষণা করছেন যে, তার চেয়ে বেশি জালিম বা অত্যাচারী আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হলো—যা স্পষ্ট, সুস্পষ্ট ও হক—কিন্তু সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, কোনো গুরুত্ব দিল না এবং আমল করা ছেড়ে দিল। অথচ সে ভুলে গেল তার নিজের হাত যা আগে পাঠিয়েছে, অর্থাৎ কুফরি, শিরক ও পাপাচারের যে কাজ সে করেছে, তার পরিণতি সম্পর্কে সে চিন্তাই করল না এবং তওবা করল না।

এরপর আল্লাহ বলেন, এমন লোকদের ব্যাপারে আমরা তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি, যাতে তারা কুরআন বুঝতে না পারে এবং এর মধ্যে থাকা কল্যাণ ও হেদায়াত উপলব্ধি করতে না পারে। আর তাদের কানে রেখেছি বধিরতা বা ভারী ভাব, যাতে তারা সত্যের কথা শুনলেও তা কবুলের দৃষ্টিতে শুনতে না পারে। ফলে হে নবী! তুমি তাদেরকে হেদায়াতের দিকে ডাকলেও তারা কখনো সত্য পথে আসবে না, কারণ তাদের অন্তর ও কান সত্য গ্রহণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটি তাদের নিজেদের অবাধ্যতা ও সত্য প্রত্যাখ্যানের ফল।


আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:

  1. সবচেয়ে বড় জুলুম হলো সত্য উপেক্ষা করা: যে ব্যক্তি কুরআন ও নবীর শিক্ষা পেয়েও তা আমল করে না এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে নিজের উপরই সবচেয়ে বড় অত্যাচার করে। কারণ সে নিজেকে জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে বঞ্চিত করে।
  2. কৃতকর্ম ভুলে না যাওয়া: মানুষ যেন মনে রাখে, তার প্রতিটি কাজ আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত। পাপ করেও যদি সে উদাসীন থাকে এবং তওবা না করে, তবে তা তার জন্য ধ্বংসের কারণ হবে। তাই প্রতিটি মুহূর্তে নিজের আমল সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
  3. অবাধ্যতার পরিণতি: যখন মানুষ বারবার সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং পাপে লিপ্ত থাকে, তখন আল্লাহ তার অন্তর ও কান সত্য গ্রহণের জন্য বন্ধ করে দেন। এটি একটি ভয়ংকর অবস্থা—যার কারণে মানুষ হেদায়াত পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়। তাই সত্য পাওয়ার সাথে সাথেই তা গ্রহণ করা উচিত, দেরি করা উচিত নয়।
  4. দাওয়াতের দায়িত্ব পালন: নবীজীর মতো আমাদেরও দায়িত্ব হলো সত্যের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু কারো অন্তর বন্ধ থাকলে তাকে হেদায়াত দেওয়া আমাদের ক্ষমতার বাইরে। হেদায়াত দানকারী একমাত্র আল্লাহ। তাই নিরাশ না হয়ে দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং আল্লাহর কাছে হেদায়াতের জন্য দু‘আ করতে হবে।
  5. কুরআন বুঝার গুরুত্ব: কুরআন বুঝে পড়া ও তার উপর আমল করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। যে কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে নিজের ক্ষতিই করে। আর যে কুরআনকে ভালোবাসে ও বুঝে, আল্লাহ তাকে অন্তরের জ্ঞান ও হেদায়াত দান করেন।


📜 আয়াত 55-59 — আল-কাহফ

55وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَن يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَىٰ وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًا
হেদায়েত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং তাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত রাখে যে, কখন আসবে তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অথবা কখন আসবে তাদের কাছেআযাব সামনাসামনি।
56وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ ۚ وَيُجَادِلُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ ۖ وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَمَا أُنذِرُوا هُزُوًا
আমি রাসূলগনকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি এবং কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও যদ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে।
57وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ ۚ إِنَّا جَعَلْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا ۖ وَإِن تَدْعُهُمْ إِلَى الْهُدَىٰ فَلَن يَهْتَدُوا إِذًا أَبَدًا
তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।
58وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ ۖ لَوْ يُؤَاخِذُهُم بِمَا كَسَبُوا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابَ ۚ بَل لَّهُم مَّوْعِدٌ لَّن يَجِدُوا مِن دُونِهِ مَوْئِلًا
আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না।
59وَتِلْكَ الْقُرَىٰ أَهْلَكْنَاهُمْ لَمَّا ظَلَمُوا وَجَعَلْنَا لِمَهْلِكِهِم مَّوْعِدًا
এসব জনপদও তাদেরকে আমি ধংস করে দিয়েছি, যখন তারা জালেম হয়ে গিয়েছিল এবং আমি তাদের ধ্বংসের জন্যে একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করেছিলাম।
আল-কাহফকুরআন সূচী
110আয়াত
মাক্কীRevelation
57আয়াত

অনুবাদ — আল-কাহফ 57

সূরা আল-কাহফ আয়াত 57 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা…

সূরা আয়াত 57/110 — আল-কাহফ الكهف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-কাহফ শুনুন, আল-কাহফ অনুবাদ, আল-কাহফ mp3, আল-কাহফ pdf. আয়াত 55–59. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না