আন-নাহল · 33/128
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নাহল
هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ أَمْرُ رَبِّكَ ۚ كَذَٰلِكَ فَعَلَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلَٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ۝٣٣
Hal yanzuroona illaaa an taatiyahumul malaaa`ikatu aw yaatiya amru Rabbik; kazaalika fa`alal lazeena min qablihim; wa maa zalamahumul laahu wa laakin kaanoo anfusahum yazlimoon
📖 বাংলা অর্থ
কাফেররা কি এখন অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতারা আসবে কিংবা আপনার পালনকর্তার নির্দেশ পৌছবে? তাদের পূর্ববর্তীরা এমনই করেছিল। আল্লাহ তাদের প্রতি অবিচার করেননি; কিন্তু তারা স্বয়ং নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • هَلْ يَنظُرُونَ – তারা কি অপেক্ষা করছে?
  • تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ – তাদের কাছে ফেরেশতাগণ আসবে (আত্মা কবজ করার জন্য)
  • أَمْرُ رَبِّكَ – আপনার রবের আদেশ (আযাব বা কিয়ামত)
  • كَذَٰلِكَ فَعَلَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ – এভাবেই করেছিল তাদের পূর্ববর্তীরা
  • وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ – আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো জুলুম করেননি
  • يَظْلِمُونَ – তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করত

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা কাফির ও মুশরিকদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যারা সত্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি মিথ্যারোপ করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে— তারা কী অপেক্ষা করছে? তারা কি শুধু এই অপেক্ষায় আছে যে, তাদের কাছে মৃত্যুর ফেরেশতা এসে উপস্থিত হবে এবং তাদের প্রাণ বের করে নেবে? অথবা আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাবের আদেশ এসে পড়বে, যা তাদেরকে ধ্বংস করে দেবে? অর্থাৎ, তারা যে শাস্তির ভয় দেখানো হচ্ছে তা অবশ্যই আসবে— হয় মৃত্যুর মাধ্যমে আর নয়তো দুনিয়ার কোনো আযাবের মাধ্যমে।

এরপর আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিচ্ছেন যে, এরা একা নয়; এদের পূর্ববর্তী অনেক জাতিও একই কাজ করেছে। তারা সত্যকে মিথ্যা বলেছে, রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছে এবং শিরক করেছে। ফলে আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করেছেন। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে— আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো জুলুম করেননি। কারণ জুলুম হলো কারো ক্ষতি করা অথচ সে ক্ষতির উপযুক্ত নয়। কিন্তু এরা নিজেদের কুফরি ও শিরকের মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছে। তারা নিজেদের ইচ্ছায় সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে, নিজেদের পছন্দে মিথ্যার পথ বেছে নিয়েছে। তাই তাদের উপর যে আযাব এসেছে তা সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহ কখনো বান্দার প্রতি জুলুম করেন না; বান্দা নিজের কাজের মাধ্যমেই নিজের ভালো-মন্দ নির্ধারণ করে নেয়। এটি আল্লাহর ন্যায়বিচারের প্রমাণ।
  2. কুফরি ও শিরকের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ— দুনিয়াতেও আযাব আসতে পারে এবং আখিরাতেও কঠিন শাস্তি অপেক্ষমান। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত নিজের ঈমান ও আমল সম্পর্কে সচেতন থাকা।
  3. মৃত্যু নিশ্চিত সত্য; প্রত্যেককে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তাই মৃত্যুর আগেই তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত, যেন মৃত্যুর সময় ঈমানের সাথে প্রাণ বের হয়।
  4. পূর্ববর্তী জাতিদের ধ্বংসের ঘটনা আমাদের জন্য শিক্ষা। যারা আল্লাহর রাসূলদের অস্বীকার করেছে, তাদের পরিণতি কখনো ভালো হয়নি। তাই আমাদের উচিত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনীত পথকে আঁকড়ে ধরা।
  5. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ মেনে চলাই হলো নিজের প্রকৃত স্বার্থ রক্ষা করা; আর তা অমান্য করা মানে নিজেরই ক্ষতি করা।


📜 আয়াত 31-35 — সূরা আন-নাহল

31جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ لَهُمْ فِيهَا مَا يَشَاءُونَ ۚ كَذَٰلِكَ يَجْزِي اللَّهُ الْمُتَّقِينَ
সর্বদা বসবাসের উদ্যান, তারা যাতে প্রবেশ করবে। এর পাদদেশে দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হয় তাদের জন্যে তাতে তা-ই রয়েছে, যা তারা চায় এমনিভাবে প্রতিদান দেবেন আল্লাহর পরহেযগারদেরকে,
32الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ ۙ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
ফেরেশতা যাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায়। ফেরেশতারা বলেঃ তোমাদের প্রতি শাস্তি বর্ষিত হোক। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ কর।
33هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ أَمْرُ رَبِّكَ ۚ كَذَٰلِكَ فَعَلَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلَٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ
কাফেররা কি এখন অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতারা আসবে কিংবা আপনার পালনকর্তার নির্দেশ পৌছবে? তাদের পূর্ববর্তীরা এমনই করেছিল। আল্লাহ তাদের প্রতি অবিচার করেননি; কিন্তু তারা স্বয়ং নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল।
34فَأَصَابَهُمْ سَيِّئَاتُ مَا عَمِلُوا وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
সুতরাং তাদের মন্দ কাজের শাস্তি তাদেরই মাথায় আপতিত হয়েছে এবং তারা যে ঠাট্টা বিদ্রুপ করত, তাই উল্টে তাদের উপর পড়েছে।
35وَقَالَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا عَبَدْنَا مِن دُونِهِ مِن شَيْءٍ نَّحْنُ وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِن دُونِهِ مِن شَيْءٍ ۚ كَذَٰلِكَ فَعَلَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ فَهَلْ عَلَى الرُّسُلِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ
মুশরিকরা বললঃ যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে আমরা তাঁকে ছাড়া কারও এবাদত করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষেরাও করত না এবং তাঁর নির্দেশ ছাড়া কোন বস্তুই আমরা হারাম করতাম না। তাদের পূর্ববর্তীরা এমনই করেছে। রাসূলের দায়িত্ব তো শুধুমাত্র সুস্পষ্ট বাণী পৌছিয়ে দেয়া।
আন-নাহলকুরআন সূচী
128আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
33আয়াত

অনুবাদ — আন-নাহল 33

সূরা আন-নাহল আয়াত 33 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : কাফেররা কি এখন অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতারা আসবে…

সূরা আয়াত 33/128 — সূরা আন-নাহল النحل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নাহল শুনুন, সূরা আন-নাহল অনুবাদ, সূরা আন-নাহল mp3, সূরা আন-নাহল pdf. আয়াত 31–35. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না