আজ-জুখরুফ · 32/89
অনুবাদ উচ্চারণ — আজ-জুখরুফ
أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَتَ رَبِّكَ ۚ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُم مَّعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۚ وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِّيَتَّخِذَ بَعْضُهُم بَعْضًا سُخْرِيًّا ۗ وَرَحْمَتُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ ۝٣٢
Ahum yaqsimoona rahmata Rabbik; Nahnu qasamnaa bainahum ma`eeshatahum fil hayaatid dunyaa wa rafa`naa ba`dahum fawqa ba`din darajaatil liyattakhiza ba`duhum ba`dan sukhriyyaa; wa rahmatu Rabbika khairum mimmaa yajma`oon
📖 বাংলা অর্থ
তারা কি আপনার পালনকর্তার রহমত বন্টন করে? আমি তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছি, যাতে একে অপরকে সেবক রূপে গ্রহণ করে। তারা যা সঞ্চয় করে, আপনার পালনকর্তার রহমত তদপেক্ষা উত্তম।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • رَحْمَتَ رَبِّكَ: এখানে রহমত অর্থ নবুওয়াত বা বিশেষ মর্যাদা।
  • مَعِيشَتَهُمْ: তাদের জীবিকা, রুযি-রোজগার।
  • سُخْرِيًّا: একে অপরের সেবায় নিয়োজিত থাকা, একে অন্যের কাজে লাগা।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা কাফির-মুশরিকদের ভুল ধারণার জবাব দিচ্ছেন। তারা বলত, কেন এই কুরআন বা নবুওয়াত মক্কা বা তায়েফের কোনো বড়, ধনী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দেওয়া হলো না? আল্লাহ তাদের এই আপত্তির জবাবে বলেন—তারা কি আল্লাহর রহমত (নবুওয়াত) বণ্টন করার অধিকারী? অথচ তারা নিজেদের জীবিকার ব্যাপারেও অক্ষম!

আল্লাহ তাআলা বলেন, দুনিয়ার জীবনে মানুষের রুযি-রিজিক, সম্পদ, শক্তি-সামর্থ্য ইত্যাদি বণ্টনের মালিক একমাত্র আমিই। আমি নিজ হিকমত অনুযায়ী কাউকে ধনী, কাউকে গরিব; কাউকে শক্তিশালী, কাউকে দুর্বল করেছি। মানুষের সামাজিক জীবন যেন সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হয়, সেজন্যই এই পার্থক্য। ফলে একজন আরেকজনের প্রয়োজন অনুভব করে, একে অপরের সেবায় নিয়োজিত হয়—ধনী ব্যক্তি গরিবের শ্রম ব্যবহার করে, আর গরিব ব্যক্তি ধনীর কাছ থেকে অর্থ পেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। এভাবেই সমাজের চাকা সচল থাকে।

এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—আপনার রবের রহমত, অর্থাৎ জান্নাত ও নবুওয়াতের মর্যাদা, যা তারা দুনিয়ায় জমা করে সেই সামান্য ও নশ্বর সম্পদের চেয়ে অনেক উত্তম। দুনিয়ার সম্পদ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আল্লাহর রহমত চিরস্থায়ী ও অমূল্য।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহই সকল বণ্টনের মালিক—রিজিক, সম্মান, মর্যাদা সবকিছু তাঁর ইচ্ছায় নির্ধারিত হয়। তাই মানুষের উচিত আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা।
  2. দুনিয়ার জীবনে মানুষের মধ্যে পার্থক্য থাকা আল্লাহর হিকমত। এতে সমাজের শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং মানুষ পরস্পরের সহযোগিতায় জীবন পরিচালনা করে।
  3. নবুওয়াত বা দ্বীনের দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই নির্ধারণ করেন, মানুষের পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নয়। আল্লাহ যাকে চান, তাঁর রহমতের জন্য মনোনীত করেন।
  4. দুনিয়ার সম্পদ ও পদমর্যাদার মোহে বিভ্রান্ত না হয়ে আখিরাতের সাফল্যকেই আসল লক্ষ্য বানানো উচিত, কারণ আল্লাহর রহমত (জান্নাত) দুনিয়ার সব সম্পদের চেয়ে উত্তম।
  5. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি—অন্যকে ছোট না করে প্রত্যেকের অবস্থানকে আল্লাহর বণ্টন হিসেবে মেনে নেওয়া এবং নিজের অবস্থানে থেকে সৎকর্ম করা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 30-34 — আজ-জুখরুফ

30وَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوا هَٰذَا سِحْرٌ وَإِنَّا بِهِ كَافِرُونَ
যখন সত্য তাদের কাছে আগমন করল, তখন তারা বলল, এটা যাদু, আমরা একে মানি না।
31وَقَالُوا لَوْلَا نُزِّلَ هَٰذَا الْقُرْآنُ عَلَىٰ رَجُلٍ مِّنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ
তারা বলে, কোরআন কেন দুই জনপদের কোন প্রধান ব্যক্তির উপর অবতীর্ণ হল না?
32أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَتَ رَبِّكَ ۚ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُم مَّعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۚ وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِّيَتَّخِذَ بَعْضُهُم بَعْضًا سُخْرِيًّا ۗ وَرَحْمَتُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ
তারা কি আপনার পালনকর্তার রহমত বন্টন করে? আমি তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছি, যাতে একে অপরকে সেবক রূপে গ্রহণ করে। তারা যা সঞ্চয় করে, আপনার পালনকর্তার রহমত তদপেক্ষা উত্তম।
33وَلَوْلَا أَن يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَّجَعَلْنَا لِمَن يَكْفُرُ بِالرَّحْمَٰنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِّن فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ
যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে আমি তাদেরকে দিতাম তাদের গৃহের জন্যে রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি, যার উপর তারা চড়ত।
34وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَابًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِئُونَ
এবং তাদের গৃহের জন্যে দরজা দিতাম এবং পালংক দিতাম যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত।
আজ-জুখরুফকুরআন সূচী
89আয়াত
মাক্কীRevelation
32আয়াত

অনুবাদ — আজ-জুখরুফ 32

সূরা আজ-জুখরুফ আয়াত 32 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা কি আপনার পালনকর্তার রহমত বন্টন করে? আমি তাদের মধ্যে…

সূরা আয়াত 32/89 — আজ-জুখরুফ الزخرف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আজ-জুখরুফ শুনুন, আজ-জুখরুফ অনুবাদ, আজ-জুখরুফ mp3, আজ-জুখরুফ pdf. আয়াত 30–34. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না