আন-নাহল · 115/128
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নাহল
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ۝١١٥
Innamaa harrma `alai kumul maitata waddama wa lahmal khinzeeri wa maaa uhilla lighairil laahi bihee famanid turra ghaira baaghinw wa laa `aadin fa innal laaha Ghafoorur Raheem
📖 বাংলা অর্থ
অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন রক্ত, শুকরের মাংস এবং যা জবাই কালে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। অতঃপর কেউ সীমালঙ্ঘন কারী না হয়ে নিরুপায় হয়ে পড়লে তবে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি শব্দের অর্থ:

  • মাইতাতা (الميتة): এমন প্রাণী যা শরীয়তসম্মতভাবে যবেহ করা ছাড়াই মারা গেছে।
  • দাম (الدم): প্রবাহিত রক্ত, যা যবেহ করার সময় বের হয়।
  • লাহমুল খিনযীর (لحم الخنزير): শূকরের গোশত, এবং এর সকল অংশ।
  • মা উহিল্লা লিগাইরিল্লাহি বিহি (ما أهل لغير الله به): এমন প্রাণী যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহ করা হয়েছে, যেমন মূর্তি বা অন্য কোনো উপাস্যের নামে।
  • উদতুররা (اضطر): এমন অবস্থায় পৌঁছে যাওয়া যেখানে খাদ্য না খেলে মৃত্যুর আশঙ্কা হয়।
  • গাইরা বাগিন (غير باغ): যে নিজের ইচ্ছায় বা অন্যায়ভাবে হারাম খেতে চায় না।
  • ওয়া লা ‘আদিন (ولا عاد): যে প্রয়োজন মেটানোর সীমা অতিক্রম করে না, অর্থাৎ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খায় না।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা তাঁর অশেষ রহমত ও দয়ায় আমাদের জন্য হালাল-হারামের বিধান স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এই আয়াতে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, তিনি শুধুমাত্র চারটি জিনিস হারাম করেছেন:

  1. মৃত প্রাণী: যা যবেহ করা ছাড়াই মারা গেছে, কারণ এতে জীবাণু ও ক্ষতির কারণ রয়েছে এবং তা ঘৃণ্য বস্তু।
  2. রক্ত: যা প্রবাহিত হয়, কারণ এতে অপবিত্রতা ও ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে।
  3. শূকরের গোশত: যা সম্পূর্ণরূপে হারাম, কারণ এটি অপবিত্র এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
  4. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহকৃত প্রাণী: কারণ এটি শিরক ও আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘনের প্রতীক।

তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি বলেছেন, যদি কেউ চরম প্রয়োজন বা মৃত্যুভয়ের কারণে (যেমন অনাহারে মৃত্যুর আশঙ্কা) এই হারাম জিনিসগুলো খেতে বাধ্য হয়, কিন্তু সে নিজের ইচ্ছায় বা অন্যায়ভাবে তা না খায়, এবং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি না খায়, তাহলে তার ওপর কোনো গুনাহ নেই। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু, তিনি তার এই অবস্থাকে বিবেচনা করবেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেবেন।

এটি ইসলামের মহান শিক্ষা—কঠোরতা নয়, বরং সহজতা ও রহমত। আল্লাহ আমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তা আমাদের কল্যাণের জন্যই, আর যা হালাল করেছেন তাতে আমাদের জন্য বরকত ও প্রশান্তি রয়েছে। সুতরাং আমাদের উচিত আল্লাহর বিধান মেনে চলা এবং তাঁর রহমতের ওপর ভরসা রাখা। এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের প্রকৃত প্রয়োজন ও অবস্থা বিবেচনা করে বিধান দেয়। আল্লাহর এই রহমতের জন্য আমাদের শুকরিয়া আদায় করা উচিত এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার চেষ্টা করা উচিত।



📜 আয়াত 113-117 — সূরা আন-নাহল

113وَلَقَدْ جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِّنْهُمْ فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمُ الْعَذَابُ وَهُمْ ظَالِمُونَ
তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল আগমন করেছিলেন। অনন্তর ওরা তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করল। তখন আযাব এসে তাদরকে পাকড়াও করল এবং নিশ্চিতই ওরা ছিল পাপাচারী।
114فَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًا طَيِّبًا وَاشْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
অতএব, আল্লাহ তোমাদেরকে যেসব হালাল ও পবিত্র বস্তু দিয়েছেন, তা তোমরা আহার কর এবং আল্লাহর অনুগ্রহের জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর যদি তোমরা তাঁরই এবাদতকারী হয়ে থাক।
115إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন রক্ত, শুকরের মাংস এবং যা জবাই কালে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। অতঃপর কেউ সীমালঙ্ঘন কারী না হয়ে নিরুপায় হয়ে পড়লে তবে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
116وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَٰذَا حَلَالٌ وَهَٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ
তোমাদের মুখ থেকে সাধারনতঃ যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি করে তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বল না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তাদের মঙ্গল হবে না।
117مَتَاعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
যৎসামান্য সুখ-সম্ভোগ ভোগ করে নিক। তাদের জন্যে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
আন-নাহলকুরআন সূচী
128আয়াত
মাক্কীRevelation
115আয়াত

অনুবাদ — আন-নাহল 115

সূরা আন-নাহল আয়াত 115 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন রক্ত, শুকরের মাংস এবং…

সূরা আয়াত 115/128 — সূরা আন-নাহল النحل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নাহল শুনুন, সূরা আন-নাহল অনুবাদ, সূরা আন-নাহল mp3, সূরা আন-নাহল pdf. আয়াত 113–117. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না