আল-আরাফ · 143/206
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আরাফ
وَلَمَّا جَاءَ مُوسَىٰ لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنظُرْ إِلَيْكَ ۚ قَالَ لَن تَرَانِي وَلَٰكِنِ انظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي ۚ فَلَمَّا تَجَلَّىٰ رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكًّا وَخَرَّ مُوسَىٰ صَعِقًا ۚ فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ ۝١٤٣
Wa lammaa jaaa`a Moosa limeeqaatinaa wa kallamahoo Rabbuhoo qaala Rabbi arineee anzur ilaik; qaala lan taraanee wa laakininzur ilal jabali fa inistaqarra makaanahoo faswfa taraanee; falammaa tajallaa Rabbuhoo liljabali ja`alahoo dakkanw wa kharra Moosaa sa`iqaa; falammaaa afaaqa qaala Subhaanaka tubtu ilaika wa ana awwalul mu`mineen
📖 বাংলা অর্থ
তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • مِيقَاتِنَا (মিকাতিনা): আমাদের নির্ধারিত সময়, অর্থাৎ যে নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-এর সাথে কথা বলার ওয়াদা করেছিলেন।
  • تَجَلَّى (তাজাল্লা): নিজের জ্যোতি বা আলো প্রকাশ করা, দৃশ্যমান হওয়া।
  • دَكًّا (দাক্কান): চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে সমতল ভূমিতে মিশে যাওয়া।
  • صَعِقًا (সা'য়িকান): অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়া, সংজ্ঞা হারানো।
  • أُفَاقَ (আফাকা): জ্ঞান ফিরে পাওয়া, চেতনা ফিরে আসা।

তাফসীর:

যখন মূসা (আঃ) আমাদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলেন—যে সময়টি ছিল চল্লিশটি পূর্ণ রাতের সমষ্টি—এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন, তাকে ওহী, আদেশ-নিষেধ ও অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞান দান করলেন, তখন তার অন্তর ব্যাকুল হয়ে উঠল। তিনি আল্লাহর দিদার লাভের গভীর আকাঙ্ক্ষা অনুভব করলেন। তাই তিনি বিনীতভাবে প্রার্থনা করলেন, "হে আমার রব! আমাকে তোমাকে দেখাও, আমি তোমার দিকে তাকাতে চাই।"

আল্লাহ তাআলা তাকে জবাব দিলেন, "তুমি আমাকে কখনো দেখতে পারবে না"—অর্থাৎ এই দুনিয়ার জীবনে কোনো মানুষের পক্ষেই আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়, কারণ মানুষের সৃষ্টিগত ক্ষমতা এত বড় দৃশ্য সহ্য করার মতো নয়। তবে আল্লাহ তাআলা তাকে একটি পরীক্ষার শর্ত দিলেন: "তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও। আমি যদি পাহাড়ের ওপর আমার জ্যোতি প্রকাশ করি এবং পাহাড়টি যদি তার জায়গায় স্থির থাকে, তাহলে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। আর যদি পাহাড় ধ্বংস হয়ে যায়, তবে বুঝবে যে, মানুষের পক্ষে দুনিয়ায় আমাকে দেখা সম্ভব নয়।"

এরপর আল্লাহ তাআলা পাহাড়ের প্রতি তার জ্যোতি প্রকাশ করলেন। সাথে সাথে বিশাল, সুউচ্চ পাহাড়টি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে সমতল ভূমিতে মিশে গেল। এই ভয়ংকর ও মহিমান্বিত দৃশ্য দেখে মূসা (আঃ) সংজ্ঞা হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন।

যখন তার জ্ঞান ফিরে এলো, তখন তিনি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে বললেন, "হে আমার রব! তুমি পবিত্র, তুমি সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত। আমি তোমার কাছে তওবা করছি—দুনিয়ায় তোমাকে দেখার যে প্রার্থনা আমি করেছিলাম, সে জন্য অনুতপ্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসছি। আর আমি আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম ঈমানদার যে, দুনিয়ায় তোমাকে দেখা সম্ভব নয়; তোমার দর্শন কেবল আখিরাতের জন্য নির্ধারিত।"


