Wa ja`alnaa bainahum wa bainal qural latee baaraknaa feehaa quran zaahiratanw wa qaddamaa feehas sayr; seeroo feehaa la yaalirya wa aiyaaman aamineen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তাদের এবং যেসব জনপদের লোকদের প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছিলম সেগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অনেক দৃশ্যমান জনপদ স্থাপন করেছিলাম এবং সেগুলোতে ভ্রমণ নির্ধারিত করেছিলাম। তোমরা এসব জনপদে রাত্রে ও দিনে নিরাপদে ভ্রমণ কর।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और हम अहले सबा और (शाम) की उन बस्तियों के दरमियान जिनमें हमने बरकत अता की थी और चन्द बस्तियाँ (सरे राह) आबाद की थी जो बाहम नुमाया थीं और हमने उनमें आमद व रफ्त की राह मुक़र्रर की थी कि उनमें रातों को दिनों को (जब जी चाहे) बेखटके चलो फिरो
তাদের এবং যেসব জনপদের লোকদের প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছিলম সেগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অনেক দৃশ্যমান জনপদ স্থাপন করেছিলাম এবং সেগুলোতে ভ্রমণ নির্ধারিত করেছিলাম। তোমরা এসব জনপদে রাত্রে ও দিনে নিরাপদে ভ্রমণ কর।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
قُرًى ظَاهِرَةً – পরস্পর দৃশ্যমান ও নিকটবর্তী জনপদসমূহ।
قَدَّرْنَا – নির্ধারণ করেছিলাম, পরিমিত করেছিলাম।
السَّيْرَ – ভ্রমণ, পথ চলা।
آمِنِينَ – নিরাপদ অবস্থায়, কোনো ভয়-ভীতি ছাড়া।
তفسير:
আল্লাহ তাআলা সাবা জাতির প্রতি তাঁর বিরাট অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। তারা ইয়ামানে বসবাস করত এবং তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ ছিল ইয়ামান থেকে শাম (সিরিয়া) পর্যন্ত। আল্লাহ তাদের জন্য এই দীর্ঘ পথটিকে সহজ করে দিয়েছিলেন। তিনি তাদের জনপদ এবং শামের বরকতময় জনপদের মাঝখানে এমন অনেকগুলো নিকটবর্তী ও দৃশ্যমান জনপদ সৃষ্টি করেছিলেন যে, একটি জনপদ থেকে আরেকটি জনপদ স্পষ্ট দেখা যেত। ফলে পথিকরা কখনো পথ হারাত না, পানির অভাবে কষ্ট পেত না, আর কোনো বিপদের সম্মুখীন হতো না।
আল্লাহ তাদের জন্য ভ্রমণের দূরত্বও নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন—যেন তারা সকালে বের হয়ে দুপুরের আগেই একটি জনপদে পৌঁছে যায় এবং সেখানে বিশ্রাম ও পানাহার করে আবার রওনা হয়। এভাবে তারা রাত ও দিন—যেকোনো সময় নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারত। তাদের বলা হয়েছিল: “তোমরা এই জনপদগুলোর মধ্যে রাতে ও দিনে নিরাপদে চলাফেরা করো।” শত্রুর ভয় ছিল না, খাদ্য-পানির কষ্ট ছিল না, কোনো প্রকার ভীতি বা অসুবিধা ছিল না। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি এক বিরাট নেয়ামত ও অনুগ্রহ।
ফায়দা:
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অগণিত নেয়ামত দান করেন এবং তাদের জীবনকে সহজ করে দেন। আমাদের উচিত এসব নেয়ামতের কথা স্মরণ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।
নিরাপত্তা ও শান্তি是人类 জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। যখন সমাজে শান্তি থাকে, তখন মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-দীক্ষা সবকিছুতে উন্নতি লাভ করে।
আল্লাহর অনুগ্রহ যাদের প্রতি থাকে, তারা দুশ্চিন্তা ও ভয় থেকে মুক্ত থাকে। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর অনুগ্রহ কামনা করা।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সমাজের কল্যাণে অবকাঠামো উন্নয়ন (যেমন রাস্তাঘাট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা) একটি মহান নেয়ামত, যা মানুষের জীবনকে সহজ করে তোলে। ইসলাম এ ধরনের উন্নয়নকে উৎসাহিত করে।
নেয়ামতের শুকরিয়া না করলে নেয়ামত কেড়ে নেওয়া হয়—পরবর্তী আয়াতে সাবা জাতির কাহিনীর মাধ্যমে আমরা এ শিক্ষাই পাই। তাই আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা।
অতঃপর তারা অবাধ্যতা করল ফলে আমি তাদের উপর প্রেরণ করলাম প্রবল বন্যা! আর তাদের উদ্যানদ্বয়কে পরিবর্তন করে দিলাম এমন দুই উদ্যানে, যাতে উদগত হয় বিস্বাদ ফলমূল, ঝাউ গাছ এবং সামান্য কুলবৃক্ষ।
তাদের এবং যেসব জনপদের লোকদের প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছিলম সেগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অনেক দৃশ্যমান জনপদ স্থাপন করেছিলাম এবং সেগুলোতে ভ্রমণ নির্ধারিত করেছিলাম। তোমরা এসব জনপদে রাত্রে ও দিনে নিরাপদে ভ্রমণ কর।
অতঃপর তারা বলল, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের ভ্রমণের পরিসর বাড়িয়ে দাও। তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল। ফলে আমি তাদেরকে উপাখ্যানে পরিণত করলাম এবং সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিলাম। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।