আল-মুদ্দাসসির · 30/56
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মুদ্দাসসির
عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ ۝٣٠
Alaihaa tis`ata `ashar
📖 বাংলা অর্থ
এর উপর নিয়োজিত আছে উনিশ (ফেরেশতা)।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • عَلَيْهَا – তার (জাহান্নামের) উপর।
  • تِسْعَةَ عَشَرَ – উনিশ (১৯) জন।

তাফসীর:

আয়াতটি জাহান্নামের প্রহরী ও শাস্তিদানকারী ফেরেশতাদের সম্পর্কে বর্ণনা করছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, জাহান্নামের তত্ত্বাবধানে ও শাস্তি কার্যকর করার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে উনিশজন ফেরেশতা। তারা অত্যন্ত কঠোর, শক্তিশালী ও নির্দয়। এরা জাহান্নামের দারোগা বা খাজিন। প্রত্যেকটি ফেরেশতা এতই শক্তিশালী যে, একা একজনই গোটা জাহান্নামের আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। এদের কাজ হলো জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত প্রতিটি পাপীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া, তাদেরকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা এবং কোনোভাবেই তাদেরকে রেহাই না দেওয়া। এই উনিশ সংখ্যাটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, যা মানুষের জন্য একটি পরীক্ষা। কেউ কেউ মনে করতে পারে, মাত্র উনিশজন প্রহরী কীভাবে এত বিশাল জাহান্নাম ও অসংখ্য মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করবে? কিন্তু আল্লাহর ক্ষমতার কাছে এটি অতি সামান্য বিষয়। প্রত্যেক ফেরেশতার শক্তি ও ক্ষমতা এমন যে, সে একাই বিরাট বাহিনীর মোকাবিলা করতে সক্ষম। এই আয়াত দ্বারা জাহান্নামের ভয়াবহতা ও সেখানকার শাস্তির কঠোরতা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে, যেন তারা পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে।

ফায়েদা বা শিক্ষণীয় বিষয়:

  1. জাহান্নাম অত্যন্ত ভয়াবহ স্থান, যেখানে শাস্তি কার্যকর করার জন্য আল্লাহ শক্তিশালী ফেরেশতা নিয়োজিত রেখেছেন। এটি শুনে প্রতিটি মুমিনের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও আখিরাতের চিন্তা জাগ্রত হওয়া উচিত।
  2. আল্লাহর সৃষ্টি ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত বিস্ময়কর। উনিশজন ফেরেশতা দিয়ে বিশাল জাহান্নাম পরিচালনা আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ। আমাদের উচিত আল্লাহর ক্ষমতা ও কুদরতের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখা।
  3. এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, দুনিয়ার জীবনে আমরা যে আমলই করি না কেন, তার হিসাব অবশ্যই দিতে হবে। পাপী ব্যক্তিদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি অত্যন্ত কঠিন, তাই আমাদের উচিত সর্বদা সৎকর্ম করা এবং পাপ থেকে দূরে থাকা।
  4. আল্লাহর ভয়ই মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং পাপ থেকে বিরত রাখে। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত কুরআনের এই সতর্কবাণী বারবার স্মরণ করা এবং নিজের আমলকে সংশোধন করা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 28-32 — আল-মুদ্দাসসির

28لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ
এটা অক্ষত রাখবে না এবং ছাড়বেও না।
29لَوَّاحَةٌ لِّلْبَشَرِ
মানুষকে দগ্ধ করবে।
30عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ
এর উপর নিয়োজিত আছে উনিশ (ফেরেশতা)।
31وَمَا جَعَلْنَا أَصْحَابَ النَّارِ إِلَّا مَلَائِكَةً ۙ وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا ۙ وَلَا يَرْتَابَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْمُؤْمِنُونَ ۙ وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْكَافِرُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلًا ۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ ۚ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ ۚ وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْبَشَرِ
আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাই রেখেছি। আমি কাফেরদেরকে পরীক্ষা করার জন্যেই তার এই সংখ্যা করেছি-যাতে কিতাবীরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়, মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবীরা ও মুমিনগণ সন্দেহ পোষণ না করে এবং যাতে যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা এবং কাফেররা বলে যে, আল্লাহ এর দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছেন। এমনিভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে চালান। আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন এটা তো মানুষের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।
32كَلَّا وَالْقَمَرِ
কখনই নয়। চন্দ্রের শপথ,
আল-মুদ্দাসসিরকুরআন সূচী
56আয়াত
মাক্কীRevelation
30আয়াত

অনুবাদ — আল-মুদ্দাসসির 30

সূরা আল-মুদ্দাসসির আয়াত 30 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এর উপর নিয়োজিত আছে উনিশ (ফেরেশতা)।

সূরা আয়াত 30/56 — আল-মুদ্দাসসির المدثر (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মুদ্দাসসির শুনুন, আল-মুদ্দাসসির অনুবাদ, আল-মুদ্দাসসির mp3, আল-মুদ্দাসসির pdf. আয়াত 28–32. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না