অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:
- بِمَلْكِنَا — অর্থাৎ আমাদের নিজস্ব ইচ্ছা ও এখতিয়ারে।
- أَوْزَارًا — বহুবচন, অর্থ ভারী বোঝা বা জিনিসপত্র। এখানে উদ্দেশ্য সোনা-রূপার অলংকার।
- زِينَةِ الْقَوْمِ — অর্থাৎ ফিরআউনের সম্প্রদায়ের অলংকারসমূহ।
- فَقَذَفْنَاهَا — আমরা তা নিক্ষেপ করলাম, অর্থাৎ আগুনে বা গর্তে ফেলে দিলাম।
- السَّامِرِيُّ — বনি ইসরাঈলের একজন মুনাফিক ব্যক্তি, যে সোনার বাছুর বানিয়েছিল।
তাফসীর:
মূসা (আঃ) যখন তূর পাহাড়ে আল্লাহর সাথে ওয়াদার স্থানে গেলেন এবং তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এসে দেখলেন যে, তারা সোনার বাছুরের পূজা করছে, তখন তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা আমার সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করলে কেন?” তখন তারা উত্তরে বলল, “হে মূসা! আমরা নিজেদের ইচ্ছায় বা নিজেদের ক্ষমতাবলে আপনার ওয়াদা ভঙ্গ করিনি। আমাদের এ কাজটি ইচ্ছাকৃত ছিল না, বরং আমরা বাধ্য হয়েছিলাম। কারণ, আমরা ফিরআউনের সম্প্রদায়ের অলংকারসমূহের কিছু ভারী বোঝা বহন করছিলাম। আমরা যখন মিশর থেকে বেরিয়ে আসি, তখন আমরা তাদের অলংকারসমূহ সাথে করে নিয়ে আসি। পরে আমরা সেগুলো থেকে মুক্তি পেতে চাইলাম এবং সেগুলোকে একটি গর্তে বা আগুনে নিক্ষেপ করলাম। ঠিক তেমনি স্যামেরীয় ব্যক্তিটিও তার কাছে যা কিছু ছিল তা নিক্ষেপ করল।”
অর্থাৎ তারা বলতে চেয়েছিল যে, আমরা নিজেরা বাছুর বানাইনি, বরং স্যামেরীয়ই আমাদেরকে এ কাজে প্ররোচিত করেছে এবং সে নিজেই তার কৌশলে এ কাজটি করেছে। সে মূসা (আঃ)-এর অনুপস্থিতিতে তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিল এবং তাদের অলংকারগুলো থেকে একটি বাছুর তৈরি করে দিয়েছিল, যার শব্দ বের হতো। তারা মনে করেছিল যে, এটিই তাদের উপাস্য।
এখানে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করার পরিবর্তে দায়ভার স্যামেরীয়র উপর চাপানোর চেষ্টা করছে। তবে প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরাও দোষী ছিল, কারণ তারা স্যামেরীয়র কথা মেনে নিয়েছিল এবং তাকে প্রতিরোধ করেনি।
শিক্ষণীয় ও দাওয়াতি দিক:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, মানুষ যখন সত্য থেকে বিচ্যুত হয়, তখন সে নিজের ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে অন্যদের উপর দোষ চাপাতে চায়। কিন্তু আল্লাহর কাছে প্রতিটি মানুষের নিজের কাজের জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের উচিত নিজেদের ভুল স্বীকার করা এবং আল্লাহর কাছে তওবা করা। মূসা (আঃ) এর সম্প্রদায়ের মতো আমাদেরও উচিত নয় যে, আমরা আমাদের ভুলের দায়ভার অন্যের উপর চাপিয়ে দেব। বরং আমাদের উচিত নিজেদের সংশোধন করা এবং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা। মনে রাখতে হবে, শয়তান এবং তার অনুসারীরা সবসময় মানুষকে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করে, তাই আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে হবে।
📜 আয়াত 85-89 — সূরা ত্ব-হা
অনুবাদ — ত্ব-হা 87
সূরা ত্ব-হা আয়াত 87 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা বললঃ আমরা তোমার সাথে কৃত ওয়াদা স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি;…সূরা আয়াত 87/135 — সূরা ত্ব-হা طه (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ত্ব-হা শুনুন, সূরা ত্ব-হা অনুবাদ, সূরা ত্ব-হা mp3, সূরা ত্ব-হা pdf. আয়াত 85–89. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Monday, September 7, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








