ফেরেশতা যাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায়। ফেরেশতারা বলেঃ তোমাদের প্রতি শাস্তি বর্ষিত হোক। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ কর।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ये) वह लोग हैं जिनकी रुहें फरिश्ते इस हालत में क़ब्ज़ करतें हैं कि वह (नजासते कुफ्र से) पाक व पाकीज़ा होते हैं तो फरिश्ते उनसे (निहायत तपाक से) कहते है सलामुन अलैकुम जो नेकियाँ दुनिया में तुम करते थे उसके सिले में जन्नत में (बेतकल्लुफ) चले जाओ
ফেরেশতা যাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায়। ফেরেশতারা বলেঃ তোমাদের প্রতি শাস্তি বর্ষিত হোক। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ কর।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
تَتَوَفَّاهُمُ — তাদের প্রাণ হরণ করে।
طَيِّبِينَ — পবিত্র অবস্থায়, অর্থাৎ কুফর ও গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে।
سَلَامٌ عَلَيْكُمُ — তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ — তোমরা যে আমল (সৎকর্ম) করতে তার বিনিময়ে।
তفسير:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই মুত্তাকী বান্দাদের প্রশংসা করেছেন, যাদের প্রাণ ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় হরণ করে। অর্থাৎ, তারা ঈমানের উপর firmly থাকে এবং কুফর, শিরক ও গুনাহ থেকে নিজেদেরকে পবিত্র রাখে। যখন তাদের মৃত্যুর সময় আসে, তখন ফেরেশতারা তাদেরকে শুভ সংবাদ দিয়ে বলে: “তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো, কারণ তোমরা দুনিয়ায় যে সৎকর্ম করেছিলে—সঠিক ঈমান ও নেক আমল—তারই প্রতিদান হিসেবে এটি তোমাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।”
এখানে ফেরেশতাদের এই বাণী শুধু মৃত্যুর সময়ই নয়, বরং কবর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত এবং জান্নাতে প্রবেশের সময়ও তাদেরকে শান্তি ও নিরাপত্তার সুসংবাদ দেয়া হয়। যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর আদেশ মেনে চলে, তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং সেখানে তাদের জন্য রয়েছে সমস্ত সুখ-শান্তি ও মনোনীত নেয়ামত।
ফায়েদা (উপকারিতা):
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, মৃত্যুর সময় মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো ঈমানের উপর স্থির থাকা এবং পবিত্র জীবনযাপন করা।
ফেরেশতারা মুমিনদেরকে শান্তির সুসংবাদ দেন—এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের জন্য মৃত্যুও ভয়ের নয়, বরং এটি জান্নাতের দিকে যাত্রার একটি সুন্দর সোপান।
জান্নাত লাভের মূল চাবিকাঠি হলো ঈমান ও সৎকর্ম—যারা দুনিয়ায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালো কাজ করে, তাদের পরকালে কোনো ভয় বা চিন্তা নেই।
এই আয়াত আমাদেরকে উৎসাহিত করে যে, আমরা যেন সর্বদা নিজেদেরকে পাপ থেকে পবিত্র রাখি এবং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকি, যাতে ফেরেশতাদের এই শান্তির বাণী আমাদের কাছেও পৌঁছায়।
ইসলামের এই শিক্ষা আমাদের মনে প্রশান্তি আনে যে, মুমিনের পরিণতি কখনো ব্যর্থতা নয়; বরং আল্লাহর অনুগ্রহে তার জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী সুখের আবাস।
পরহেযগারদেরকে বলা হয়ঃ তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলেঃ মহাকল্যাণ। যারা এ জগতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে এবং পরকালের গৃহ আরও উত্তম। পরহেযগারদের গৃহ কি চমৎকার?
সর্বদা বসবাসের উদ্যান, তারা যাতে প্রবেশ করবে। এর পাদদেশে দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হয় তাদের জন্যে তাতে তা-ই রয়েছে, যা তারা চায় এমনিভাবে প্রতিদান দেবেন আল্লাহর পরহেযগারদেরকে,
ফেরেশতা যাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায়। ফেরেশতারা বলেঃ তোমাদের প্রতি শাস্তি বর্ষিত হোক। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ কর।
কাফেররা কি এখন অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতারা আসবে কিংবা আপনার পালনকর্তার নির্দেশ পৌছবে? তাদের পূর্ববর্তীরা এমনই করেছিল। আল্লাহ তাদের প্রতি অবিচার করেননি; কিন্তু তারা স্বয়ং নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।