আমাদের জন্য শিক্ষণীয় দিক:

এই ঘটনা থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ তাআলার মহিমা ও জ্যোতি এতই অপার যে, তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই তা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না। পাহাড়ের মতো শক্ত ও বিশাল বস্তুও তাঁর এক প্রকাশে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। সুতরাং আমরা যেন আল্লাহর সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা না পোষণ করি এবং তাঁর দিদার লাভের প্রকৃত স্থান জান্নাতকেই মনে করি। আল্লাহর ভালোবাসা ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমাদের জীবনকে সাজানো উচিত। আর মূসা (আঃ)-এর মতো আমাদেরও উচিত, কোনো ভুল হয়ে গেলে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং নিজেকে সংশোধন করা। আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু—তিনি বান্দার তওবা কবুল করেন এবং তাকে আরও সম্মানিত করেন।



📜 আয়াত 141-145 — সূরা আল-আরাফ

141وَإِذْ أَنجَيْنَاكُم مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ ۖ يُقَتِّلُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ ۚ وَفِي ذَٰلِكُم بَلَاءٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ
আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদেরকে ফেরাউনের লোকদের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছি; তারা তোমাদেরকে দিত নিকৃষ্ট শাস্তি, তোমাদের পুত্র-সন্তানদের মেরে ফেলত এবং মেয়েদের বাঁচিয়ে রাখত। এতে তোমাদের প্রতি তোমাদের পরওয়ারদেগারের বিরাট পরীক্ষা রয়েছে।
142۞ وَوَاعَدْنَا مُوسَىٰ ثَلَاثِينَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَاهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِيقَاتُ رَبِّهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ۚ وَقَالَ مُوسَىٰ لِأَخِيهِ هَارُونَ اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ
আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশ রাত্রির এবং সেগুলোকে পূর্ন করেছি আরো দশ দ্বারা। বস্তুতঃ এভাবে চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর মূসা তাঁর ভাই হারুনকে বললেন, আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাক। তাদের সংশোধন করতে থাক এবং হাঙ্গামা সৃষ্টিকারীদের পথে চলো না।
143وَلَمَّا جَاءَ مُوسَىٰ لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنظُرْ إِلَيْكَ ۚ قَالَ لَن تَرَانِي وَلَٰكِنِ انظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي ۚ فَلَمَّا تَجَلَّىٰ رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكًّا وَخَرَّ مُوسَىٰ صَعِقًا ۚ فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ
তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি।
144قَالَ يَا مُوسَىٰ إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُن مِّنَ الشَّاكِرِينَ
(পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক।
145وَكَتَبْنَا لَهُ فِي الْأَلْوَاحِ مِن كُلِّ شَيْءٍ مَّوْعِظَةً وَتَفْصِيلًا لِّكُلِّ شَيْءٍ فَخُذْهَا بِقُوَّةٍ وَأْمُرْ قَوْمَكَ يَأْخُذُوا بِأَحْسَنِهَا ۚ سَأُرِيكُمْ دَارَ الْفَاسِقِينَ
আর আমি তোমাকে পটে লিখে দিয়েছি সর্বপ্রকার উপদেশ ও বিস্তারিত সব বিষয়। অতএব, এগুলোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং স্বজাতিকে এর কল্যাণকর বিষয়সমূহ দৃঢ়তার সাথে পালনের নির্দেশ দাও।
আল-আরাফকুরআন সূচী
206আয়াত
মাক্কীRevelation
143আয়াত

অনুবাদ — আল-আরাফ 143

সূরা আল-আরাফ আয়াত 143 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন…

সূরা আয়াত 143/206 — সূরা আল-আরাফ الأعراف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আরাফ শুনুন, সূরা আল-আরাফ অনুবাদ, সূরা আল-আরাফ mp3, সূরা আল-আরাফ pdf. আয়াত 141–145. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 8, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না