এই আয়াতে নবী হুদ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে যে মূল দাওয়াত দিয়েছিলেন তা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি তাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করো না। শুধুমাত্র আল্লাহই ইবাদতের যোগ্য, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি তারা এই একত্ববাদের বিরোধিতা করে এবং শিরকে লিপ্ত থাকে, তাহলে আমি তোমাদের জন্য সেই ভয়ানক দিনের আযাবের আশঙ্কা করছি—যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক হবে। সেই দিনটি হলো কিয়ামতের দিন, যখন প্রতিটি মানুষ তার কর্মফল ভোগ করবে এবং পাপীদের জন্য থাকবে কঠিন শাস্তি। হুদ (আ.) শুধু ভয় দেখাননি, বরং তাঁর দাওয়াত ছিল স্নেহ ও মমতাপূর্ণ—তিনি চেয়েছিলেন তাঁর সম্প্রদায়কে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করতে।
ফায়দা:
তাওহিদই (আল্লাহর একত্ববাদ)是所有 নবী-রাসূলের মূল বাণী। প্রতিটি যুগে প্রতিটি উম্মতের কাছে এই একই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে—শুধু আল্লাহর ইবাদত করো।
নবী-রাসূলগণ নিজেদের সম্প্রদায়ের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু ছিলেন। তারা মানুষকে ভালোবেসে সতর্ক করেছেন, যাতে তারা আযাব থেকে বাঁচতে পারে।
কিয়ামতের দিনের আযাব সম্পর্কে বিশ্বাস রাখা এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এই ভয়ই মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখে এবং সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে।
দাওয়াতের ক্ষেত্রে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ থাকা জরুরি। খাঁটি দাওয়াত কখনো ঘৃণা বা শত্রুতার ভিত্তিতে হয় না, বরং তা হয় মানুষের মঙ্গল কামনা থেকে।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সমাজে অন্যায় ও শিরক ছড়িয়ে পড়লে সত্যের দাওয়াতদাতাদের কর্তব্য হলো নির্ভীকভাবে সত্য ঘোষণা করা এবং মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা।
তখন তাঁর কওমের কাফের প্রধানরা বলল আমরা তো আপনাকে আমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু মনে করি না; আর আমাদের মধ্যে যারা ইতর ও স্থুল-বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে তো আপনার আনুগত্য করতে দেখি না এবং আমাদের উপর আপনাদের কেন প্রাধান্য দেখি না, বরং আপনারা সবাই মিথ্যাবাদী বলে আমারা মনে করি।
নূহ (আঃ) বললেন-হে আমার জাতি! দেখ তো আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে স্পষ্ট দলীলের উপর থাক, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন, তারপরেও তা তোমাদের চোখে না পড়ে, তাহলে আমি কি উহা তোমাদের উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই চাপিয়ে দিতে পারি ?
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।