আন-নাহল · 91/128
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নাহল
وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدتُّمْ وَلَا تَنقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا ۚ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ ۝٩١
Wa awfoo bi Ahdil laahi izaa `aahattum wa laa tanqudul aimaana ba`da tawkeedihaa wa qad ja`altumul laaha `alaikum kafeelaa; innal laaha ya`lamu maa taf`aloon
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে অঙ্গীকার পূর্ণ কর এবং পাকাপাকি কসম করার পর তা ভঙ্গ করো না, অথচ তোমরা আল্লাহকে জামিন করেছ। তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • আওফূ = পূর্ণ করো, পরিপূর্ণভাবে পালন করো।
  • বিআহদিল্লাহ = আল্লাহর অঙ্গীকার/চুক্তি।
  • তানকুদূ = ভঙ্গ করো না, ভেঙে ফেলো না।
  • আল-আইমান = শপথসমূহ (একবচন: ইয়ামিন)।
  • তাওকীদ = সুদৃঢ় করা, মজবুত করা (শপথকে দৃঢ়ভাবে বাঁধা)।
  • কাফীলান = জামিনদার, সাক্ষী, রক্ষক, দায়িত্বশীল।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যখন কোনো অঙ্গীকার করো—তা আল্লাহর সাথে হোক অথবা মানুষের সাথে—তাহলে তা অবশ্যই পূর্ণ করো। আল্লাহর অঙ্গীকার বলতে শুধু নামাজ, রোজা, হজের মতো ইবাদতের প্রতিশ্রুতিই নয়, বরং মানুষের সাথে করা প্রতিটি ওয়াদা, চুক্তি, ব্যবসায়িক লেনদেন, পারিবারিক সম্পর্কের দায়িত্ব—সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত, যতক্ষণ তা ইসলামী শরিয়তের পরিপন্থী না হয়।

এরপর আল্লাহ বলেন, শপথকে দৃঢ়ভাবে বাঁধার পর—অর্থাৎ আল্লাহর নামে কসম খাওয়ার পর—তা ভঙ্গ করো না। যখন তোমরা আল্লাহর নামে শপথ করে কোনো বিষয় নিশ্চিত করো, তখন আল্লাহকে তোমরা নিজেদের ওপর জামিনদার বানিয়েছ। অর্থাৎ আল্লাহ সাক্ষী আছেন যে, তোমরা এই অঙ্গীকার পালন করবে। তাই এই সাক্ষীর সামনে মিথ্যা বলা, ওয়াদা ভঙ্গ করা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ।

আল্লাহ তাআলা সবশেষে বলছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন যা তোমরা করো। তিনি তোমাদের অন্তরের নিয়ত, মুখের কথা এবং কাজের প্রতিটি বিবরণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তোমাদের কোনো কাজই তাঁর অগোচরে নয়, আর তিনি প্রতিটি কাজের যথাযথ প্রতিদান দেবেন—ভালোর জন্য ভালো, মন্দের জন্য মন্দ।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ওয়াদা পূরণ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য: ইসলামে প্রতিশ্রুতি পূরণকে ঈমানের অংশ বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি ওয়াদা করে তা পালন করে না, তার মধ্যে মুনাফিকির লক্ষণ রয়েছে। তাই আমাদের উচিত কথা দেওয়ার আগে ভাবা, আর কথা দিলে তা পূরণে সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
  2. আল্লাহকে সাক্ষী রেখে মিথ্যা না বলা: যখন আমরা আল্লাহর নামে কসম খাই, তখন আল্লাহ আমাদের সাক্ষী। এই সাক্ষীর সামনে মিথ্যা বলা বা ওয়াদা ভঙ্গ করা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও গুনাহের কাজ। তাই আল্লাহর নামকে সম্মান করা এবং তাঁর সাক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়া আমাদের কর্তব্য।
  3. জবাবদিহিতার চেতনা: আল্লাহ সবকিছু জানেন—আমাদের প্রকাশ্য ও গোপন সব কাজ। এই বিশ্বাস আমাদের মনে জবাবদিহির ভয় তৈরি করে এবং ভালো কাজে উৎসাহিত করে। যখন আমরা জানি আল্লাহ দেখছেন, তখন আমরা সৎ থাকতে চাই।
  4. সামাজিক শান্তি ও আস্থা: ওয়াদা পূরণের মাধ্যমে সমাজে আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হয়। যখন মানুষ একে অপরের ওপর আস্থা রাখতে পারে, তখন সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসে। ইসলাম এই শিক্ষা দিয়ে একটি সুন্দর সমাজ গঠনের পথ দেখায়।
  5. দ্বীন ও দুনিয়ার সাফল্য: যে ব্যক্তি আল্লাহর অঙ্গীকার পূরণ করে এবং মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার করে, আল্লাহ তাকে দুনিয়াতেও সম্মান দেন এবং আখিরাতেও পুরস্কৃত করেন। এটি সফলতার চাবিকাঠি।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 89-93 — আন-নাহল

89وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِي كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا عَلَيْهِم مِّنْ أَنفُسِهِمْ ۖ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيدًا عَلَىٰ هَٰؤُلَاءِ ۚ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ
সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।
90۞ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ ۚ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্নীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।
91وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدتُّمْ وَلَا تَنقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا ۚ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ
আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে অঙ্গীকার পূর্ণ কর এবং পাকাপাকি কসম করার পর তা ভঙ্গ করো না, অথচ তোমরা আল্লাহকে জামিন করেছ। তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন।
92وَلَا تَكُونُوا كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِن بَعْدِ قُوَّةٍ أَنكَاثًا تَتَّخِذُونَ أَيْمَانَكُمْ دَخَلًا بَيْنَكُمْ أَن تَكُونَ أُمَّةٌ هِيَ أَرْبَىٰ مِنْ أُمَّةٍ ۚ إِنَّمَا يَبْلُوكُمُ اللَّهُ بِهِ ۚ وَلَيُبَيِّنَنَّ لَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ
তোমরা ঐ মহিলার মত হয়ো না, যে পরিশ্রমের পর কাটা সূতা টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলে, তোমরা নিজেদের কসমসমূহকে পারস্পরিক প্রবঞ্চনার বাহানা রূপে গ্রহণ কর এজন্যে যে, অন্য দল অপেক্ষা এক দল অধিক ক্ষমতাবান হয়ে যায়। এতদ্বারা তো আল্লাহ শুধু তোমাদের পরীক্ষা করেন। আল্লাহ অবশ্যই কিয়ামতের দিন প্রকাশ করে দেবেন, যে বিষয়ে তোমরা কলহ করতে।
93وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَٰكِن يُضِلُّ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ ۚ وَلَتُسْأَلُنَّ عَمَّا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে এক জাতি করে দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিপথগামী করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। তোমরা যা কর সে বিষয়ে অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।
আন-নাহলকুরআন সূচী
128আয়াত
মাক্কীRevelation
91আয়াত

অনুবাদ — আন-নাহল 91

সূরা আন-নাহল আয়াত 91 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে অঙ্গীকার পূর্ণ কর এবং…

সূরা আয়াত 91/128 — আন-নাহল النحل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নাহল শুনুন, আন-নাহল অনুবাদ, আন-নাহল mp3, আন-নাহল pdf. আয়াত 89–93. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না