Wa Rabbukal Ghafooru zur rahmati law yu`aakhi zuhum bimaa kasaboo la`ajala lahumul `azaab; bal lahum maw`idul lany yajidoo min doonihee maw`ilaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (ऐ रसूल) तुम्हारा परवरदिगार तो बड़ा बख्शने वाला मेहरबान है अगर उनकी करतूतों की सज़ा में धर पकड़ करता तो फौरन (दुनिया ही में) उन पर अज़ाब नाज़िल कर देता मगर उनके लिए तो एक मियाद (मुक़र्रर) है जिससे खुदा के सिवा कहीें पनाह की जगह न पाएंगें
আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
الْغَفُورُ — অতি ক্ষমাশীল, যে বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন।
ذُو الرَّحْمَةِ — অপরিসীম দয়ার অধিকারী।
يُؤَاخِذُهُم — তাদেরকে পাকড়াও করেন, শাস্তি দেন।
بِمَا كَسَبُوا — যা কিছু তারা অর্জন করেছে (পাপকর্মের কারণে)।
لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابَ — অবশ্যই তাদের জন্য শাস্তি ত্বরান্বিত করতেন।
مَوْعِدٌ — নির্ধারিত সময়, প্রতিশ্রুত সময়।
مَوْئِلًا — আশ্রয়স্থল, রক্ষা পাওয়ার জায়গা, নিষ্কৃতির পথ।
তাফসীর:
হে নবী! আপনার রব অতি ক্ষমাশীল এবং তিনি অসীম দয়ার মালিক। তাঁর ক্ষমা ও দয়ার কারণেই তিনি বান্দাদের ওপর দ্রুত শাস্তি নাযিল করেন না। তিনি পাপী বান্দাদেরকে অবকাশ দেন, যাতে তারা তওবা করে তাঁর দিকে ফিরে আসে। যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের কারণে সাথে সাথে পাকড়াও করতেন, তবে এই সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের ওপর দুনিয়াতেই শাস্তি নেমে আসত এবং তাদের জন্য কোনো অবকাশই থাকত না। কিন্তু তিনি অত্যন্ত সহনশীল ও দয়ালু, তাই তিনি শাস্তি বিলম্বিত করেছেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, তারা শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে। বরং তাদের জন্য একটি নির্ধারিত সময় ও স্থান রয়েছে— কিয়ামতের দিন। সেদিন তাদেরকে তাদের সমস্ত কর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে। সেই দিন থেকে বাঁচার জন্য তারা কোনো আশ্রয়স্থল, কোনো রক্ষাকবচ বা কোনো নিষ্কৃতির পথ খুঁজে পাবে না। আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচার কোনো উপায় তাদের জন্য থাকবে না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া অপরিসীম। তিনি বান্দার ছোট-বড় সব গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন, যদি বান্দা আন্তরিকভাবে তওবা করে।
আল্লাহর ধৈর্য ও সহনশীলতা আমাদের জন্য রহমত। তিনি আমাদের ভুলের শাস্তি সাথে সাথে দেন না, বরং সুযোগ দেন সংশোধনের। আমাদের উচিত এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।
দুনিয়ার জীবনে শাস্তি না আসার অর্থ এই নয় যে, আমরা নিরাপদ। প্রতিটি কাজের হিসাব অবশ্যই হবে। আখিরাতের কঠিন দিনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো তাঁরই দিকে ফিরে আসা, তাঁরই আশ্রয় নেওয়া। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর আনুগত্য করে, সে-ই সত্যিকারের নিরাপদ।
এই আয়াত আমাদেরকে আশা ও ভয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে শেখায়। একদিকে আল্লাহর ক্ষমা ও দয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, অন্যদিকে তাঁর শাস্তির সতর্কবাণীও জানিয়ে দেয়, যাতে আমরা উদাসীন না হয়ে যাই।
আমি রাসূলগনকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি এবং কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও যদ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে।
তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।
আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।