আর যারা আমার আয়াত সমূহকে ব্যর্থ করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়, তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি শব্দের অর্থ:
سَعَوْا (সা‘আও) – চেষ্টা করা, প্রচেষ্টা করা।
فِي آيَاتِنَا (ফী আয়াতিনা) – আমাদের নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধে।
مُعَاجِزِينَ (মু‘আজিযীন) – অক্ষম করার উদ্দেশ্যে, অর্থাৎ আল্লাহকে পরাজিত করার চেষ্টা করা বা তাঁর নির্দেশকে ব্যর্থ করার সংকল্প করা।
رِجْزٍ (রিজ্জিন) – নিকৃষ্টতম ও মারাত্মক শাস্তি।
أَلِيمٌ (আলীম) – বেদনাদায়ক, কষ্টদায়ক।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
যারা আমাদের আয়াত ও নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য এবং সেগুলোকে বাতিল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে, তারা মনে করে যে, তারা আমাদের ক্ষমতাকে অতিক্রম করে যেতে পারবে বা আমাদের শাস্তি থেকে বেঁচে যাবে। তারা রাসূল (সা.)-কে জাদুকর, কবি, পাগল ইত্যাদি বলেছে এবং কুরআনকে জাদু ও মিথ্যা বলেছে। তাদের এই অপপ্রচার ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের জন্য রয়েছে কিয়ামতের দিন সবচেয়ে নিকৃষ্ট, মারাত্মক ও বেদনাদায়ক শাস্তি। এই শাস্তি হবে জাহান্নামের আগুন, যা কোনোভাবেই সহ্য করা সম্ভব হবে না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর আয়াত ও নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধে কাজ করা এবং সেগুলোকে বাতিল করার চেষ্টা করা সর্বাধিক জঘন্য অপরাধ, যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
আল্লাহকে পরাজিত করার বা তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। যারা মনে করে তারা আল্লাহর ক্ষমতাকে অতিক্রম করতে পারবে, তারা চরম ভুলের মধ্যে রয়েছে।
সত্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো ব্যক্তিদের পরিণতি কিয়ামতের দিন অত্যন্ত কষ্টদায়ক হবে। তাই আমাদের উচিত সত্যকে গ্রহণ করা এবং আল্লাহর পথে চলা।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর নিদর্শনসমূহ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা বা সেগুলোকে মিথ্যা বলার চেষ্টা করা মারাত্মক গুনাহ, যা থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে।
মুমিনদের উচিত আল্লাহর আয়াতের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখা এবং সেগুলোকে সম্মান করা, কারণ এর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা লাভ করতে পারব।
কাফেররা বলে আমাদের উপর কেয়ামত আসবে না। বলুন কেন আসবে না? আমার পালনকর্তার শপথ-অবশ্যই আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। নভোমন্ডলে ও ভূ-মন্ডলে তাঁর আগোচরে নয় অণু পরিমাণ কিছু, না তদপেক্ষা ক্ষুদ্র এবং না বৃহৎ-সমস্তই আছে সুস্পষ্ট কিতাবে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।