Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- مَتَّعْنَا - আমরা ভোগ-সম্পদ দান করেছি, অবকাশ দিয়েছি
- طَالَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ - তাদের বয়স দীর্ঘ হয়েছে, অনেক দিন পেরিয়ে গেছে
- نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا - আমরা পৃথিবীকে তার প্রান্তসমূহ থেকে ক্রমশ সংকুচিত করে দিচ্ছি
- أَفَهُمُ الْغَالِبُونَ - তবে কি তারাই বিজয়ী?
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এখানে কাফিরদের সেই ভ্রান্ত ধারণার কথা উল্লেখ করছেন, যারা মনে করে যে, তাদেরকে দুনিয়ায় যে সুখ-সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু দেওয়া হয়েছে, তা তাদের সম্মান ও মর্যাদার কারণে। অথচ বাস্তবতা হলো, এটি তাদের জন্য ধীরে ধীরে শাস্তি আনার একটি উপায় মাত্র।
আল্লাহ বলেন, "বরং আমি তাদেরকে এবং তাদের পূর্বপুরুষদেরকে দুনিয়ার ভোগ-সম্পদ দান করেছি, এমনকি তাদের বয়স দীর্ঘ হয়ে গেছে।" অর্থাৎ, আমি তাদেরকে দীর্ঘ জীবন ও প্রচুর সম্পদ দিয়েছি, কিন্তু তারা তা দেখে অহংকারে মেতে উঠেছে এবং মনে করেছে যে, তাদের উপর কোনো শাস্তি আসবে না। তারা ভুলে গেছে যে, এই দীর্ঘায়ু ও সম্পদই তাদের জন্য পরীক্ষা।
এরপর আল্লাহ তাদের জ্ঞানচক্ষু খোলার জন্য বলেন, "তারা কি দেখতে পায় না যে, আমি পৃথিবীকে তার প্রান্তসমূহ থেকে ক্রমশ সংকুচিত করে দিচ্ছি?" এর অর্থ হলো, আল্লাহ তাআলা কাফিরদের এলাকা ও শক্তি постепенно হ্রাস করছেন, তাদের পরাজয় ঘটাচ্ছেন, আর মুমিনদের প্রভাব ও এলাকা বিস্তৃত করছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে মক্কার কাফিররা নিজ চোখে দেখেছে যে, ইসলামের আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে, আর তাদের শক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রতিটি যুদ্ধে তারা পরাজিত হচ্ছে, তাদের নেতারা মারা যাচ্ছে, আর মুসলিমরা বিজয়ী হচ্ছে।
তারপর আল্লাহ তাআলা প্রশ্নবোধক স্বরে বলেন, "তবে কি তারাই বিজয়ী?" অর্থাৎ, এই অবস্থায় কি তারা মনে করে যে, তারা আল্লাহকে পরাজিত করতে পারবে? অথবা তারা কি ভাবে যে, আল্লাহর শাস্তি থেকে তারা রক্ষা পাবে? না, কখনোই না। বরং বিজয় তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের, আর পরাজয় কাফিরদেরই।
এই আয়াত থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, দুনিয়ার সম্পদ ও দীর্ঘ জীবন কখনো আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়। বরং অনেক সময় এটি পরীক্ষা ও ধীরে ধীরে শাস্তির মাধ্যম হয়। আমাদের উচিত আল্লাহর নেয়ামত দেখে অহংকার না করা, বরং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
আর যারা মনে করে যে, তারা আল্লাহর শক্তি থেকে বাঁচতে পারবে, তাদের উচিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া। দেখুন না, পূর্ববর্তী অনেক শক্তিশালী জাতি ছিল, যারা সম্পদ ও বাহিনীতে গর্ব করত, কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে এমনভাবে ধ্বংস করেছেন যে, তাদের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। সুতরাং, আমাদের উচিত আল্লাহর শক্তি ও কুদরতকে স্মরণ রাখা এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমীন।
📜 আয়াত 42-46 — সূরা আল-আম্বিয়া
অনুবাদ — আল-আম্বিয়া 44
সূরা আল-আম্বিয়া আয়াত 44 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বরং আমি তাদেরকে এবং তাদের বাপ-দাদাকে ভোগসম্বার দিয়েছিলাম, এমনকি তাদের…সূরা আয়াত 44/112 — সূরা আল-আম্বিয়া الأنبياء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আম্বিয়া শুনুন, সূরা আল-আম্বিয়া অনুবাদ, সূরা আল-আম্বিয়া mp3, সূরা আল-আম্বিয়া pdf. আয়াত 42–46. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আল-আম্বিয়া
পবিত্র কুরআন
Thursday, October 1, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


