আল-বাকারা · 114/286
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-বাকারা
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَا ۚ أُولَٰئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ۝١١٤
Wa man azlamu mimmam-mana`a masaajidal laahi ai-yuzkara feehas muhoo wa sa`aa fee kharaabihaaa; ulaaa`ika maa kaana lahum ai yadkhuloohaaa illaa khaaa``feen; lahum fiddunyaa khizyunw wa lahum fil aakhirati `azaabun `azeem
📖 বাংলা অর্থ
যে ব্যাক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চাইতে বড় যালেম আর কে? এদের পক্ষে মসজিদসমূহে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়। ওদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مَنْ أَظْلَمُ — কার চেয়ে বেশি জালিম/অত্যাচারী হতে পারে?
  • مَنَعَ مَسَاجِدَ اللهِ — আল্লাহর মসজিদসমূহ থেকে বাধা দিয়েছে।
  • أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ — যাতে সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা না হয়।
  • وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَا — এবং তার ধ্বংসের জন্য চেষ্টা করেছে।
  • خِزْيٌ — লাঞ্ছনা, অপমান, দুনিয়ার অপমানজনক শাস্তি।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন— সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশি জালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয়? অর্থাৎ নামাজ, যিকর, কুরআন তিলাওয়াত— এসব ইবাদত থেকে মানুষকে বিরত রাখে। আর শুধু বাধা দেওয়াই নয়, বরং সে মসজিদ ধ্বংস করার জন্যও সচেষ্ট হয়— হয় ভেঙে ফেলে, অথবা বন্ধ করে দেয়, অথবা মুমিনদের সেখানে যেতে না দিয়ে মসজিদকে জনশূন্য করে তোলে।

এ ধরনের জালিমদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন— তাদের জন্য শোভনীয় নয় যে, তারা মসজিদে প্রবেশ করবে, তবে যদি ভয়ে ভীত-কম্পিত অবস্থায় প্রবেশ করে (তাহলে সেটা ভিন্ন কথা)। কারণ তাদের অন্তর কুফরি ও শত্রুতায় পরিপূর্ণ। দুনিয়ায় তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা ও অপমান— মুমিনদের হাতে তারা হেয় হবে, আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে ভয়ংকর শাস্তি।

এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে কিছু আলোচক বলেছেন, এটি বায়তুল মুকাদ্দাস ধ্বংসকারী বখতে নাসর ও তার সৈন্যদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা মসজিদে নামাজ-যিকর বন্ধ করে দিয়েছিল এবং মসজিদটি ধ্বংস করেছিল। আবার কেউ বলেছেন, এটি মক্কার মুশরিকদের সম্পর্কে, যারা হুদাইবিয়ার সনে রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে ও তাওয়াফ করতে বাধা দিয়েছিল। উভয় ক্ষেত্রেই আয়াতের শিক্ষা প্রযোজ্য— যে কেউ আল্লাহর ঘরকে ইবাদতের জন্য বন্ধ করে দেয় বা ধ্বংস করে, সে চরম জালিম এবং তার জন্য রয়েছে দুনিয়ায় লাঞ্ছনা ও আখিরাতে কঠিন শাস্তি।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. মসজিদ আল্লাহর ঘর। এখানে তাঁর নাম স্মরণ করা হয়। যে ব্যক্তি এই ঘরকে ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত রাখে, সে আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। আর যে বাধা দেয় বা ধ্বংস করে, সে আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী সবচেয়ে বড় জালিম।
  2. মসজিদের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন নেওয়া ঈমানের আলামত। মসজিদকে আবাদ করা, পরিচ্ছন্ন রাখা, সেখানে নামাজ-যিকর-তালিমের ব্যবস্থা করা— এগুলো আমাদের কর্তব্য।
  3. জালিমরা দুনিয়াতেই অপমানিত হয়, আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তাই অন্যায়ের পথ কখনোই টেকসই নয়।
  4. মুমিনের উচিত মসজিদকে সর্বদা সক্রিয় রাখা। মসজিদ যখন মানুষে-মানুষে মুখরিত থাকে, তখন সেখানে বরকত নেমে আসে, আর সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 112-116 — আল-বাকারা

112بَلَىٰ مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِندَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
হাঁ, যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমর্পন করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও বটে তার জন্য তার পালনকর্তার কাছে পুরস্কার বয়েছে। তাদের ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
113وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَىٰ عَلَىٰ شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَىٰ لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَىٰ شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ ۗ كَذَٰلِكَ قَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ ۚ فَاللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
ইহুদীরা বলে, খ্রীস্টানরা কোন ভিত্তির উপরেই নয় এবং খ্রীস্টানরা বলে, ইহুদীরা কোন ভিত্তির উপরেই নয়। অথচ ওরা সবাই কিতাব পাঠ করে! এমনিভাবে যারা মূর্খ, তারাও ওদের মতই উক্তি করে। অতএব, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছিল।
114وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَا ۚ أُولَٰئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
যে ব্যাক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চাইতে বড় যালেম আর কে? এদের পক্ষে মসজিদসমূহে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়। ওদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে।
115وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।
116وَقَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا ۗ سُبْحَانَهُ ۖ بَل لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ
তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি তো এসব কিছু থেকে পবিত্র, বরং নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই তার আজ্ঞাধীন।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীRevelation
114আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 114

সূরা আল-বাকারা আয়াত 114 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে ব্যাক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয়…

সূরা আয়াত 114/286 — আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-বাকারা শুনুন, আল-বাকারা অনুবাদ, আল-বাকারা mp3, আল-বাকারা pdf. আয়াত 112–116. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না