আন-নিসা · 44/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِّنَ الْكِتَابِ يَشْتَرُونَ الضَّلَالَةَ وَيُرِيدُونَ أَن تَضِلُّوا السَّبِيلَ ۝٤٤
Alam tara ilal lazeena ootoo naseebam minal Kitaabi yashtaroonad dalaalata wa yureedoona an tadillus sabeel
📖 বাংলা অর্থ
তুমি কি ওদের দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, (অথচ) তারা পথভ্রষ্টতা খরিদ করে এবং কামনা করে, যাতে তোমরাও আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত হয়ে যাও।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

### معاني الكلمات:

  • أَلَمْ تَرَ: অর্থাৎ, আপনি কি জানেন না? অথবা আপনার জ্ঞানে কি পৌঁছেনি?
  • أُوتُوا نَصِيبًا مِّنَ الْكِتَابِ: যাদেরকে কিতাবের (তাওরাতের) কিছু অংশ দেওয়া হয়েছে — অর্থাৎ ইয়াহুদী সম্প্রদায়।
  • يَشْتَرُونَ الضَّلَالَةَ: তারা হিদায়াতের বিনিময়ে পথভ্রষ্টতা ক্রয় করে, অর্থাৎ সত্যকে ছেড়ে মিথ্যাকে গ্রহণ করে।
  • أَن تَضِلُّوا السَّبِيلَ: তোমরা (মুমিনগণ) সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হও।

### تفسير الآية:

হে নবী! আপনি কি দেখেননি/জানেন না সেই ইয়াহুদীদের অবস্থা, যাদেরকে আল্লাহ তাওরাতের কিছু জ্ঞান দান করেছিলেন? তারা সেই জ্ঞান ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সত্যকে পরিত্যাগ করে পথভ্রষ্টতা গ্রহণ করেছে। তারা তাদের কাছে থাকা স্পষ্ট দলিল-প্রমাণ (যা আপনার সত্যতার সাক্ষ্য দেয়) বর্জন করেছে এবং নিজেদের জন্য গোমরাহী ও বিভ্রান্তি কিনে নিয়েছে। আর তারা শুধু নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে তা নয়, বরং তারা দৃঢ়ভাবে চায় যে, হে মুমিনগণ! তোমরাও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হও এবং তাদের মতো পথভ্রষ্ট হয়ে যাও। তাদের এই ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা প্রকাশ করে তাদের চরম শত্রুতা ও হিংসা, কারণ তারা চায় না যে, তোমরা হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো।


### فوائد و শিক্ষা:

  1. জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও বিভ্রান্তি: এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, শুধু জ্ঞান থাকাই যথেষ্ট নয়; বরং সেই জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা জরুরি। ইয়াহুদীদের কাছে সত্যের প্রমাণ ছিল, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে — ফলে তারা আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হয়েছে।
  2. সত্যকে মিথ্যার সাথে বিনিময় না করা: মুমিনের কর্তব্য হলো সত্যকে আঁকড়ে ধরা এবং দুনিয়ার কোনো লোভ বা ভয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। যারা সত্যকে ছেড়ে মিথ্যা গ্রহণ করে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত।
  3. শত্রুদের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকা: যারা সত্যের বিরোধী, তারা সবসময় চেষ্টা করে মুমিনদের পথভ্রষ্ট করতে। তাই মুমিনদের উচিত তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের নির্দেশনা মেনে চলা।
  4. হিদায়াতের মূল্য বোঝা: হিদায়াত হলো আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। এই নেয়ামতকে রক্ষা করা এবং এর জন্য শুকরিয়া আদায় করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। যারা এই নেয়ামতকে তুচ্ছ করে, তারা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
  5. মুমিনদের জন্য সতর্কতা: এই আয়াত মুমিনদের জন্য একটি সতর্কবাণী যে, যারা নিজেরা পথভ্রষ্ট, তারা অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করতে চায়। তাই মুমিনদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে এবং আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের বিশ্বাস ও আমলকে পরিশুদ্ধ রাখতে হবে।


📜 আয়াত 42-46 — সূরা আন-নিসা

42يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوُا الرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّىٰ بِهِمُ الْأَرْضُ وَلَا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثًا
সেদিন কামনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা কাফের হয়েছিল এবং রসূলের নাফরমানী করেছিল, যেন যমীনের সাথে মিশে যায়। কিন্তু গোপন করতে পারবে না আল্লাহর নিকট কোন বিষয়।
43يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنتُمْ سُكَارَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا ۚ وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا
হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়, তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।
44أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِّنَ الْكِتَابِ يَشْتَرُونَ الضَّلَالَةَ وَيُرِيدُونَ أَن تَضِلُّوا السَّبِيلَ
তুমি কি ওদের দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, (অথচ) তারা পথভ্রষ্টতা খরিদ করে এবং কামনা করে, যাতে তোমরাও আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত হয়ে যাও।
45وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَائِكُمْ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَلِيًّا وَكَفَىٰ بِاللَّهِ نَصِيرًا
অথচ আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে যথার্থই জানেন। আর অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট।
46مِّنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ وَرَاعِنَا لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِي الدِّينِ ۚ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاسْمَعْ وَانظُرْنَا لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَقْوَمَ وَلَٰكِن لَّعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا
কোন কোন ইহুদী তার লক্ষ্য থেকে কথার মোড় ঘুড়িয়ে নেয় এবং বলে, আমরা শুনেছি কিন্তু অমান্য করছি। তারা আরো বলে, শোন, না শোনার মত। মুখ বাঁকিয়ে দ্বীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শনের উদ্দেশে বলে, রায়েনা’ (আমাদের রাখাল)। অথচ যদি তারা বলত যে, আমরা শুনেছি ও মান্য করেছি এবং (যদি বলত, ) শোন এবং আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখ, তবে তাই ছিল তাদের জন্য উত্তম আর সেটাই ছিল যথার্থ ও সঠিক। কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন তাদের কুফরীর দরুন। অতএব, তারা ঈমান আনছে না, কিন্তু অতি অল্পসংখ্যক।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
44আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 44

সূরা আন-নিসা আয়াত 44 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তুমি কি ওদের দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে,…

সূরা আয়াত 44/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 42–46. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না