Wa kazzabal lazeena min qablihim wa maa balaghoo mi`shaara maaa aatainaahum fakazzaboo Rusulee; fakaifa kaana nakeer
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা আরোপ করেছে। আমি তাদেরকে যা দিয়েছিলাম, এরা তার এক দশমাংশও পায়নি। এরপরও তারা আমার রাসূলগনকে মিথ্যা বলেছে। অতএব কেমন হয়েছে আমার শাস্তি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और जो लोग उनसे पहले गुज़र गए उन्होंने भी (पैग़म्बरों को) झुठलाया था हालॉकि हमने जितना उन लोगों को दिया था ये लोग (अभी) उसके दसवें हिस्सा को (भी) नहीं पहुँचे उस पर उन लोगों न मेरे (पैग़म्बरों को) झुठलाया था तो तुमने देखा कि मेरा (अज़ाब उन पर) कैसा सख्त हुआ
آتَيْنَاهُمْ — আমরা তাদেরকে দিয়েছিলাম (শক্তি, সম্পদ, দীর্ঘায়ু ইত্যাদি)।
نَكِيرِ — আমার প্রত্যাখ্যান ও শাস্তি, অর্থাৎ আমি তাদের প্রতি যে অস্বীকৃতি ও ক্রোধ প্রকাশ করেছিলাম।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা কুরাইশ কাফিরদের সতর্ক করেছেন এবং পূর্ববর্তী জাতিগুলোর করুণ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। পূর্ববর্তী জাতিরা—যেমন আদ, সামুদ, লুতের সম্প্রদায়, ইবরাহিমের সম্প্রদায় প্রভৃতি—তাদের কাছে প্রেরিত রাসূলদেরকে মিথ্যা বলেছিল এবং সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল। অথচ আল্লাহ তাদেরকে বিপুল শক্তি, প্রচুর সম্পদ, দীর্ঘ জীবন এবং অন্যান্য নেয়ামত দান করেছিলেন।
কিন্তু মক্কার মুশরিকরা (কুরাইশরা) সেই পূর্ববর্তী জাতিগুলোর তুলনায় অনেক দুর্বল ছিল। তাদের শক্তি, সম্পদ, জনসংখ্যা এবং বয়সের মেয়াদ পূর্ববর্তীদের এক-দশমাংশেও পৌঁছায়নি। তবুও তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মিথ্যা বলল এবং সত্যকে অমান্য করল। অথচ পূর্ববর্তীরা এত শক্তি ও সম্পদ পেয়েও যখন রাসূলদেরকে মিথ্যা বলেছিল, তখন আল্লাহ তাদের প্রতি নিজের ক্রোধ ও শাস্তি নাযিল করেছিলেন এবং তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। তাই এই আয়াতে আল্লাহ নবী (সা.)-কে সম্বোধন করে বলছেন—দেখুন, আমি পূর্ববর্তীদের প্রতি কীভাবে প্রত্যাখ্যান ও শাস্তি প্রয়োগ করেছিলাম! তাদের শক্তি-সম্পদ তাদের কোনো কাজে আসেনি। সুতরাং যারা এর চেয়েও দুর্বল, তারা যদি একই পথ অনুসরণ করে, তবে তাদের পরিণতিও আরও কঠিন হবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
দুনিয়ার শক্তি, সম্পদ ও বড় বড় নেয়ামত কাউকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে না। পূর্ববর্তীরা যত শক্তিশালীই ছিল, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করেছেন।
সত্য প্রত্যাখ্যান করা এবং নবী-রাসূলদেরকে মিথ্যা বলা সর্বযুগেই ধ্বংসের কারণ হয়েছে। ইতিহাস তার সাক্ষী।
যারা আল্লাহর নেয়ামত পেয়ে অকৃতজ্ঞ হয় এবং সত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাদের প্রতি আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তি অবধারিত।
এই আয়াত মুমিনদের জন্য সান্ত্বনা যে, সত্যের পথে থাকলে শত্রু যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আল্লাহই তার চূড়ান্ত বিচারক এবং তিনি তার অনুসারীদের রক্ষা করবেন।
কুরআনের এই ইতিহাস-ভিত্তিক উপদেশ মানুষকে ভয় ও আশা উভয়ই শেখায়—ভয় আল্লাহর শাস্তির, আর আশা এই যে, সত্যের পথে অবিচল থাকলে আল্লাহর সাহায্য অবশ্যই আসবে।
তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা আরোপ করেছে। আমি তাদেরকে যা দিয়েছিলাম, এরা তার এক দশমাংশও পায়নি। এরপরও তারা আমার রাসূলগনকে মিথ্যা বলেছে। অতএব কেমন হয়েছে আমার শাস্তি।
যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা বলে, তোমাদের বাপ-দাদারা যার এবাদত করত এ লোকটি যে তা থেকে তোমাদেরকে বাধা দিতে চায়। তারা আরও বলে, এটা মনগড়া মিথ্যা বৈ নয়। আর কাফেরদের কাছে যখন সত্য আগমন করে, তখন তারা বলে, এতো এক সুস্পষ্ট যাদু।
তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা আরোপ করেছে। আমি তাদেরকে যা দিয়েছিলাম, এরা তার এক দশমাংশও পায়নি। এরপরও তারা আমার রাসূলগনকে মিথ্যা বলেছে। অতএব কেমন হয়েছে আমার শাস্তি।
বলুন, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর নামে এক একজন করে ও দু, দু জন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা-ভাবনা কর-তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন উম্মাদনা নেই। তিনি তো আসন্ন কাঠোর শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করেন মাত্র।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।