Illaa tansuroohu faqad nasarahul laahu iz akhrajahul lazeena kafaroo saaniyasnaini iz humaa filghaari iz yaqoolu lisaahibihee la tahzan innnal laaha ma`anaa fa anzalallaahu sakeenatahoo `alaihi wa aiyadahoo bijunoodil lam tarawhaa wa ja`ala kalimatal lazeena kafarus suflaa; wa Kalimatul laahi hiyal `ulyaa; wallaahu `Azeezun Hakeem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যদি তোমরা তাকে (রসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ তার সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠালেন, যা তোমরা দেখনি। বস্তুতঃ আল্লাহ কাফেরদের মাথা নীচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই সদা সমুন্নত এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
अगर तुम उस रसूल की मदद न करोगे तो (कुछ परवाह् नहीं ख़ुदा मददगार है) उसने तो अपने रसूल की उस वक्त मदद की जब उसकी कुफ्फ़ार (मक्का) ने (घर से) निकल बाहर किया उस वक्त सिर्फ (दो आदमी थे) दूसरे रसूल थे जब वह दोनो ग़ार (सौर) में थे जब अपने साथी को (उसकी गिरिया व ज़ारी (रोने) पर) समझा रहे थे कि घबराओ नहीं ख़ुदा यक़ीनन हमारे साथ है तो ख़ुदा ने उन पर अपनी (तरफ से) तसकीन नाज़िल फरमाई और (फ़रिश्तों के) ऐसे लश्कर से उनकी मदद की जिनको तुम लोगों ने देखा तक नहीं और ख़ुदा ने काफिरों की बात नीची कर दिखाई और ख़ुदा ही का बोल बाला है और ख़ुदा तो ग़ालिब हिकमत वाला है
যদি তোমরা তাকে (রসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ তার সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠালেন, যা তোমরা দেখনি। বস্তুতঃ আল্লাহ কাফেরদের মাথা নীচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই সদা সমুন্নত এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
📜
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
ثَانِيَ اثْنَيْنِ (দ্বিতীয়জন): অর্থাৎ দুজনের একজন, যেখানে দুজন হলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং আবূ বকর সিদ্দীক رَضِيَ اللهُ عَنْهُ।
الْغَارِ (গুহা): পাহাড়ের গর্ত বা গুহা। এখানে মক্কার ‘সাওর’ পাহাড়ের গুহা।
سَكِينَتَهُ (তার প্রশান্তি): আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত প্রশান্তি, স্থিরতা ও মানসিক শান্তি।
أَيَّدَهُ (তাকে শক্তিশালী করলেন): তাকে সাহায্য ও সমর্থন দান করলেন।
كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا (কাফিরদের কালিমা): কুফরি ও শিরকের বাণী ও আহ্বান।
كَلِمَةُ اللهِ (আল্লাহর কালিমা): তাওহিদের বাণী, ইসলামের আহ্বান ও দ্বীন।
আয়াতের তাফসির:
হে মুমিনগণ! তোমরা যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে সাহায্য না করো এবং তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জিহাদে বের না হও, তাতে আল্লাহর দ্বীনের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ আল্লাহ নিজেই তার রাসূলকে সাহায্য করেছেন এমন এক কঠিন মুহূর্তে, যখন কাফিররা তাকে মক্কা থেকে বের করে দিয়েছিল। তখন তার সাথে ছিলেন মাত্র একজন সঙ্গী — আবূ বকর সিদ্দীক رَضِيَ اللهُ عَنْهُ। দুজন মানুষ, শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তারা আশ্রয় নিয়েছিলেন ‘সাওর’ পাহাড়ের একটি গুহায়। কাফিররা তাদের খুঁজতে খুঁজতে গুহার মুখ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তে আবূ বকর رَضِيَ اللهُ عَنْهُ রাসূলের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়লে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন: “তুমি দুঃখ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন” — অর্থাৎ তার রক্ষণাবেক্ষণ, সাহায্য ও সমর্থনে আমরা নিরাপদ।
ঠিক তখনই আল্লাহ তার রাসূলের ওপর প্রশান্তি ও স্থিরতা নাযিল করেন এবং এমন সৈন্যবাহিনী দিয়ে তাকে শক্তিশালী করেন যা তোমরা দেখতে পাওনি — তারা হলেন ফেরেশতারা। তারা কাফিরদের চোখ থেকে তাদেরকে আড়াল করে রেখেছিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। ফলে কাফিরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায়। আল্লাহ কাফিরদের বাণী ও আহ্বানকে চিরতরে নীচু করে দিলেন এবং তার নিজের বাণী — তাওহিদের কালিমা —কে সর্বোচ্চ ও বিজয়ী করলেন। আল্লাহ পরাক্রমশালী, কেউ তার ইচ্ছাকে পরাজিত করতে পারে না; আর তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়, প্রতিটি কাজ তিনি যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী করেন।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:
আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা: বিপদের চরম মুহূর্তেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে তিনি অবশ্যই সাহায্য করেন। রাসূল ﷺ গুহায় ছিলেন, কিন্তু তার অন্তর ছিল প্রশান্ত — কারণ তিনি জানতেন আল্লাহ তার সাথে আছেন।
সত্যের পথে একা হলেও বিজয় নিশ্চিত: সংখ্যায় কম হওয়া বা সম্পদে কম হওয়া কখনো সত্যের পথে বাধা নয়। আল্লাহর সাহায্য থাকলে অল্প সংখ্যক মানুষও বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করতে পারে।
সাহাবীদের মর্যাদা: এই আয়াতে আবূ বকর সিদ্দীক رَضِيَ اللهُ عَنْهُ-এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার প্রমাণ রয়েছে। রাসূল ﷺ-এর সাথে গুহায় থাকা, তার সান্ত্বনা দেওয়া এবং আল্লাহর প্রশান্তি নাযিল হওয়া — এটি তার জন্য এক বিশাল সম্মান।
দ্বীনের বিজয় অবশ্যম্ভাবী: কাফিররা যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, আল্লাহর দ্বীনই সর্বদা বিজয়ী থাকবে। কুফরের বাণী নীচু হয়ে যাবে এবং ইসলামের বাণী উচ্চে থাকবে।
নিরাশ না হওয়া: মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি একটি বিরাট শিক্ষা — যে অবস্থাতেই আমরা থাকি না কেন, আল্লাহর সাহায্যের ওপর আস্থা রাখতে হবে। কঠিন থেকে কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া জায়েজ নয়।
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।
যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
যদি তোমরা তাকে (রসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ তার সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠালেন, যা তোমরা দেখনি। বস্তুতঃ আল্লাহ কাফেরদের মাথা নীচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই সদা সমুন্নত এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
যদি আশু লাভের সম্ভাবনা থাকতো এবং যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত হতো, তবে তারা অবশ্যই আপনার সহযাত্রী হতো, কিন্তু তাদের নিকট যাত্রাপথ সুদীর্ঘ মনে হল। আর তারা এমনই শপথ করে বলবে, আমাদের সাধ্য থাকলে অবশ্যই তোমাদের সাথে বের হতাম, এরা নিজেরাই নিজেদের বিনষ্ট করছে, আর আল্লাহ জানেন যে, এরা মিথ্যাবাদী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।