আল-মায়িদা · 43/120
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মায়িদা
وَكَيْفَ يُحَكِّمُونَكَ وَعِندَهُمُ التَّوْرَاةُ فِيهَا حُكْمُ اللَّهِ ثُمَّ يَتَوَلَّوْنَ مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ ۚ وَمَا أُولَٰئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ ۝٤٣
Wa kaifa yuhakkimoonaka wa `indahumut Tawraatu feehaa hukmul laahi summa yatawallawna mim ba`di zaalik; wa maaa ulaaa`ika bilmu`mineen
📖 বাংলা অর্থ
তারা আপনাকে কেমন করে বিচারক নিয়োগ করবে অথচ তাদের কাছে তওরাত রয়েছে। তাতে আল্লাহর নির্দেশ আছে। অতঃপর এরা পেছন দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা কখনও বিশ্বাসী নয়।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি শব্দের অর্থ:

  • يُحَكِّمُونَكَ — তোমাকে বিচারক বা সালিস নিযুক্ত করে।
  • حُكْمُ اللَّهِ — আল্লাহর বিধান (এখানে ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে ‘রজম’ বা পাথর মেরে হত্যার বিধান)।
  • يَتَوَلَّوْنَ — তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিমুখ হয়।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আয়াতটি ইয়াহুদীদের এক আশ্চর্য ও পরস্পরবিরোধী আচরণের বর্ণনা দিচ্ছে। আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বিস্ময় প্রকাশ করছেন— কীভাবে এই ইয়াহুদীরা তোমাকে (হে নবী!) তাদের বিচারক বানিয়ে আনে, অথচ তারা তোমার প্রতি ঈমান আনে না এবং তোমার আনীত বিধানকেও সত্য বলে মেনে নেয় না? অথচ তাদের কাছে তাওরাত রয়েছে, যে কিতাবের প্রতি তারা ঈমানের দাবি করে, এবং সেই তাওরাতেই আল্লাহর স্পষ্ট বিধান বিদ্যমান— যেমন ব্যভিচারের শাস্তি রজম (পাথর মেরে হত্যা)।

কিন্তু তাদের অবস্থান আরও অদ্ভুত— তারা তোমার কাছে বিচার চায়, কিন্তু যখন তুমি তাদের কামনা-বাসনার বিপরীতে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফয়সালা দাও, তখন তারা তা মেনে নেয় না এবং বিমুখ হয়ে চলে যায়। এভাবে তারা একই সাথে দুটি বড় অপরাধ করে: (১) তারা নিজেদের কিতাব তাওরাতের বিধান প্রত্যাখ্যান করে, যা তারা মেনে চলার দাবি করে; (২) তারা তোমার ন্যায়বিচারকেও অগ্রাহ্য করে, যদিও তারা নিজেরাই তোমাকে বিচারক নিযুক্ত করেছিল।

আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা করছেন— যাদের এহেন অবস্থা, তারা আদৌ মুমিন নয়। কারণ প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহর বিধান পেয়ে তা আনন্দচিত্তে মেনে নেওয়া, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ না করা। এই ইয়াহুদীদের কাজ মুমিনের কোনো কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়; বরং তাদের অন্তর ঈমান থেকে খালি।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলামের বিধান সর্বাবস্থায় মেনে চলা জরুরি; নিজের পছন্দ-অপছন্দ বা স্বার্থের ভিত্তিতে বিধান গ্রহণ-বর্জন করা কপটতা ও ঈমানহীনতার লক্ষণ।
  2. যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের বিধান জেনেও তা প্রত্যাখ্যান করে এবং অন্য কিছুর দিকে ঝুঁকে পড়ে, তার ঈমান দুর্বল বা অসম্পূর্ণ।
  3. প্রকৃত মুমিনের পরিচয় হলো— আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সিদ্ধান্তে পূর্ণ সন্তুষ্ট থাকা এবং তা মেনে নেওয়া, এমনকি তা নিজের ইচ্ছার বিপরীত হলেও।
  4. এই আয়াত মুসলিমদের জন্য বড় শিক্ষা— দ্বীনের ব্যাপারে কখনো নিজের প্রবৃত্তিকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না; সর্বদা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশই অগ্রাধিকার পাবে।
  5. কিতাবের বিধানকে পাশ কাটিয়ে নিজের মনগড়া ফয়সালা করা বা অন্যায়ের পক্ষে থাকা— এ জাতীয় কাজ থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটি ঈমানদারের কর্তব্য।


