আন-নাহল · 116/128
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নাহল
وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَٰذَا حَلَالٌ وَهَٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ ۝١١٦
Wa laa taqooloo limaa tasifu alsinatukumul kaziba haaza halaalunw wa haazaa haraamul litaftaroo `alal laahil kazib; innal lazeena yaftaroona `alal laahil kaziba laa yuflihoon
📖 বাংলা অর্থ
তোমাদের মুখ থেকে সাধারনতঃ যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি করে তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বল না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তাদের মঙ্গল হবে না।
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি শব্দের অর্থ:

  • لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ — অর্থাৎ, তোমাদের জিহ্বা যে মিথ্যা বর্ণনা করে।
  • لِتَفْتَرُوا — যাতে তোমরা মিথ্যা রটনা করো / মনগড়া কথা আল্লাহর প্রতি চাপিয়ে দাও।
  • لَا يُفْلِحُونَ — তারা সফলকাম হবে না, কোনো কল্যাণ লাভ করবে না।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে মুশরিকরা! তোমরা নিজেদের জিহ্বা দ্বারা যে মিথ্যা রটনা করো, তা বন্ধ করো। তোমরা কোনো বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে মনগড়া ঘোষণা দিও না যে, "এটা হালাল" অথবা "এটা হারাম" — অথচ আল্লাহ তা হালাল বা হারাম করেননি। এভাবে তোমরা আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছো, আর আল্লাহর ওপর মিথ্যা চাপিয়ে দিচ্ছো। অথচ আল্লাহই একমাত্র বিধানদাতা; তিনিই নির্ধারণ করেন কী হালাল এবং কী হারাম। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ কারও জন্য কিছু হালাল বা হারাম ঘোষণা করার অধিকার রাখে না।

যারা আল্লাহর নামে এমন মিথ্যা অপবাদ রটায়, তারা কখনো সফলকাম হবে না — দুনিয়াতেও না, আখিরাতেও না। তাদের চক্রান্ত ও মনগড়া বিধান তাদের কোনো উপকারে আসবে না; বরং এর পরিণতি হবে চরম ক্ষতি ও ধ্বংস।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. হালাল-হারাম নির্ধারণের একমাত্র মালিক আল্লাহ। কোনো মানুষের জন্য নিজের ইচ্ছা বা প্রথা অনুযায়ী কিছু হালাল বা হারাম ঘোষণা করা বৈধ নয়।
  2. আল্লাহর নামে মিথ্যা বলা ও মনগড়া বিধান চালু করা জঘন্য অপরাধ; এটি কুফরি পর্যায়ের।
  3. ইসলামের বিধান অনুসরণ করলেই জীবনে সফলতা ও শান্তি আসে; আর আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে গেলে ব্যর্থতা নিশ্চিত।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ধর্মের নামে কুসংস্কার, মনগড়া নিয়ম বা সমাজের প্রচলিত ভুল রীতিনীতি চালু করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বরং কুরআন ও সুন্নাহকেই একমাত্র মানদণ্ড বানাতে হবে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 114-118 — আন-নাহল

114فَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًا طَيِّبًا وَاشْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
অতএব, আল্লাহ তোমাদেরকে যেসব হালাল ও পবিত্র বস্তু দিয়েছেন, তা তোমরা আহার কর এবং আল্লাহর অনুগ্রহের জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর যদি তোমরা তাঁরই এবাদতকারী হয়ে থাক।
115إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন রক্ত, শুকরের মাংস এবং যা জবাই কালে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। অতঃপর কেউ সীমালঙ্ঘন কারী না হয়ে নিরুপায় হয়ে পড়লে তবে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
116وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَٰذَا حَلَالٌ وَهَٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ
তোমাদের মুখ থেকে সাধারনতঃ যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি করে তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বল না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তাদের মঙ্গল হবে না।
117مَتَاعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
যৎসামান্য সুখ-সম্ভোগ ভোগ করে নিক। তাদের জন্যে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
118وَعَلَى الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا مَا قَصَصْنَا عَلَيْكَ مِن قَبْلُ ۖ وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ
ইহুদীদের জন্যে আমি তো কেবল তাই হারাম করেছিলাম যা ইতিপূর্বে আপনার নিকট উল্লেখ করেছি। আমি তাদের প্রতি কোন জুলুম করিনি, কিন্তু তারাই নিজেদের উপর জুলুম করত।
আন-নাহলকুরআন সূচী
128আয়াত
মাক্কীRevelation
116আয়াত

অনুবাদ — আন-নাহল 116

সূরা আন-নাহল আয়াত 116 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমাদের মুখ থেকে সাধারনতঃ যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি…

সূরা আয়াত 116/128 — আন-নাহল النحل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নাহল শুনুন, আন-নাহল অনুবাদ, আন-নাহল mp3, আন-নাহল pdf. আয়াত 114–118. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না