আত-তওবা · 31/129
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আত-তওবা
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَٰهًا وَاحِدًا ۖ لَّا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ ۝٣١
ittakhazooo ahbaarahum wa ruhbaanahum arbaabammin doonil laahi wal Maseehab na Maryama wa maaa umirooo illaa liya`budooo Ilaahanw Waa hidan laaa ilaaha illaa Hoo; Subhaanahoo `ammaa yushrikoon
📖 বাংলা অর্থ
তারা তাদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগীদিগকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ ব্যতীত এবং মরিয়মের পুত্রকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মাবুদের এবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তারা তাঁর শরীক সাব্যস্ত করে, তার থেকে তিনি পবিত্র।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَحْبَارَهُمْ (আহবার): ইয়াহুদীদের আলিম/পণ্ডিতগণ।
  • رُهْبَانَهُمْ (রুহবান): খ্রিষ্টানদের ধর্মযাজক/সাধু-সন্ন্যাসীগণ।
  • أَرْبَابًا (আরবাব): প্রভু/রব (এখানে আল্লাহর বিধানের বিপরীতে নিজেদের জন্য বিধানদাতা হিসেবে মান্য করা)।
  • مِن دُونِ اللهِ (মিন দুনিল্লাহ): আল্লাহকে বাদ দিয়ে।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের একটি গুরুতর ভ্রান্তির কথা তুলে ধরেছেন। তারা তাদের আলিম ও ধর্মযাজকদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে প্রভু বানিয়ে নিয়েছিল। অর্থাৎ, তারা যখন হালাল-হারাম সংক্রান্ত কোনো নির্দেশ দিত, তখন তারা তা মেনে নিত—যদিও তা আল্লাহর বিধানের বিপরীত হতো। তারা মনে করত, এদের কথা মান্য করা জরুরি, এমনকি আল্লাহর বিধানকে বাদ দিয়েও। অথচ আল্লাহ তাআলা কিতাবসমূহে তাদেরকে স্পষ্টভাবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এছাড়া খ্রিষ্টানরা মারিয়াম (আঃ)-এর পুত্র ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছিল। অথচ ঈসা (আঃ) নিজেও আল্লাহরই একজন নবী ও বান্দা ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে এবং তাদের পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসূলকে শুধুমাত্র একটি নির্দেশই দিয়েছেন—সেটি হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, যিনি এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি পবিত্র ও মহান—তারা তাঁর সাথে যাদেরকে শরীক করে, তিনি তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলামের মূল শিক্ষা হলো তাওহীদ—আল্লাহকে একক উপাস্য ও বিধানদাতা হিসেবে মানা। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রন্থকে আল্লাহর বিধানের উপর প্রাধান্য দেওয়া শিরকের পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারে।
  2. আলিম ও ধর্মীয় নেতাদের কথা তখনই মান্য করা জায়েয, যখন তা কুরআন-সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তাদের কোনো মতামত আল্লাহর বিধানের বিপরীত হলে তা গ্রহণ করা হারাম।
  3. নবী-রাসূলগণ (আঃ) সকলেই মানুষ ছিলেন এবং আল্লাহরই বান্দা। তাদেরকে আল্লাহর মর্যাদায় উন্নীত করা বা তাদেরকে উপাস্য বানানো সম্পূর্ণ ভুল ও শিরক।
  4. ইসলামের দৃষ্টিতে ধর্মীয় নেতাদের প্রকৃত মর্যাদা হলো—তারা আল্লাহর বিধান প্রচার করবেন, নিজেদের পক্ষ থেকে নতুন বিধান তৈরি করবেন না। আল্লাহর বিধানই সর্বোচ্চ এবং সবার জন্য চূড়ান্ত মানদণ্ড।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত মুমিনের পরিচয় হলো—সে সর্বাবস্থায় আল্লাহর বিধানকে প্রাধান্য দেয় এবং তাঁরই নির্দেশ মেনে চলে।


📜 আয়াত 29-33 — সূরা আত-তওবা

29قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
30وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ۖ ذَٰلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَاهِهِمْ ۖ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَبْلُ ۚ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ ۚ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ
ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।
31اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَٰهًا وَاحِدًا ۖ لَّا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
তারা তাদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগীদিগকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ ব্যতীত এবং মরিয়মের পুত্রকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মাবুদের এবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তারা তাঁর শরীক সাব্যস্ত করে, তার থেকে তিনি পবিত্র।
32يُرِيدُونَ أَن يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَن يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ
তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ অবশ্যই তাঁর নূরের পূর্ণতা বিধান করবেন, যদিও কাফেররা তা অপ্রীতিকর মনে করে।
33هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ
তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
31আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 31

সূরা আত-তওবা আয়াত 31 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা তাদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগীদিগকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ…

সূরা আয়াত 31/129 — সূরা আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আত-তওবা শুনুন, সূরা আত-তওবা অনুবাদ, সূরা আত-তওবা mp3, সূরা আত-তওবা pdf. আয়াত 29–33. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না