📜 আয়াত 41-45 — সূরা আল-মায়িদা

41۞ يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِن قُلُوبُهُمْ ۛ وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا ۛ سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آخَرِينَ لَمْ يَأْتُوكَ ۖ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِن بَعْدِ مَوَاضِعِهِ ۖ يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَٰذَا فَخُذُوهُ وَإِن لَّمْ تُؤْتَوْهُ فَاحْذَرُوا ۚ وَمَن يُرِدِ اللَّهُ فِتْنَتَهُ فَلَن تَمْلِكَ لَهُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ۚ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ لَمْ يُرِدِ اللَّهُ أَن يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ ۖ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
হে রসূল, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না, যারা দৌড়ে গিয়ে কুফরে পতিত হয়; যারা মুখে বলেঃ আমরা মুসলমান, অথচ তাদের অন্তর মুসলমান নয় এবং যারা ইহুদী; মিথ্যাবলার জন্যে তারা গুপ্তচর বৃত্তি করে। তারা অন্যদলের গুপ্তচর, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে। তারা বলেঃ যদি তোমরা এ নির্দেশ পাও, তবে কবুল করে নিও এবং যদি এ নির্দেশ না পাও, তবে বিরত থেকো। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার জন্যে আল্লাহর কাছে আপনি কিছু করতে পারবেন না। এরা এমনিই যে, আল্লাহ এদের অন্তরকে পবিত্র করতে চান না। তাদের জন্যে রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং পরকালে বিরাট শাস্তি।
42سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ ۚ فَإِن جَاءُوكَ فَاحْكُم بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ۖ وَإِن تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَن يَضُرُّوكَ شَيْئًا ۖ وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِالْقِسْطِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
এরা মিথ্যা বলার জন্যে গুপ্তচরবৃত্তি করে, হারাম ভক্ষণ করে। অতএব, তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে হয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন, না হয় তাদের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকুন। যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের সাধ্য নেই যে, আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে। যদি ফয়সালা করেন, তবেন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।
43وَكَيْفَ يُحَكِّمُونَكَ وَعِندَهُمُ التَّوْرَاةُ فِيهَا حُكْمُ اللَّهِ ثُمَّ يَتَوَلَّوْنَ مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ ۚ وَمَا أُولَٰئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ
তারা আপনাকে কেমন করে বিচারক নিয়োগ করবে অথচ তাদের কাছে তওরাত রয়েছে। তাতে আল্লাহর নির্দেশ আছে। অতঃপর এরা পেছন দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা কখনও বিশ্বাসী নয়।
44إِنَّا أَنزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ ۚ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِن كِتَابِ اللَّهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَاءَ ۚ فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ
আমি তওরাত অবর্তীর্ন করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর, দরবেশ ও আলেমরা এর মাধ্যমে ইহুদীদেরকে ফয়সালা দিতেন। কেননা, তাদেরকে এ খোদায়ী গ্রন্থের দেখাশোনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং তাঁরা এর রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত ছিলেন। অতএব, তোমরা মানুষকে ভয় করো না এবং আমাকে ভয় কর এবং আমার আয়াত সমূহের বিনিময়ে স্বল্পমূল্যে গ্রহণ করো না, যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের।
45وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنفَ بِالْأَنفِ وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ۚ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهُ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
আমি এ গ্রন্থে তাদের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং যখম সমূহের বিনিময়ে সমান যখম। অতঃপর যে ক্ষমা করে, সে গোনাহ থেকে পাক হয়ে যায়। যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই জালেম।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
43আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 43

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 43 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা আপনাকে কেমন করে বিচারক নিয়োগ করবে অথচ তাদের কাছে…

সূরা আয়াত 43/120 — সূরা আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মায়িদা শুনুন, সূরা আল-মায়িদা অনুবাদ, সূরা আল-মায়িদা mp3, সূরা আল-মায়িদা pdf. আয়াত 41–45. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না