আত-তওবা · 39/129
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তওবা
إِلَّا تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ۝٣٩
Illaa tanfiroo yu`az zibkum `azaaban aleemanw wa yastabdil qawman ghairakum wa laa tadurroohu shai`aa; wal laahu `alaa kulli shai`in Qadeer
📖 বাংলা অর্থ
যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • তানফিরূ (تَنْفِرُوا): বের হওয়া, জিহাদের জন্য যাত্রা করা।
  • আযাবান আলীম (عَذَابًا أَلِيمًا): বেদনাদায়ক শাস্তি।
  • ইয়াসতাবদিল (يَسْتَبْدِلْ): বদলে দেয়া, অন্য সম্প্রদায়কে স্থলাভিষিক্ত করা।
  • লা তাদুররূহু (لَا تَضُرُّوهُ): তোমরা তাকে (আল্লাহ বা তাঁর রাসূলকে) কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
  • কাদীর (قَدِيرٌ): সর্বশক্তিমান, সবকিছুতে পূর্ণ ক্ষমতাবান।

আয়াতের বিস্তারিত তাফসীর:

হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য বের না হও, অর্থাৎ শত্রুর মোকাবিলায় যদি তোমরা পিছনে থাকো এবং নবী করিম ﷺ-এর আহ্বানে সাড়া না দাও, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে বেদনাদায়ক শাস্তি দেবেন। এই শাস্তি দুনিয়াতেও হতে পারে, যেমন লাঞ্ছনা-অপমান, শত্রুর আধিপত্য, বিপদ-আপদ ইত্যাদির মাধ্যমে; আর আখিরাতেও হবে কঠিন জাহান্নামের শাস্তি।

এরপর আল্লাহ বলেন, তিনি তোমাদের বদলে অন্য এমন এক সম্প্রদায়কে আনবেন যারা তাঁর আদেশ পালনে অগ্রণী হবে, জিহাদের ডাকে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে। তারা তোমাদের চেয়ে উত্তম হবে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের প্রয়োজন নেই; বরং তোমরাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী।

তোমরা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ আল্লাহ সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ, তাঁর রাজ্য ও ক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই। তোমাদের না আসার কারণে তাঁর দ্বীন অপরাজিতই থাকবে। বরং তোমরা নিজেদেরই ক্ষতি করবে, নিজেদেরকে সাওয়াব ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করবে এবং শাস্তির উপযুক্ত হবে। কেউ কেউ বলেছেন, এখানে সর্বনামটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দিকে ইঙ্গিত করে, অর্থাৎ তোমরা রাসূলের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; কারণ আল্লাহ তাকে রক্ষা করার এবং দ্বীনকে বিজয়ী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা অবশ্যই পূর্ণ হবে।

আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান। তিনি চাইলে কোনো সাহায্যকারী ছাড়াই তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করতে পারেন, তাঁর নবীকে রক্ষা করতে পারেন এবং তাঁর শত্রুদের পরাজিত করতে পারেন। তাঁর ক্ষমতার সামনে তোমাদের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি কোনো বড় বিষয় নয়।


আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:

  1. জিহাদ ও আল্লাহর পথে ত্যাগ স্বীকার করা প্রতিটি মুমিনের ওপর ফরজ; তা পরিত্যাগ করা মারাত্মক গুনাহ এবং এর জন্য কঠিন শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে।
  2. আল্লাহ সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাঁর দ্বীনের জন্য আমাদের প্রয়োজন নেই; বরং আমাদেরই তাঁর দ্বীনের মাধ্যমে সম্মান ও কল্যাণ লাভের প্রয়োজন।
  3. আল্লাহ চাইলে যেকোনো জাতিকে সম্মানিত করতে পারেন এবং যেকোনো জাতিকে অপমানিত করতে পারেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর আদেশ পালনের মাধ্যমেই সম্মান অর্জনের চেষ্টা করা।
  4. আল্লাহর ক্ষমতা অপরিসীম। তিনি কোনো উপায় ছাড়াই তাঁর কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। তাই আমাদের উচিত তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে তাঁর আদেশ পালনে তৎপর হওয়া।
  5. এই আয়াত মুমিনদের জন্য এক মহা সতর্কবার্তা যে, আল্লাহর আদেশ অমান্য করা শুধু নিজের ক্ষতিই ডেকে আনে, আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তাই আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর আনুগত্যে থাকা এবং তাঁর রাস্তায় কুরবানি দিতে প্রস্তুত থাকা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 37-41 — আত-তওবা

37إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ ۖ يُضَلُّ بِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا لِّيُوَاطِئُوا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فَيُحِلُّوا مَا حَرَّمَ اللَّهُ ۚ زُيِّنَ لَهُمْ سُوءُ أَعْمَالِهِمْ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ
এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেরগণ গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।
38يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ۚ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।
39إِلَّا تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
40إِلَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا ۖ فَأَنزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَّمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَىٰ ۗ وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
যদি তোমরা তাকে (রসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ তার সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠালেন, যা তোমরা দেখনি। বস্তুতঃ আল্লাহ কাফেরদের মাথা নীচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই সদা সমুন্নত এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
41انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
39আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 39

সূরা আত-তওবা আয়াত 39 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন…

সূরা আয়াত 39/129 — আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তওবা শুনুন, আত-তওবা অনুবাদ, আত-তওবা mp3, আত-তওবা pdf. আয়াত 37–41. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না