অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- يَوْمَئِذٍ – সেদিন (কিয়ামতের দিন)
- يَوَدُّ – তারা চাইবে, তারা কামনা করবে
- كَفَرُوا – কুফরি করেছে (আল্লাহ ও রাসূলকে অস্বীকার করেছে)
- عَصَوُا الرَّسُولَ – রাসূলের অবাধ্য হয়েছে
- لَوْ تُسَوَّىٰ بِهِمُ الْأَرْضُ – যদি তাদের সাথে পৃথিবীকে সমান করে দেওয়া হতো (অর্থাৎ তারা মাটিতে মিশে যেত)
- لَا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثًا – তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন রাখতে পারবে না
তাফসির:
কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনের কথা এখানে বর্ণনা করা হয়েছে, যখন মানুষের চোখ খুলে যাবে এবং তারা তাদের কৃতকর্মের ফল দেখতে পাবে। যারা দুনিয়ায় আল্লাহকে অস্বীকার করেছে এবং তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে পাপাচারে লিপ্ত হয়েছে, তারা সেদিন এমন ভয়ানক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে যে, তারা দৃঢ়ভাবে কামনা করবে— যদি তারা মাটিতে মিশে যেত, তাদের দেহ মাটির সাথে একাকার হয়ে যেত, যেন তাদের আর কোনো অস্তিত্বই না থাকে। তারা চাইবে যেন তাদেরকে কবর দিয়ে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়, যাতে তাদের আর পুনরুত্থান না হয় এবং তাদের কোনো জবাবদিহি করতে না হয়।
কিন্তু তাদের এই আকাঙ্ক্ষা কখনোই পূরণ হবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা সেদিন তাদের মুখে মোহর মেরে দেবেন, তাদের জিহ্বা নীরব হয়ে যাবে, এবং তাদের হাত-পা, চামড়া ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। তারা দুনিয়ায় যত গোপন পাপাচার করেছিল, যত মিথ্যা কথা বলেছিল, আল্লাহকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল— সবকিছু সেদিন প্রকাশ হয়ে যাবে। তারা আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই গোপন রাখতে পারবে না, কারণ আল্লাহ তো সবকিছুই জানেন এবং সেদিন তাদের নিজেদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- দুনিয়ার জীবনে আমরা যতই গোপন পাপ করি না কেন, কিয়ামতের দিন সবকিছু প্রকাশ হয়ে যাবে। তাই আমাদের উচিত এখনই আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং গোপন-প্রকাশ্য সব অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা।
- রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। যে ব্যক্তি রাসূলের অবাধ্য হবে, সে কিয়ামতের দিন চরম আফসোস ও অনুতাপে ডুবে যাবে।
- কিয়ামতের ভয়াবহতা এতই মারাত্মক যে, কাফিররা সেদিন মৃত্যু ও ধ্বংসকে কামনা করবে। কিন্তু মুমিনদের জন্য সেদিন হবে আনন্দ ও সাফল্যের দিন, যদি তারা দুনিয়ায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ মেনে চলে।
- আল্লাহর জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই গোপন নেই। আমাদের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা, এমনকি আমাদের মনের গোপন ইচ্ছাগুলোও আল্লাহ জানেন। তাই আমাদের উচিত সর্বদা সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
- এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, দুনিয়ার সাময়িক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও পাপের মোহে বিভ্রান্ত না হয়ে, আখিরাতের অনন্ত জীবনের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। কারণ সেদিনের আফসোস ও অনুতাপ কোনো কাজে আসবে না।
📜 আয়াত 40-44 — আন-নিসা
অনুবাদ — আন-নিসা 42
সূরা আন-নিসা আয়াত 42 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সেদিন কামনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা কাফের হয়েছিল এবং…সূরা আয়াত 42/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 40–44. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








