আন-নিসা · 43/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنتُمْ سُكَارَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا ۚ وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا ۝٤٣
yaaa aiyuhal lazeena aamanoo laa taqrabus Salaata wa antum sukaaraa hatta ta`lamoo ma taqooloona wa la junuban illaa `aabiree sabeelin hatta taghtasiloo; wa in kuntum mardaaa aw `alaa safarin aw jaaa`a ahadum minkum minal ghaaa`iti aw laamastumun nisaaa`a falam tajidoo maaa`an fatayam mamoo sa`eedan taiyiban famsahoo biwujoohikum wa aideekum; innal laaha kaana `Afuwwan Ghafooraa
📖 বাংলা অর্থ
হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়, তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • সُكَارَىٰ – মাতাল অবস্থা (নেশাগ্রস্ত)।
  • جُنُبًا – যে ব্যক্তি অপবিত্র (স্ত্রী সহবাস বা বীর্যপাতের কারণে গোসল ফরজ হয়েছে)।
  • عَابِرِي سَبِيلٍ – পথ অতিক্রমকারী (যে ব্যক্তি মসজিদের ভেতর দিয়ে কেবল পার হয়ে যায়)।
  • الْغَائِطِ – পায়খানা বা প্রস্রাবের প্রয়োজন চরিতার্থ করা (শৌচকর্ম)।
  • لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ – স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা (বা স্পর্শ করা)।
  • صَعِيدًا طَيِّبًا – পবিত্র মাটি বা এমন জিনিস যা মাটি জাতীয় (যেমন বালি, পাথর) এবং তা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন।
  • تَيَمَّمُوا – তায়াম্মুম করা অর্থাৎ পবিত্র মাটি দ্বারা মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করা।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন অবস্থায় নামাজের কাছেও যেয়ো না, যখন তোমরা মাতাল থাকো — যতক্ষণ না তোমরা বুঝতে পারো কী বলছ। (এ নির্দেশ ছিল মদ সম্পূর্ণ হারাম হওয়ার আগের সময়কালে, যখন মাতাল অবস্থায় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ ছিল। পরে মদ সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করা হয়।)

আর তোমরা জুনুব (অপবিত্র) অবস্থায়ও নামাজের কাছেও যেয়ো না — অর্থাৎ মসজিদে প্রবেশ করো না — তবে যদি কেউ কেবল পথ অতিক্রমকারী হয় (এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়) তাহলে তা অনুমোদিত। যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো।

আর যদি তোমরা অসুস্থ হও (এমন অসুখ যা পানির ব্যবহারে ক্ষতি হতে পারে), অথবা সফরে থাকো, অথবা তোমাদের কেউ শৌচকর্ম থেকে ফিরে আসে (অর্থাৎ পায়খানা-প্রস্রাব করে), অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো — আর (এসব ক্ষেত্রে) পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো। অর্থাৎ পবিত্র মাটিতে হাত মারো এবং তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমাশীল ও পরম forgiveকারী — তিনি তোমাদের প্রতি দয়ালু এবং তোমাদের অসুবিধা দূর করার জন্য এই সহজ বিধান দিয়েছেন।


উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. ইসলাম একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত ধর্ম। অসুস্থতা, সফর বা পানির অনুপলব্ধতায় আল্লাহ তায়াম্মুমের মতো সহজ বিকল্প দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে ইসলাম কখনো মানুষের ওপর কঠোরতা চাপায় না।
  2. নামাজের পবিত্রতা ও গুরুত্ব অপরিসীম। নামাজের জন্য শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা অপরিহার্য, কারণ এটি আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম।
  3. মাতাল অবস্থায় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ ছিল — এটি ধীরে ধীরে মদ হারাম করার প্রস্তুতি ছিল। এতে বোঝা যায়, ইসলাম যেকোনো ক্ষতিকর অভ্যাস দূর করতে ধাপে ধাপে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
  4. মসজিদের পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষা করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। অপবিত্র অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ না করা ইসলামের শিষ্টাচার ও আদব শেখায়।
  5. আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া অপরিসীম। তিনি বান্দার দুর্বলতা ও অসুবিধা বুঝেন এবং সে অনুযায়ী সহজ বিধান দেন। এটি মুমিনের মনে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভরসা বৃদ্ধি করে।


📜 আয়াত 41-45 — আন-নিসা

41فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَىٰ هَٰؤُلَاءِ شَهِيدًا
আর তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি ডেকে আনব প্রতিটি উম্মতের মধ্য থেকে অবস্থা বর্ণনাকারী এবং আপনাকে ডাকব তাদের উপর অবস্থা বর্ণনাকারীরূপে।
42يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوُا الرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّىٰ بِهِمُ الْأَرْضُ وَلَا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثًا
সেদিন কামনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা কাফের হয়েছিল এবং রসূলের নাফরমানী করেছিল, যেন যমীনের সাথে মিশে যায়। কিন্তু গোপন করতে পারবে না আল্লাহর নিকট কোন বিষয়।
43يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنتُمْ سُكَارَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا ۚ وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا
হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়, তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।
44أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِّنَ الْكِتَابِ يَشْتَرُونَ الضَّلَالَةَ وَيُرِيدُونَ أَن تَضِلُّوا السَّبِيلَ
তুমি কি ওদের দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, (অথচ) তারা পথভ্রষ্টতা খরিদ করে এবং কামনা করে, যাতে তোমরাও আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত হয়ে যাও।
45وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَائِكُمْ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَلِيًّا وَكَفَىٰ بِاللَّهِ نَصِيرًا
অথচ আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে যথার্থই জানেন। আর অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
43আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 43

সূরা আন-নিসা আয়াত 43 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা,…

সূরা আয়াত 43/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 41–45. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না