আল-ইমরান · 64/200
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ইমরান
قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَىٰ كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ ۝٦٤
Qul yaa Ahlal Kitaabi ta`aalaw ilaa Kalimatin sawaaa`im bainanaa wa bainakum allaa na`buda illal laaha wa laa nushrika bihee shai`anw wa laa yattakhiza ba`dunaa ba`dan arbaabam min doonil laah; fa in tawallaw faqoolush hadoo bi annaa muslimoon
📖 বাংলা অর্থ
বলুনঃ ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • تَعَالَوْا — এসো, আসো।
  • كَلِمَةٍ سَوَاءٍ — একটি ন্যায়সংগত ও সমান কথা, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন।
  • أَرْبَابًا — প্রভু/রব (যাদেরকে উপাস্য বা আইনদাতা হিসেবে মানা হয়)।
  • تَوَلَّوْا — তারা মুখ ফিরিয়ে নিল বা বিমুখ হলো।
  • اشْهَدُوا — সাক্ষী থাকো / জেনে রাখো।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে নবী! আপনি আহলে কিতাব (ইহুদি ও খ্রিস্টান)দের বলুন: “এসো, আমরা এমন একটি ন্যায়সংগত ও অভিন্ন কথায় একত্রিত হই, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান — তা হলো: আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কাউকে শরিক করব না, এবং আমাদের কেউ যেন অন্য কাউকে আল্লাহর পরিবর্তে প্রভু বানিয়ে না নেয়।” অর্থাৎ, আমরা কেবল আল্লাহরই ইবাদত করব, তাঁরই সামনে মাথা নত করব, এবং কারো আদেশ-নিষেধকে আল্লাহর আদেশ-নিষেধের ঊর্ধ্বে স্থান দেব না। কোনো মানুষ, পীর, পুরোহিত বা ধর্মীয় নেতাকে এমনভাবে মানব না যেন তারা আল্লাহর মতো আইন প্রণয়নকারী বা উপাস্য।

এরপর আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিচ্ছেন: যদি তারা এই সত্য ও ন্যায়ের আহ্বান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তোমরা (মুসলিমরা) তাদের বলো: “তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা আল্লাহর অনুগত (মুসলিম)।” অর্থাৎ, আমরা সেই পথে আছি যা আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য — আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁরই আনুগত্য।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. একত্ববাদের আহ্বানই সকল নবী-রাসূলের মূল বাণী: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলামের মূল আহ্বান কেবল মুসলিমদের জন্য নয়, বরং সকল মানুষ — বিশেষত আহলে কিতাবদের জন্যও। এটি দেখায় ইসলাম কতটা সহনশীল ও যুক্তিসঙ্গত, কারণ এটি সবাইকে একটি অভিন্ন ও ন্যায়সংগত কথায় ডাকে।
  2. ধর্মীয় ঐক্যের সুন্দর দৃষ্টান্ত: আল্লাহ আমাদের শেখান যে, মতভেদ থাকা সত্ত্বেও আমরা যে বিষয়ে একমত — যেমন আল্লাহর একত্ববাদ — সেটিকে কেন্দ্র করে ঐক্যের আহ্বান জানানো উচিত। এটি মুসলিমদের জন্য একটি চমৎকার দাওয়াতি পদ্ধতি।
  3. আল্লাহ ছাড়া কারো অনুসরণকে উপাসনা বলে গণ্য করা হয়েছে: এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, কোনো মানুষ বা প্রতিষ্ঠানকে আল্লাহর আইনের বিপরীতে আইন প্রণয়নকারী হিসেবে মানা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তাই আমাদের জীবনযাপনে কেবল আল্লাহর বিধানকেই সর্বোচ্চ স্থান দিতে হবে।
  4. মুসলিম হওয়ার পরিচয় ও গর্ব: আয়াতের শেষ অংশে মুসলিমদের জন্য একটি সুন্দর ঘোষণা রয়েছে — আমরা আল্লাহর অনুগত। এটি আমাদের মনে আত্মবিশ্বাস ও গর্ব জাগায় যে, আমরা সঠিক পথে আছি এবং আমাদের পরিচয় হলো আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী।
  5. দাওয়াতের আদব: এই আয়াত শেখায় যে, অন্য ধর্মের মানুষদেরকে ইসলামের দিকে ডাকতে হবে নম্রতা, যুক্তি ও ন্যায়সংগত কথার মাধ্যমে, এবং তারা না মানলেও আমাদের কর্তব্য হলো আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা — হিংসা বা বিদ্বেষ নয়।


📜 আয়াত 62-66 — আল-ইমরান

62إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْقَصَصُ الْحَقُّ ۚ وَمَا مِنْ إِلَٰهٍ إِلَّا اللَّهُ ۚ وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
নিঃসন্দেহে এটাই হলো সত্য ভাষণ। আর এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই। আর আল্লাহ; তিনিই হলেন পরাক্রমশালী মহাপ্রাজ্ঞ।
63فَإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِالْمُفْسِدِينَ
তারপর যদি তারা গ্রহণ না করে, তাহলে প্রমাদ সৃষ্টিকারীদেরকে আল্লাহ জানেন।
64قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَىٰ كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ
বলুনঃ ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।
65يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تُحَاجُّونَ فِي إِبْرَاهِيمَ وَمَا أُنزِلَتِ التَّوْرَاةُ وَالْإِنجِيلُ إِلَّا مِن بَعْدِهِ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
হে আহলে কিতাবগণ! কেন তোমরা ইব্রাহীমের বিষয়ে বাদানুবাদ কর? অথচ তওরাত ও ইঞ্জিল তাঁর পরেই নাযিল হয়েছে। তোমরা কি বুঝ না?
66هَا أَنتُمْ هَٰؤُلَاءِ حَاجَجْتُمْ فِيمَا لَكُم بِهِ عِلْمٌ فَلِمَ تُحَاجُّونَ فِيمَا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
শোন! ইতিপূর্বে তোমরা যে বিষয়ে কিছু জানতে, তাই নিয়ে বিবাদ করতে। এখন আবার যে বিষয়ে তোমরা কিছুই জান না, সে বিষয়ে কেন বিবাদ করছ?
আল-ইমরানকুরআন সূচী
200আয়াত
মাদানীRevelation
64আয়াত

অনুবাদ — আল-ইমরান 64

সূরা আল-ইমরান আয়াত 64 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বলুনঃ ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও…

সূরা আয়াত 64/200 — আল-ইমরান آل عمران (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ইমরান শুনুন, আল-ইমরান অনুবাদ, আল-ইমরান mp3, আল-ইমরান pdf. আয়াত 62–66. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না