সাবা · 46/54
অনুবাদ উচ্চারণ — সাবা
۞ قُلْ إِنَّمَا أَعِظُكُم بِوَاحِدَةٍ ۖ أَن تَقُومُوا لِلَّهِ مَثْنَىٰ وَفُرَادَىٰ ثُمَّ تَتَفَكَّرُوا ۚ مَا بِصَاحِبِكُم مِّن جِنَّةٍ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌ لَّكُم بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ ۝٤٦
Qul innamaaa a`izukum biwaahidatin an taqoomoo lillaahi masnaa wa furaadaa summa tatafakkaroo; maa bisaahibikum min jinnah; in huwa illaa nazeerul lakum baina yadai `azaabin shadeed
📖 বাংলা অর্থ
বলুন, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর নামে এক একজন করে ও দু, দু জন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা-ভাবনা কর-তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন উম্মাদনা নেই। তিনি তো আসন্ন কাঠোর শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করেন মাত্র।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَعِظُكُم – আমি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি / নসিহত করছি।
  • بِوَاحِدَةٍ – একটি বিষয়ে / একটি খাসলতে (গুণে)।
  • تَقُومُوا لِلَّهِ – আল্লাহর জন্য দাঁড়ানো অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করা।
  • مَثْنَى – দুইজন দুইজন করে।
  • فُرَادَى – একজন একজন করে / একাকী।
  • تَتَفَكَّرُوا – তোমরা চিন্তা-ভাবনা করো।
  • جِنَّةٍ – উন্মাদনা / পাগলামি।
  • نَذِيرٌ – সতর্ককারী / ভয় প্রদর্শনকারী।
  • بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ – কঠিন শাস্তির সম্মুখে / সামনে।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

হে নবী! আপনি এই অবিশ্বাসী ও জেদি সম্প্রদায়কে বলুন: “আমি তোমাদেরকে কেবল একটি বিষয়েই উপদেশ দিচ্ছি এবং তা হলো—তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, মন থেকে সমস্ত পক্ষপাতিত্ব ও হঠকারিতা দূর করে, দুইজন দুইজন করে কিংবা একজন একজন করে দাঁড়াও (অর্থাৎ একান্ত মনে আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত হও), তারপর তোমরা নিজেদের মধ্যে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করো তোমাদের এই সাথী (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবস্থা সম্পর্কে। তোমরা তো তার বুদ্ধিমত্তা, সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা ও চরিত্র সম্পর্কে আগে থেকেই জানো। একটু ভাবো—যে ব্যক্তি এত বছর ধরে ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) নামে পরিচিত, তার মধ্যে কি কোনো উন্মাদনা থাকতে পারে? কখনোই না। তিনি তো কেবলমাত্র একজন সতর্ককারী, যিনি তোমাদেরকে আসন্ন কঠিন শাস্তির (জাহান্নামের) আগে ভয় দেখাচ্ছেন। তিনি কোনো মিথ্যা দাবি করেননি, বরং তোমাদেরকে আল্লাহর পথে আহ্বান করছেন, যাতে তোমরা সেই ভয়াবহ শাস্তি থেকে বাঁচতে পারো।”

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম একটি যুক্তি ও প্রজ্ঞার ধর্ম। কুরআন এখানে অন্ধবিশ্বাসের পরিবর্তে মানুষকে চিন্তা-ভাবনা করার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো বিষয় সত্য হোক বা মিথ্যা, তা যাচাই করার জন্য মনোযোগ সহকারে চিন্তা করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য।
  2. নবীজি (সা.)-এর চরিত্র ও আমানতদারিতা ছিল সর্বজনবিদিত। তাঁর সত্যবাদিতা ও নিষ্কলুষ জীবনই তাঁর নবুওয়াতের সত্যতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কোনো যুক্তিবান মানুষ তাঁর সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করতে পারে না।
  3. সত্য গ্রহণের জন্য আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। পক্ষপাতিত্ব ও হঠকারিতা দূর করে নিরপেক্ষ মনে চিন্তা করলেই সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
  4. আল্লাহর রাসূলগণ শুধুমাত্র সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য মানুষকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে জান্নাতের পথ দেখানো। এটি তাঁর প্রতি মহান দয়া ও মমতার পরিচয়।
  5. কিয়ামত ও আখিরাতের শাস্তি সত্য এবং তা অত্যন্ত কঠিন। এ কথা বিশ্বাস করা এবং সেই অনুযায়ী আমল করা প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি, যাতে করে আমরা সেই কঠিন দিনে নিরাপদ থাকতে পারি।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 44-48 — সাবা

44وَمَا آتَيْنَاهُم مِّن كُتُبٍ يَدْرُسُونَهَا ۖ وَمَا أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ قَبْلَكَ مِن نَّذِيرٍ
আমি তাদেরকে কোন কিতাব দেইনি, যা তারা অধ্যয়ন করবে এবং আপনার পূর্বে তাদের কাছে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করিনি।
45وَكَذَّبَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَمَا بَلَغُوا مِعْشَارَ مَا آتَيْنَاهُمْ فَكَذَّبُوا رُسُلِي ۖ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ
তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা আরোপ করেছে। আমি তাদেরকে যা দিয়েছিলাম, এরা তার এক দশমাংশও পায়নি। এরপরও তারা আমার রাসূলগনকে মিথ্যা বলেছে। অতএব কেমন হয়েছে আমার শাস্তি।
46۞ قُلْ إِنَّمَا أَعِظُكُم بِوَاحِدَةٍ ۖ أَن تَقُومُوا لِلَّهِ مَثْنَىٰ وَفُرَادَىٰ ثُمَّ تَتَفَكَّرُوا ۚ مَا بِصَاحِبِكُم مِّن جِنَّةٍ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌ لَّكُم بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ
বলুন, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর নামে এক একজন করে ও দু, দু জন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা-ভাবনা কর-তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন উম্মাদনা নেই। তিনি তো আসন্ন কাঠোর শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করেন মাত্র।
47قُلْ مَا سَأَلْتُكُم مِّنْ أَجْرٍ فَهُوَ لَكُمْ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ
বলুন, আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না বরং তা তোমরাই রাখ। আমার পুরস্কার তো আল্লাহর কাছে রয়েছে। প্রত্যেক বস্তুই তাঁর সামনে।
48قُلْ إِنَّ رَبِّي يَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَّامُ الْغُيُوبِ
বলুন, আমার পালনকর্তা সত্য দ্বীন অবতরণ করেছেন। তিনি আলেমুল গায়ব।
সাবাকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীRevelation
46আয়াত

অনুবাদ — সাবা 46

সূরা সাবা আয়াত 46 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বলুন, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর নামে…

সূরা আয়াত 46/54 — সাবা سبأ (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সাবা শুনুন, সাবা অনুবাদ, সাবা mp3, সাবা pdf. আয়াত 44–48. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না