Wa yas`aloonaka `anil maheedi qul huwa azan fa`tazilun nisaaa`a fil maheedi wa laa taqraboo hunna hattaa yathurna fa-izaa tathharna faatoohunna min haisu amarakumul laah; innallaaha yuhibbut Tawwaabeena wa yuhibbul mutatahhireen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ऐ रसूल) तुम से लोग हैज़ के बारे में पूछते हैं तुम उनसे कह दो कि ये गन्दगी और घिन की बीमारी है तो (अय्यामे हैज़) में तुम औरतों से अलग रहो और जब तक वह पाक न हो जाएँ उनके पास न जाओ पस जब वह पाक हो जाएँ तो जिधर से तुम्हें ख़ुदा ने हुक्म दिया है उन के पास जाओ बेशक ख़ुदा तौबा करने वालो और सुथरे लोगों को पसन्द करता है तुम्हारी बीवियाँ (गोया) तुम्हारी खेती हैं
আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
المَحِيضِ (মাহীয): হায়েয বা ঋতুস্রাব, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে নারীর জরায়ু থেকে নির্গত রক্ত।
أَذًى (আযা): কষ্টদায়ক ও অপবিত্র বস্তু।
فَاعْتَزِلُوا (ফা'তাজিলূ): দূরে থাকা, বিরত থাকা (এখানে সহবাস থেকে বিরত থাকা)।
يَطْهُرْنَ (ইয়াতহুরনা): রক্ত বন্ধ হয়ে পবিত্র হওয়া।
تَطَهَّرْنَ (তাতাহহারনা): গোসল করে সম্পূর্ণ পবিত্র হওয়া।
التَّوَّابِينَ (আত-তাওয়াবীন): যারা বেশি বেশি তাওবা করে।
الْمُتَطَهِّرِينَ (আল-মুতাতাহহিরীন): যারা পবিত্রতা অর্জন করে।
তাফসীর:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সাহাবায়ে কিরাম হায়েয অবস্থায় নারীর সাথে সহবাস করার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে নবী! তারা আপনাকে হায়েয (ঋতুস্রাব) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি তাদের বলুন, এটি একটি কষ্টদায়ক ও অপবিত্র জিনিস। তাই হায়েয চলাকালীন সময়ে তোমরা নারীদের থেকে দূরে থাকো, অর্থাৎ তাদের সাথে সহবাস করো না। যতক্ষণ না তারা রক্ত থেকে পবিত্র হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কাছে যেও না। আর যখন তারা রক্ত থেকে পবিত্র হবে এবং গোসল করে সম্পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করবে, তখন তাদের সাথে সেই স্থানেই মিলিত হও যা আল্লাহ তোমাদের জন্য বৈধ করেছেন, অর্থাৎ সামনের পথে (যোনিপথে), পেছনের পথে নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন যারা বেশি বেশি তাওবা করে এবং তাদেরও ভালোবাসেন যারা পবিত্রতা অর্জন করে — শারীরিক পবিত্রতা যেমন গোসল ও অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকা, তেমনি আধ্যাত্মিক পবিত্রতা যেমন পাপ থেকে তাওবা করা।
এই নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলাম নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ও নৈতিক নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেছে, যা স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা রক্ষা করে এবং দাম্পত্য জীবনে শৃঙ্খলা আনে।
শিক্ষণীয় বিষয়:
ইসলাম প্রতিটি বিষয়ে স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ বিধান দিয়েছে — এমনকি দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও, যাতে মুমিন প্রতিটি কাজে আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলে।
হায়েয অবস্থায় সহবাস নিষিদ্ধ হওয়ার মধ্যে নারীর প্রতি সম্মান ও তার স্বাস্থ্য সুরক্ষার গভীর তাৎপর্য রয়েছে — এটি প্রমাণ করে ইসলাম নারীকে অত্যন্ত মূল্য দেয়।
তাওবার গুরুত্ব অপরিসীম — আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। মানুষ ভুল করলেও আল্লাহর দরজা সবসময় খোলা; তিনি বান্দার তাওবা কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করেন।
পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ — শারীরিক পবিত্রতার সাথে সাথে আধ্যাত্মিক পবিত্রতা (পাপ থেকে বিরত থাকা) অর্জন করলে আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা যায়।
ইসলামের প্রতিটি বিধানই মানুষের কল্যাণের জন্য — যা মনে হয় কঠোর, তাতেও লুকিয়ে রয়েছে মানুষের জন্য রহমত ও হিকমত।
দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, এতীম সংক্রান্ত হুকুম। বলে দাও, তাদের কাজ-কর্ম সঠিকভাবে গুছিয়ে দেয়া উত্তম আর যদি তাদের ব্যয়ভার নিজের সাথে মিশিয়ে নাও, তাহলে মনে করবে তারা তোমাদের ভাই । বস্তুতঃ অমঙ্গলকামী ও মঙ্গলকামীদেরকে আল্লাহ জানেন। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তোমাদের উপর জটিলতা আরোপ করতে পারতেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞ।
আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।
তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।
আর নিজেদের শপথের জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না মানুষের সাথে কোন আচার আচরণ থেকে পরহেযগারী থেকে এবং মানুষের মাঝে মীমাংসা করে দেয়া থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে। আল্লাহ সবকিছুই শুনেন ও জানেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।