অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- مِيقَاتِنَا (মিকাতিনা): আমাদের নির্ধারিত সময়, অর্থাৎ যে নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-এর সাথে কথা বলার ওয়াদা করেছিলেন।
- تَجَلَّى (তাজাল্লা): নিজের জ্যোতি বা আলো প্রকাশ করা, দৃশ্যমান হওয়া।
- دَكًّا (দাক্কান): চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে সমতল ভূমিতে মিশে যাওয়া।
- صَعِقًا (সা'য়িকান): অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়া, সংজ্ঞা হারানো।
- أُفَاقَ (আফাকা): জ্ঞান ফিরে পাওয়া, চেতনা ফিরে আসা।
তাফসীর:
যখন মূসা (আঃ) আমাদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলেন—যে সময়টি ছিল চল্লিশটি পূর্ণ রাতের সমষ্টি—এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন, তাকে ওহী, আদেশ-নিষেধ ও অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞান দান করলেন, তখন তার অন্তর ব্যাকুল হয়ে উঠল। তিনি আল্লাহর দিদার লাভের গভীর আকাঙ্ক্ষা অনুভব করলেন। তাই তিনি বিনীতভাবে প্রার্থনা করলেন, "হে আমার রব! আমাকে তোমাকে দেখাও, আমি তোমার দিকে তাকাতে চাই।"
আল্লাহ তাআলা তাকে জবাব দিলেন, "তুমি আমাকে কখনো দেখতে পারবে না"—অর্থাৎ এই দুনিয়ার জীবনে কোনো মানুষের পক্ষেই আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়, কারণ মানুষের সৃষ্টিগত ক্ষমতা এত বড় দৃশ্য সহ্য করার মতো নয়। তবে আল্লাহ তাআলা তাকে একটি পরীক্ষার শর্ত দিলেন: "তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও। আমি যদি পাহাড়ের ওপর আমার জ্যোতি প্রকাশ করি এবং পাহাড়টি যদি তার জায়গায় স্থির থাকে, তাহলে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। আর যদি পাহাড় ধ্বংস হয়ে যায়, তবে বুঝবে যে, মানুষের পক্ষে দুনিয়ায় আমাকে দেখা সম্ভব নয়।"
এরপর আল্লাহ তাআলা পাহাড়ের প্রতি তার জ্যোতি প্রকাশ করলেন। সাথে সাথে বিশাল, সুউচ্চ পাহাড়টি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে সমতল ভূমিতে মিশে গেল। এই ভয়ংকর ও মহিমান্বিত দৃশ্য দেখে মূসা (আঃ) সংজ্ঞা হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন।
যখন তার জ্ঞান ফিরে এলো, তখন তিনি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে বললেন, "হে আমার রব! তুমি পবিত্র, তুমি সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত। আমি তোমার কাছে তওবা করছি—দুনিয়ায় তোমাকে দেখার যে প্রার্থনা আমি করেছিলাম, সে জন্য অনুতপ্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসছি। আর আমি আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম ঈমানদার যে, দুনিয়ায় তোমাকে দেখা সম্ভব নয়; তোমার দর্শন কেবল আখিরাতের জন্য নির্ধারিত।"
আমাদের জন্য শিক্ষণীয় দিক:
এই ঘটনা থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ তাআলার মহিমা ও জ্যোতি এতই অপার যে, তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই তা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না। পাহাড়ের মতো শক্ত ও বিশাল বস্তুও তাঁর এক প্রকাশে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। সুতরাং আমরা যেন আল্লাহর সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা না পোষণ করি এবং তাঁর দিদার লাভের প্রকৃত স্থান জান্নাতকেই মনে করি। আল্লাহর ভালোবাসা ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমাদের জীবনকে সাজানো উচিত। আর মূসা (আঃ)-এর মতো আমাদেরও উচিত, কোনো ভুল হয়ে গেলে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং নিজেকে সংশোধন করা। আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু—তিনি বান্দার তওবা কবুল করেন এবং তাকে আরও সম্মানিত করেন।
📜 আয়াত 141-145 — সূরা আল-আরাফ
অনুবাদ — আল-আরাফ 143
সূরা আল-আরাফ আয়াত 143 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন…সূরা আয়াত 143/206 — সূরা আল-আরাফ الأعراف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আরাফ শুনুন, সূরা আল-আরাফ অনুবাদ, সূরা আল-আরাফ mp3, সূরা আল-আরাফ pdf. আয়াত 141–145. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, September 8, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








