Qul laaa amliku linafsee naf`anw wa laa darran illaa maa shaaa`al laah; wa law kuntu a`alamul ghaiba lastaksartu minal khairi wa maa massaniyas soo`; in ana illaa nazeerunw wa basheerul liqawminy yu`minoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ऐ रसूल) तुम कह दो कि मै ख़ुद अपना आप तो एख़तियार रखता ही नहीं न नफे क़ा न ज़रर का मगर बस वही ख़ुदा जो चाहे और अगर (बग़ैर ख़ुदा के बताए) गैब को जानता होता तो यक़ीनन मै अपना बहुत सा फ़ायदा कर लेता और मुझे कभी कोई तकलीफ़ भी न पहुँचती मै तो सिर्फ ईमानदारों को (अज़ाब से डराने वाला) और वेहशत की खुशख़बरी देने वाला हँ
আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لا أَمْلِكُ – আমি মালিক নই, আমার ক্ষমতায় নেই।
نَفْعًا – উপকার, কল্যাণ।
ضَرًّا – অপকার, ক্ষতি।
الْغَيْبَ – অদৃশ্য বিষয়, যা ইন্দ্রিয়ের অগোচর।
لَاسْتَكْثَرْتُ – আমি অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে সংগ্রহ করতাম।
السُّوءَ – অমঙ্গল, ক্ষতি, দুঃখ-কষ্ট।
نَذِيرٌ – সতর্ককারী, ভয় প্রদর্শনকারী।
بَشِيرٌ – সুসংবাদদাতা।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে নবী! আপনি লোকদের বলে দিন, “আমার নিজের জন্যেও কোনো উপকার আনার বা কোনো ক্ষতি দূর করার ক্ষমতা আমার নেই। আল্লাহ যা চান তা-ই হয়; তাঁর ইচ্ছা ছাড়া আমার কিছুই করার নেই। আমি তো একজন মানুষ, আল্লাহর অনুগ্রহ ও জ্ঞান ছাড়া আমার কিছুই জানা নেই।”
যদি আমি অদৃশ্য বিষয় (গায়েব) জানতাম, তবে আমি এমন সব উপায়-উপকরণ গ্রহণ করতাম যা আমার জন্য কল্যাণ ও মঙ্গল নিশ্চিত করত, এবং আগে থেকেই জানতে পারতাম কোন পথে ক্ষতি বা বিপদ আসতে পারে, ফলে তা এড়িয়ে চলতে পারতাম। কিন্তু আমি গায়েব জানি না; এ জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে। তিনি তাঁর রাসূলদেরকে যতটুকু জানান, ততটুকুই তারা জানেন।
আমি তো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল মাত্র। আমার কাজ হলো—যারা আল্লাহর অবাধ্যতা করে তাদেরকে তাঁর শাস্তির ভয় দেখানো (নাযির) এবং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদেরকে তাঁর জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া (বাশির)। এই দাওয়াত ও সতর্কবার্তা কেবল তাদের জন্যই ফলপ্রসূ হবে যারা সত্যকে মেনে নেয় এবং আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
সকল ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর হাতে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-ও নিজের জন্য উপকার-অপকারের মালিক নন, বরং আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত। সুতরাং আমাদের উচিত সব বিষয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া।
গায়েবের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে। কোনো মানুষ, জ্যোতিষী বা গণক ভবিষ্যৎ বলতে পারে না। তাই ভবিষ্যদ্বাণী ও অদৃশ্য বিষয়ের খবর দেওয়া থেকে দূরে থাকা এবং কেবল আল্লাহর ওপর নির্ভর করাই ঈমানদারের কাজ।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দায়িত্ব ছিল সতর্ক করা ও সুসংবাদ দেওয়া। তিনিই আমাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক। তাঁর আনীত শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়লেই আমরা দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা লাভ করব।
ঈমানদারদের জন্য এই আয়াত অত্যন্ত সান্ত্বনাদায়ক—যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ। আল্লাহ কখনো তাদের নিরাশ করেন না।
নিজের ক্ষমতা ও জ্ঞান সীমিত জেনে বিনয়ী হওয়া এবং সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়াই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এতে অন্তর প্রশান্ত থাকে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা দৃঢ় হয়।
আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না।
আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য।
তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে; আর তার থেকেই তৈরী করেছেন তার জোড়া, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। অতঃপর পুরুষ যখন নারীকে আবৃত করল, তখন, সে গর্ভবতী হল। অতি হালকা গর্ভ। সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকল। তারপর যখন বোঝা হয়ে গেল, তখন উভয়েই আল্লাহকে ডাকল যিনি তাদের পালনকর্তা যে, তুমি যদি আমাদিগকে সুস্থ ও ভাল দান কর তবে আমরা তোমার শুকরিয়া আদায় করব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।