অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- الْمَلَأُ — সমাজের নেতৃস্থানীয় ও সম্মানিত ব্যক্তিরা।
- أَرَاذِلُنَا — আমাদের সমাজের নীচু স্তরের মানুষ, যাদেরকে তারা তুচ্ছ জ্ঞান করত।
- بَادِيَ الرَّأْيِ — চেহারার দিক থেকে বা প্রথম দৃষ্টিতে, গভীর চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই।
তাফসীর:
হযরত নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের যে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা কুফরী করেছিল, তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনার বদলে অবজ্ঞা ও উপহাসের সুরে বলতে লাগল। তারা বলল, “হে নূহ! আমরা তো তোমাকে আমাদেরই মতো একজন সাধারণ মানুষ ছাড়া আর কিছুই দেখছি না। তুমি তো কোনো ফেরেশতা নও, আর আমাদের ওপর তোমার কোনো শ্রেষ্ঠত্বও তো আমরা দেখছি না। আর দেখছি, তোমার অনুসরণ করছে কেবল আমাদের সমাজের সেই সমস্ত নীচু ও তুচ্ছ লোকেরা, যারা কোনো চিন্তা-ভাবনা না করেই প্রথম দৃষ্টিতেই তোমার পেছনে লেগে গেছে। তোমাদের মধ্যে এমন কোনো গুণ বা শ্রেষ্ঠত্বও তো আমরা দেখছি না, যার কারণে আমরা তোমাদের অনুসরণ করব। বরং আমরা তো মনে করি, তোমরা সবাই মিথ্যাবাদী—তুমি এবং তোমার অনুসারীরা।”
তারা মূলত তিনটি অজুহাত পেশ করেছিল: প্রথমত, নূহ (আঃ) তাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ, তাই তিনি নবী হতে পারেন না। দ্বিতীয়ত, তাঁর অনুসারীরা সমাজের নীচু শ্রেণীর মানুষ, যারা বুদ্ধি-বিবেচনা ছাড়াই তাঁর কথা মেনে নিয়েছে। তৃতীয়ত, তাদের কাছে নূহ (আঃ) ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে এমন কোনো শ্রেষ্ঠত্ব বা মর্যাদা দেখা যায়নি, যা প্রমাণ করবে যে তারা সত্যের ওপর রয়েছে। তাই তারা নূহ (আঃ)-কে মিথ্যাবাদী বলেই আখ্যা দিল।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- সত্যের দাওয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের সামাজিক মর্যাদা বা সম্পদ কখনো মানদণ্ড হতে পারে না। বরং সত্য ও যুক্তিই হলো আসল মানদণ্ড।
- নবী-রাসূলগণও সাধারণ মানুষ ছিলেন, কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে বিশেষ মর্যাদা ও ওহী দান করেছিলেন। তাই কেউ সাধারণ মানুষ হওয়ার কারণে সত্যের বাণী বহন করতে পারে না—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
- সমাজের দুর্বল ও অসহায় মানুষেরা প্রায়শই সত্য গ্রহণে অগ্রণী হয়, কারণ তাদের অন্তর অহংকারমুক্ত থাকে। পক্ষান্তরে বড়দের অহংকার তাদের সত্য গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।
- মানুষের সমালোচনা বা উপহাস কখনো সত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়। নূহ (আঃ)-এর মতো ধৈর্য ধরে নিজের দাওয়াত চালিয়ে যেতে হবে।
- এই আয়াত থেকে আমরা শিখি, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে ডাকে, তাকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছ থেকে নানা রকম প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যাওয়াই হলো সফলতার চাবিকাঠি।
📜 আয়াত 25-29 — সূরা হুদ
অনুবাদ — হুদ 27
সূরা হুদ আয়াত 27 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তখন তাঁর কওমের কাফের প্রধানরা বলল আমরা তো আপনাকে আমাদের…সূরা আয়াত 27/123 — সূরা হুদ هود (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা হুদ শুনুন, সূরা হুদ অনুবাদ, সূরা হুদ mp3, সূরা হুদ pdf. আয়াত 25–29. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, September 8, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








