আল-বাকারা · 115/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ۝١١٥
Wa lillaahil mashriqu walmaghrib; fa aynamaa tuwalloo fasamma wajhullaah; innal laaha waasi`un Aleem
📖 বাংলা অর্থ
পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ — পূর্ব ও পশ্চিম দিক (এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে)।
  • تُوَلُّوا — তোমরা মুখ ফিরাও।
  • فَثَمَّ — সেখানেই।
  • وَجْهُ اللهِ — আল্লাহর দিক/চেহারা (অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির দিক, যা তিনি আদেশ করেছেন)।
  • وَاسِعٌ — প্রশস্ত দানশীল, যার রহমত ও ক্ষমতা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে।
  • عَلِيمٌ — সর্বজ্ঞ, যিনি সব কিছু জানেন।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

পূর্ব ও পশ্চিম দিক এবং পৃথিবীর সব দিক-দিগন্ত একমাত্র আল্লাহর মালিকানাধীন। তিনি সব কিছুর স্রষ্টা ও মালিক। তাই তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও না কেন—পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ—সব দিকই আল্লাহর। যখন আল্লাহ তোমাদেরকে কোনো নির্দিষ্ট দিকে (কিবলার দিকে) মুখ ফিরানোর আদেশ দেন, তখন সেটাই তার সন্তুষ্টির দিক। আর যদি কেউ ভুল করে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, অথবা সফরে বা অসুস্থতার কারণে সঠিক কিবলা নির্ণয় করতে না পারে, কিংবা কিবলার দিকে মুখ ফেরানো কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে তার ওপর কোনো গুনাহ নেই। কারণ আল্লাহর সত্তা কোনো নির্দিষ্ট দিকে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি সর্বত্র বিরাজমান। মূল বিষয় হলো অন্তরের নিষ্ঠা ও আল্লাহর আদেশ পালনের ইচ্ছা।

আল্লাহ অত্যন্ত প্রশস্ত দানশীল—তিনি তার বান্দাদের প্রতি রহমত ও সহজতা দান করেন। তিনি তাদের নিয়ত, কর্ম ও অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তাই তিনি জানেন কে কখন কোন অবস্থায় তার ইবাদত করছে এবং কার অন্তরে কী আছে। এই আয়াতটি মুসলিমদের জন্য এক বিরাট সুসংবাদ—ধর্মে কঠোরতা নেই, আল্লাহ তার বান্দাদের সাধ্যমতো সহজ পথ দেখিয়েছেন।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান — কোনো নির্দিষ্ট দিক বা স্থানে আল্লাহ সীমাবদ্ধ নন। তাই যেকোনো জায়গায়, যেকোনো অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা যায় এবং তার কাছে দোয়া করা যায়।
  2. ইবাদতে সহজতা — ইসলাম কখনো মানুষের ওপর বোঝা চাপায় না। কিবলা নির্ণয়ে ভুল হলে বা অক্ষম অবস্থায় আল্লাহ ক্ষমা করেন। এটি ইসলামের সহজ ও মানবিক দিক তুলে ধরে।
  3. নিয়তের গুরুত্ব — আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক আমলের সাথে সাথে অন্তরের নিয়তও দেখেন। তাই ইবাদতে আন্তরিকতা ও খাঁটি নিয়তই আসল।
  4. আল্লাহর রহমত অপরিসীম — তিনি তার বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। যারা সত্যিকার অর্থে তার সন্তুষ্টি চায়, আল্লাহ তাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন এবং তাদের প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন।
  5. সর্বত্র আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব — এই আয়াত মুমিনের অন্তরে এ বিশ্বাস জাগ্রত করে যে, সে যেখানেই থাকুক না কেন, আল্লাহ তার সাথে আছেন। ফলে তার অন্তর প্রশান্ত হয় এবং সে আল্লাহর ইবাদতে আরও উদ্বুদ্ধ হয়।


📜 আয়াত 113-117 — সূরা আল-বাকারা

113وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَىٰ عَلَىٰ شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَىٰ لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَىٰ شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ ۗ كَذَٰلِكَ قَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ ۚ فَاللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
ইহুদীরা বলে, খ্রীস্টানরা কোন ভিত্তির উপরেই নয় এবং খ্রীস্টানরা বলে, ইহুদীরা কোন ভিত্তির উপরেই নয়। অথচ ওরা সবাই কিতাব পাঠ করে! এমনিভাবে যারা মূর্খ, তারাও ওদের মতই উক্তি করে। অতএব, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছিল।
114وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَا ۚ أُولَٰئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
যে ব্যাক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চাইতে বড় যালেম আর কে? এদের পক্ষে মসজিদসমূহে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়। ওদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে।
115وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।
116وَقَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا ۗ سُبْحَانَهُ ۖ بَل لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ
তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি তো এসব কিছু থেকে পবিত্র, বরং নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই তার আজ্ঞাধীন।
117بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَإِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উদ্ভাবক। যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে একথাই বলেন, ‘হয়ে যাও’ তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
115আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 115

সূরা আল-বাকারা আয়াত 115 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই…

সূরা আয়াত 115/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 113–117. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না