আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর সে বায়ু মেঘমালা সঞ্চারিত করে। অতঃপর আমি তা মৃত ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর তদ্বারা সে ভূ-খন্ডকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করে দেই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और ख़ुदा ही वह (क़ादिर व तवाना) है जो हवाओं को भेजता है तो हवाएँ बादलों को उड़ाए-उड़ाए फिरती है फिर हम उस बादल को मुर्दा (उफ़तादा) शहर की तरफ हका देते हैं फिर हम उसके ज़रिए से ज़मीन को उसके मर जाने के बाद शादाब कर देते हैं यूँ ही (मुर्दों को क़यामत में जी उठना होगा)
আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর সে বায়ু মেঘমালা সঞ্চারিত করে। অতঃপর আমি তা মৃত ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর তদ্বারা সে ভূ-খন্ডকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করে দেই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يُثِيرُ — মেঘমালাকে উদ্বেলিত করে/উত্তোলন করে।
مَيْتٍ — শুষ্ক, উদ্ভিদশূন্য, প্রাণহীন ভূমি।
النُّشُورُ — পুনরুত্থান, কবর থেকে জীবিত হয়ে ওঠা।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা সেই সত্তা, যিনি বায়ুপ্রবাহ প্রেরণ করেন। এই বায়ু মেঘমালাকে উত্তোলন করে, তাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিচালিত করে। অতঃপর আল্লাহ সেই মেঘকে এমন এক শুষ্ক, প্রাণহীন ভূখণ্ডের দিকে পরিচালিত করেন, যেখানে কোনো উদ্ভিদ নেই, কোনো সবুজ নেই। সেখানে তিনি সেই মেঘ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, আর সেই বৃষ্টির পানি দ্বারা মৃতপ্রায় ভূমিকে সঞ্জীবিত করেন — মাটি থেকে সবুজ গাছপালা, ফসল ও বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেন। যে ভূমি ছিল সম্পূর্ণ শুষ্ক ও প্রাণহীন, তা আবার সবুজে ভরে ওঠে, জীবন্ত হয়ে ওঠে।
ঠিক এভাবেই, যেভাবে আল্লাহ মৃত ভূমিকে বৃষ্টির মাধ্যমে জীবিত করেন, সেভাবেই তিনি কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষকে কবর থেকে জীবিত করে উঠাবেন। যে শক্তি দিয়ে তিনি মৃত ভূমিতে প্রাণ সঞ্চার করেন, সেই একই শক্তি দিয়ে তিনি মৃত মানুষের দেহে প্রাণ ফিরিয়ে দেবেন। এটি তাঁর পক্ষে অত্যন্ত সহজ। মৃত ভূমির পুনর্জীবন যেমন চোখের সামনে ঘটতে দেখা যায়, তেমনি মানুষের পুনরুত্থানও অবশ্যম্ভাবী সত্য।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর ক্ষমতার অসীমতা উপলব্ধি করা — মৃত ভূমিকে জীবিত করা যেমন তাঁর পক্ষে সহজ, তেমনি মৃত মানুষকে পুনরুত্থিত করাও তাঁর জন্য অতি সহজ।
প্রকৃতির প্রতিটি পরিবর্তনে আল্লাহর হিকমত ও কুদরতের নিদর্শন রয়েছে — বৃষ্টির মাধ্যমে মৃত ভূমির পুনর্জীবন আমাদেরকে পুনরুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এই আয়াত আমাদেরকে আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে শেখায় — যেমন বৃষ্টির পর সবুজ প্রকৃতি দেখে আমরা আনন্দিত হই, তেমনি পুনরুত্থানের পর চিরস্থায়ী জীবনের সুসংবাদ আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।
আল্লাহর রহমতের প্রতি আশাবাদী হওয়া — তিনি যেমন শুষ্ক ভূমিকে বৃষ্টির মাধ্যমে জীবিত করেন, তেমনি তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করে তাদের হৃদয়কে ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে জীবিত করেন।
এই আয়াত মানুষকে সৎকর্ম করার প্রেরণা দেয় — যেহেতু পুনরুত্থান সত্য, তাই প্রত্যেককে তার কর্মের ফল ভোগ করতে হবে, যা মানুষকে ভালো কাজ করতে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করে।
যাকে মন্দকর্ম শোভনীয় করে দেখানো হয়, সে তাকে উত্তম মনে করে, সে কি সমান যে মন্দকে মন্দ মনে করে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। সুতরাং আপনি তাদের জন্যে অনুতাপ করে নিজেকে ধ্বংস করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন তারা যা করে।
আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর সে বায়ু মেঘমালা সঞ্চারিত করে। অতঃপর আমি তা মৃত ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর তদ্বারা সে ভূ-খন্ডকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করে দেই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান।
কেউ সম্মান চাইলে জেনে রাখুন, সমস্ত সম্মান আল্লাহরই জন্যে। তাঁরই দিকে আরোহণ করে সৎবাক্য এবং সৎকর্ম তাকে তুলে নেয়। যারা মন্দ কার্যের চক্রান্তে লেগে থাকে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ হবে।
আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, তারপর করেছেন তোমাদেরকে যুগল। কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসব করে না; কিন্তু তাঁর জ্ঞাতসারে। কোন বয়স্ক ব্যক্তি বয়স পায় না। এবং তার বয়স হ্রাস পায় না; কিন্তু তা লিখিত আছে কিতাবে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।